দেশের শস্যভাণ্ডারে যুক্ত হলো আরো ছয় জাতের ধান
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬
নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে ২৭ হাজার নতুন মুখ
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬
দেশের শস্যভাণ্ডারে যুক্ত হলো আরো ছয় জাতের ধান
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬
নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে ২৭ হাজার নতুন মুখ
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬

গোপালগঞ্জ-১ আসন কারাবন্দি বাবার পক্ষে প্রচারণায় ছেলে

সহপাঠীরা যখন এসএসসি পরীক্ষার পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত, কিশোর খাইরুল আলম সায়াদ তখন বই-খাতা টেবিলে রেখে বাবার নির্বাচনী প্রচারণায় ছুটছে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।

সহপাঠীরা যখন এসএসসি পরীক্ষার পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত, কিশোর খাইরুল আলম সায়াদ তখন বই-খাতা টেবিলে রেখে বাবার নির্বাচনী প্রচারণায় ছুটছে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। গোপালগঞ্জ-১ আসনে (মুকসুদপুর-কাশিয়ানীর একাংশ) স্বতন্ত্র প্রার্থী কারাবন্দি আশ্রাফুল আলম শিমুলের পক্ষে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছে তার ছেলে।

আগামী ২১ এপ্রিল সায়াদের এসএসসি পরীক্ষা। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়েও সে বেছে নিয়েছে এক অসম লড়াই। তার বাবা আশ্রাফুল আলম শিমুলের নির্বাচনী প্রচারণার পুরো দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছে। ছুটছে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে মুকসুদপুর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘শিমুল কারাগারে রয়েছেন। কিন্তু তার আদর্শ ছেলের মধ্য দিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে। এটি কেবল ভোটযুদ্ধ নয়, এটি একজন পিতার সম্মানের জন্য সন্তানের আত্মত্যাগের সংগ্রাম।’

বাবার সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে খাইরুল আলম সায়াদ। সে বলে, ‘আমার বাবা রাজনীতির নামে কখনো ক্ষমতার দাপট দেখাননি। তিনি শিখিয়েছেন মানুষের পাশে দাঁড়াতে। আমার দাদা খায়রুল বাকী মিয়াও সারা জীবন মানুষের সেবা করেছেন। সেই আদর্শের টানেই আমি আজ রাজপথে। আমার বিশ্বাস, এ নির্বাচনে প্রতিটি ভোট হবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদ।’

সায়াদের ভাষ্যমতে, মামলা দিয়ে তারা বাবাকে নির্বাচনী মাঠ থেকে দূরে রাখা হয়েছে। এখন সাধারণ মানুষের ভালোবাসাই তার বাবার একমাত্র মুক্তির পথ।

সায়াদের এ লড়াকু মানসিকতা ছুঁয়ে গেছে নেটিজেনদেরও। ফেসবুক ও অন্যান্য প্লাটফর্মে তাকে নিয়ে বইছে প্রশংসার জোয়ার। হাসান ফরাজী নামে এক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘সায়াদের সাহসের মাঝে আমরা একটি সংগ্রামী পরিবারের গর্বিত উত্তরাধিকার দেখতে পাচ্ছি।’

সৌরভ মিয়া ও নাইমুল কবির পনির তাদের পোস্টে পাঠকদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনার একটি ভোটই হতে পারে একটি পরিবারের দীর্ঘশ্বাসের অবসান এবং একজন নিরপরাধ পিতার মুক্তির চাবিকাঠি।’

আশ্রাফুল আলম শিমুল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ২০০৯ সালে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ২০২২ সালে মুকসুদপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। এ পর্যন্ত তিনি যতগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, কোনোটিতেই পরাজিত হননি। শিমুলের জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে তার পারিবারিক ঐতিহ্যও। তার বাবা খায়রুল বাকী মিয়া ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

গত ৮ জানুয়ারি আশ্রাফুল আলম শিমুলকে শাহবাগ থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে রিয়াজ মোর্শেদ অপু হত্যা মামলায় তাকে ওইদিন গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়ে বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যাত্রাবাড়ী থানার এসআই হুমায়ুন কবীর।

তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনের শেষ দিন ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীর মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের কাছে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান অপু। ওই ঘটনায় তার খালা রুমা বেগম গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। গত বছরের ২২ অক্টোবর মামলা থেকে ১৬ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *