
ঝিনাইদহে স্বতন্ত্র প্রার্থীর অফিসে হামলা ভাংচুর, আহত ৬
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬
ইউক্রেনে বাড়তে পারে গম উৎপাদন
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘সারা বাংলাদেশ জেগে উঠেছে। তরুণরা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি জানিয়ে দিয়েছে। পুরনো বন্দোবস্তের সঙ্গে তারা নেই। তারা বস্তাপচা রাজনীতি আর ফিরিয়ে আনতে চায় না। নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘সারা বাংলাদেশ জেগে উঠেছে। তরুণরা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি জানিয়ে দিয়েছে। পুরনো বন্দোবস্তের সঙ্গে তারা নেই। তারা বস্তাপচা রাজনীতি আর ফিরিয়ে আনতে চায় না। নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়।’
গতকাল সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাজধানীর মেরুল বাড্ডার ডিআইটি মাঠে ঢাকা-১১ আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণ বাংলাদেশের নতুন রাজনীতির উত্থান দেখতে চায়। তারা ১২ ফেব্রুয়ারি সেই রায় দেবে। জনগণ দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, দখলদার ও আধিপত্যবাদের গোলামদের লাল কার্ড দেখাবে।’
তিনি বলেন, ‘আবরার, ফাহাদ, আবু সাঈদ, হাদি—আমরা তোমাদের কাছে এবং তোমাদের বন্ধুদের কাছে বড়ই ঋণী। আমরা কথা দিচ্ছি, তোমাদের আকাঙ্ক্ষার নতুন বাংলাদেশ হলে, এ দেশ ও জনগণের সেবা করার সুযোগ পেলে তোমরা যেমনটা চেয়েছিলে, আমরা তেমনটাই যোগ্য এবং দীপ্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যুবকদের হাতে বাংলাদেশের দায়িত্ব দিতে চাই। আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না। ২৪-এর যুবকেরা কোথাও বেকার ভাতা চায়নি, বেকার ভাতার জন্য স্লোগানও দেয়নি। সেদিন যুবকরা বলেছিল, আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দাও, আমাদের কাজ দাও। বেকার ভাতার অর্থই হচ্ছে যুব সমাজকে অপমান করা।’
তিনি বলেন, ‘১০ টাকা চালের কেজির প্রতিশ্রুতি যেমন ভুয়া ছিল, তেমনি এ কার্ডগুলো (বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি) হবে সে রকম ভুয়া।’ এ রকম ভুয়া কার্ডের প্রতিশ্রুতিদাতাদের ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ লাল কার্ড দেখাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘৭১ দেখেছি আর ২৪ আমরা পেয়েছি। ৪৭-এ যে আকাঙ্ক্ষা ছিল হুবহু ৭১ সালেও সেই আকাঙ্ক্ষা ছিল। ২৪-এ সেই আকাঙ্ক্ষার বিস্ফোরণ ঘটেছিল। ৪৭-এর পরে ২৩ বছর আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। ৭১-এর পরে ৫২ বছরে সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। এখন ৫৪ বছর অতিক্রম হয়ে গেছে। ২৪-এ আমাদের যুবক ও ছাত্রসমাজ বিশাল কোনো দাবি নিয়ে আসেনি। তাদের একটি ন্যায্য ও সাধারণ দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল। সেটা হলো কোটা সংস্কারের আন্দোলন। কিন্তু অতীতের মতো ফ্যাসিবাদী কায়দায় যুব ও ছাত্রসমাজকে (তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী) দমানোর চেষ্টা করেছিল।’
তিনি বলেন, ‘আপনাদের স্মরণ থাকার কথা, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের কলিজার টুকরা মেয়েদের গায়ে যখন হাত তুলেছিল, সারা বাংলাদেশের মানুষ তখন জ্বলে উঠেছিল। তার পরদিন ১৬ জুলাই উত্তরবঙ্গের এক সিংহপুরুষ, আমাদের গর্ব, অহংকার; বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মেধাবী ছাত্র আবু সাঈদ রাস্তায় নেমে বলেছিল, হয় আমার অধিকার দে, না হয় আমাকে গুলি দে। সে ডানা পেতে বলেছিল, “বুকের ভিতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর”। রাস্তায় বীরের মতো দাঁড়িয়েছিল। এক এক করে তিনটি গুলি করে তাকে খুন করা হয়েছে। একটা গুলিও সে পিঠে নেয়নি, তিনটি গুলিই সে বুকে নিয়েছিল। আমরা তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। একই দিনে আরো পাঁচজন শাহাদতবরণ করেছেন।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আফসোস, আমরা যারা সাড়ে ১৫ বছর আওয়ামী জাহেলিয়াতের জাতাকলে পিষ্ট ছিলাম, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, আলেম-ওলামা, সাংবাদিক বন্ধুগণ, সুশীল সমাজের সদস্য, কৃষক-শ্রমিক যারাই ছিলাম—এর মধ্যে একটা অংশ রাতারাতি জালিমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। যেসব অপকর্ম করে আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় এ জাতিকে কষ্ট দিয়েছে, একই অপকর্ম একটি অংশ করা শুরু করেছে। আমরা বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করলাম, মজলুম ছিলেন, জালিম হবেন না। মজলুমের কথা তো বোঝার কথা, এখন মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন কেন? আমরা লক্ষ করলাম বেপরোয়াভাবে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মামলাবাজি শুরু হয়েছে। ৬ আগস্ট থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের আজ ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের জ্বালায় অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ফুটপাতে বসে ভিক্ষা করা মানুষের কাছ থেকেও চাঁদা আদায় হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের দাবি ছিল “উই ওয়ান্ট জাস্টিস”। আমরা ন্যায়বিচার দেখতে চাই এবং শান্তিতে থাকতে চাই। একটি দল মাঝেমধ্যে বলে, তারা ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। এটা ভালো কথা। এ ভালো কাজটা নিজের ঘর থেকে শুরু করুন। ঋণখেলাপি, ব্যাংক ডাকাতদের আশ্রয় দিয়ে আপনি কি দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়বেন? এটা আদৌ সম্ভব নয়। জনগণ এটা বোঝে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘৫ আগস্ট যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমাদের সন্তানেরা, ভাই-বোনেরা, শিশুরা রক্ত দিয়েছিল, ওই রক্তের ঋণ পরিশোধের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি। এ রক্তের সঙ্গে যারা বেইমানি করে, ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না। বাংলাদেশে অপকর্ম চলতে দেয়া হবে না। বিচার একেকজনের জন্য একেক রকম হবে না। সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে ওই নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য তার শাস্তি হবে, দেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী অপরাধ করলে তাদেরও ছাড় দেয়া হবে না। একইভাবে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে। সেদিনই ন্যায়বিচার কায়েম হবে।’
তিনি বলেন, ‘একটা কথা আল্লাহ তায়ালাকে সাক্ষী রেখে বলছি, মানুষের জীবন, সম্পদ ও ইজ্জত—এ তিনটির পাহারাদার হব। যারা এমপি হবে তারা প্রতি বছর তাদের পরিবারের সদস্যসহ পারিবারিক সম্পদের হিসাব জনগণের সামনে দিতে বাধ্য হবে। আমাদের দেশে আমাদের মা-বোনদের ইজ্জতের কোনো নিরাপত্তা নেই—ঘরে, রাস্তায় ও কর্মস্থলেও নেই। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। যে জাতি তার মায়েদের সম্মান করতে জানে, সেই জাতিকে আল্লাহ তায়ালা সম্মান বাড়িয়ে দেবেন। আর যে জাতি মা-বোন ও মেয়েদের সম্মান করতে জানে না, আল্লাহ তায়ালা তাদের কীভাবে সম্মানিত করবেন? আমরা মা-বোন ও মেয়েদের নিরাপত্তা এবং সম্মান নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।’
যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যুবক বন্ধুরা, তোমরা বাংলাদেশের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তৈরি হয়ে যাও। আমরা বিশ্বাস করি, যুবকরা বাংলাদেশকে সঠিক গন্তব্যে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বাংলাদেশের মানুষ মেধাবী ও পরিশ্রমী। অতীতের নেতৃত্বের মধ্যে সততার অভাব ছিল। তাদের মধ্যে দুর্নীতির হাত বন্ধ রাখার শপথ ছিল না। দেশের প্রতি দায় ছিল না। এজন্য বাংলাদেশ এগোয়নি। আমরা আশা করি যুবকরা আমাদের হতাশ করবে না।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘নাহিদ আপনাদের এলাকার সন্তান। আমার চেয়ে নাহিদকে আপনারা ভালো চেনেন। কিন্তু এটা বলতে চাই, ইনসাফের বাংলাদেশের পক্ষে, জনগণের রায়ে আল্লাহর মেহেরবানিতে যদি বিজয় অর্জিত হয়, তাহলে সরকারে অবশ্যই নাহিদ ইসলামকে একজন মন্ত্রী হিসেবে দেখতে পাবেন। আমরা হাতে হাত ধরে একসঙ্গে কাজ করব।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এ জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য পাঁচটি বছরই যথেষ্ট। যা বলব জান-প্রাণ দিয়ে সেটাই করার চেষ্টা করব। যেভাবে জুলাই এনে দিয়েছে আমাদের সহযোদ্ধারা জান-প্রাণ দিয়ে, সেভাবে আগামীর দায়িত্বও আমরা পালন করব জান-প্রাণ দিয়ে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আসুন, বেইনসাফমুক্ত, জুলুমবাজ, চাঁদাবাজ, দখলবাজ, মামলাবাজ ও আধিপত্যবাদমুক্ত একটি ন্যায় ও ইনসাফের মানবিক বাংলাদেশ গড়তে আমরা হাতে হাত, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাই।’
এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারাও সভায় বক্তব্য দেন।
নির্বাচিত হলে ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠন করবে জামায়াত: ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান, নির্বাচিত হলে দলীয় নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠন করবে জামায়াত।
গতকাল ঢাকা-১৫ আসন নিজের নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণার সময় জামায়াত আমির এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘কোনো বাধা মানুষকে ভোট দেয়া থেকে বিরত রাখতে পারবে না। জাতি কোনো হুমকিধামকি পরোয়া করে না, সব মোকাবেলা করে এগিয়ে যাবে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ পরিচালনা দেখতে চাই না। জাতিকে আর বিভক্ত দেখতে চাই না। জামায়াত কোনো দলীয় সরকার গঠন করবে না। সুযোগ পেলে ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠন করবে।’
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতপ্রধান বলেন, ‘সংস্কারকে হ্যাঁ বলার জন্য গণভোট। তরুণ সমাজের হাতে দেশের চাবি তুলে দিতে চাই। পরিবর্তনের পক্ষে জোয়ার শুরু হয়েছে।’


