দুদিনে ২১ জেলায় ব্যালট পেপার পাঠাল নির্বাচন কমিশন
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬
অন্তর্বর্তী সরকারের ঋণগ্রহণ ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬
দুদিনে ২১ জেলায় ব্যালট পেপার পাঠাল নির্বাচন কমিশন
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬
অন্তর্বর্তী সরকারের ঋণগ্রহণ ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬

খুলনায় জনসভায় তারেক রহমান যারা নারীদের সম্মান দিতে পারে না তাদের কাছে মানুষ নিরাপদ নয়

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশের নারীসমাজকে যারা অসম্মান করে এবং কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালি দেয়, আর যা-ই হোক, তারা দেশদরদি বা জনদরদি হতে পারে না।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশের নারীসমাজকে যারা অসম্মান করে এবং কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালি দেয়, আর যা-ই হোক, তারা দেশদরদি বা জনদরদি হতে পারে না। একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে মা-বোনদের ঘরের মধ্যে বন্দি করতে চায়। তাদের কর্মসংস্থান নিয়ে কলঙ্কজনক মন্তব্য করে। যারা নিজেদের নারীদেরই সম্মান দিতে পারে না, তাদের কাছে দেশের মানুষ নিরাপদ নয়।’

গতকাল দুপুরে খুলনার খালিশপুরে প্রভাতী স্কুল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রায় ২১ বছর আগে খুলনায় এসেছিলেন তারেক রহমান। সর্বশেষ ২০০৫ সালের ২৩ মার্চ তিনি ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘একজন নেতা পরিষ্কারভাবে বলেছেন, তারা নারীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করেন না। কর্মজীবী মা-বোনদের নিয়ে তিনি যে শব্দ ব্যবহার করেছেন, তা এ সমাজের জন্য কলঙ্কস্বরূপ। বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প থেকে শুরু করে প্রতিটি পরিবারে নারীরা আজ কর্মমুখী। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এ সময়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। অথচ একটি দল তাদের অপমান করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তারা বলে ইসলাম কায়েম করবে, অথচ আমাদের নবী (সা.)-এর স্ত্রী বিবি খাদিজা (রা.) নিজেও একজন ব্যবসায়ী ও কর্মমুখী নারী ছিলেন। এ দলটির পূর্বসূরিরা ১৯৭১ সালেও মা-বোনদের অসম্মানিত করেছিল। এদের কাছে দেশের মানুষ বা নারীসমাজ কখনই নিরাপদ হতে পারে না।’

প্রতিপক্ষ দলের নেতার বিতর্কিত মন্তব্যের পর আইডি হ্যাক হওয়ার অজুহাতকে মিথ্যাচার হিসেবে অভিহিত করে তারেক রহমান বলেন, ‘তীব্র সমালোচনার মুখে তারা এখন বলছে আইডি হ্যাক হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি অসম্ভব। একটি রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতা নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে এভাবে মিথ্যা বলছেন। যারা অবলীলায় মিথ্যা বলে, তারা কখনই দেশের মঙ্গল করতে পারে না। তারা শুধু নিজেদের স্বার্থ বোঝে এবং ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে।’

নারীসমাজকে স্বাবলম্বী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি গৃহিণী ও মায়ের কাছে আমরা “‍ফ্যামিলি কার্ড” পৌঁছে দেব। এর মাধ্যমে নারীরা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন, কারো মুখাপেক্ষী তাদের হতে হবে না।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি সরকার নারীশিক্ষাকে অবৈতনিক করেছিল, যাতে এ বিশাল জনশক্তি আলোকিত হতে পারে। আমরা সেই ধারা বজায় রেখে দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই।’

বিগত ১৬ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিগত ১৫-১৬ বছর বাংলাদেশের মানুষ ভোটের অধিকার পায়নি। মনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে পারেনি। কেউ কথা বলতে চাইলে তাকে রাতের আঁধারে গুম বা খুন করা হয়েছে। বহু নেতাকর্মী গায়েবি মামলার শিকার হয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে মানুষ রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে।’

খুলনাকে মৃত শিল্পনগরী হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে শিল্পনগরীকে পুনরায় জীবিত করা হবে। এখানে তরুণদের জন্য আইটি পার্ক এবং নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এছাড়া খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ প্রবর্তনের ঘোষণাও দেন তিনি।

বক্তব্যের শেষে তিনি উপস্থিত জনতাকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যারা আপনাদের অপমান করে, তাদের জবাব দেয়ার সময় এসেছে। ১২ তারিখ ব্যালটের মাধ্যমে আপনারা নিজেদের অধিকার ফিরে পাবেন ইনশা আল্লাহ।’

বক্তব্যের মাঝেই তিনি খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের ১৪টি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।

এর আগে সকাল থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে খালিশপুরের প্রভাতী স্কুল মাঠে নেতাকর্মীরা সমবেত হন। কুরআন ও গীতাপাঠের মধ্য দিয়ে বেলা ১১টায় সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা।

যশোরের জনসভা: খুলনায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেয়ার পর বিএনপি চেয়ারম্যান যশোরে যান। যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। বেলা আড়াইটায় তিনি মঞ্চে ওঠেন। এ সময় তিনি স্লোগানমুখর নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। ৩৩ মিনিটের ভাষণে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন দেশপ্রেমিক ও দেশবিরোধীদের লড়াই। একটি দল ৫ আগস্টের পর থেকে মা-বোনদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে। তাদের ঘরে বন্দি করতে চাচ্ছে। তারা এনআইডি নাম্বার ও বিকাশ নাম্বার নিচ্ছে। অসৎ প্রস্তাব দিয়ে তারা কীভাবে সৎ লোকের শাসন কায়েম করবে।’

তিনি বলেন, ‘নারীদের শিক্ষিত করে তুলতে খালেদা জিয়া তাদের শিক্ষা ফ্রি করে দিয়েছিলেন, এবার খালেদা জিয়ার দল সরকার গঠন করতে পারলে মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে।’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিগত সরকারের মতো আমি-ডামি আর নিশিরাতের ভোট করে যেভাবে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছে একটি দল। ভোট গণনার নামে কেউ যদি কোনো সুযোগ নিতে চায়, তাদের প্রতিহত করা হবে।’

তারেক রহমান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খনন করা সেই উলাসী খালসহ এ অঞ্চলের খাল-বিল পুনঃখনন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে জিকে প্রকল্প পুনরায় চালু করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিম ও অন্য ধর্মের পুরোহিতদের রাষ্ট্র-সম্মানী দেয়া হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ব।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে যশোরের ফুল বিদেশে রফতানির উদ্যোগ নেয়া হবে। চাঙ্গা করা হবে এ অঞ্চলের চিনি শিল্পকে।’

জনসভায় বক্তৃতার মাঝে যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের সাত জেলার ২২টি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

জেলা বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে জনসভা সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন।

বকুলের বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজ: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান গতকাল দুপুরে খুলনা মহানগর বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুলের বাসভবনে যান। সেখানে তিনি বকুল ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘরোয়া পরিবেশে সময় কাটান এবং মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।

রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, ‘তারেক রহমানের এ সফর খুলনার মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা অবসানের সূচনা। এটি শুধু রাজনৈতিক সফর নয়, এটি খুলনার পুনর্জাগরণের বার্তা।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *