
কঙ্গোতে খনি ধসে লাশের মিছিল, নিহত ২ শতাধিক
জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে আলকারাজ ও জোকোভিচ
জানুয়ারি ৩১, ২০২৬বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে রংপুর অঞ্চলে কলকারখানা গড়ে তোলা হবে। এজন্য উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুবিধা দেয়া হবে।’
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে রংপুর অঞ্চলে কলকারখানা গড়ে তোলা হবে। এজন্য উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুবিধা দেয়া হবে।’
গতকাল রাতে রংপুর নগরীর ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব প্রতিশ্রুতি দেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘এতদিন জানতাম দিনাজপুরে কয়লার খনি আছে। আজকে এখানে এসে জানলাম আবু সাঈদের (জুলাই শহীদ) এলাকায় কয়লা খনি রয়েছে। এ কয়লা উত্তোলন করে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হওয়া সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘রংপুর হচ্ছে আবু সাঈদের রক্ত মেশানো পবিত্র মাটি। কাজেই এ ত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। আবু সাঈদসহ ১ হাজার ৪০০ ব্যক্তি শহীদ হয়েছেন। তাদের মূল্যায়ন করতে হবে। এজন্য মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘রংপুর গরিব অঞ্চল হলেও সম্ভাবনাময়। আমরা সরকার গঠন করতে পারলে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কলকারখানা গড়ে তোলা হবে। কলকারখানা গড়ে তুলতে উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুবিধা দেয়া হবে। রংপুর অঞ্চলের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা বলতে যা বোঝায় তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার যুদ্ধে বিরোধিতাকারীরা আবার নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।’ এজন্য তিনি সবাইকে সজাগ থাকতে বলেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘অধিকার ফেরানোর জন্য আবু সাঈদ নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে, চট্টগ্রামে ওয়াসিম নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে। এ রকম হাজারো মানুষ যারা নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে মানুষের ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। একে মূল্যায়ন করতে হলে আমরা যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি সেই জুলাই সনদকেও আমাদের সম্মান করতে হবে। সে জন্যই আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করব যে ধানের শীষে যেমন সিলটা দেবেন ১২ তারিখে, একই সঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে দয়া করে আপনারা রায় দেবেন।’
বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে ‘খারাপ হলে’ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন পাঁচ বছর জোটসঙ্গী হিসেবে ছিল, সেই প্রশ্ন তোলেন তারেক রহমান। জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘একটি দল আছে, যারা বিএনপির বিরুদ্ধে গত কয়েক দিন ধরে মিথ্যা বলে যাচ্ছে; আজও বলেছে। তাদের দুজন আমাদের সঙ্গে ছিল; ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত। আমার প্রশ্ন হলো, ভালো মানুষের সঙ্গেই তো ভালো মানুষ থাকে, নাকি? বিএনপি যদি খারাপ দলই হয়, তাহলে তারা পাঁচ বছর কেন সঙ্গে ছিল? হয় দলটির মাথা খারাপ হয়ে গেছে, নয়তো নিজেদের নেতৃত্ব সম্পর্কে তারা ভুল কথা বলছে।’
সমাবেশে যোগ দেয়ার আগে গতকাল সন্ধ্যায় পীরগঞ্জে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন তারেক রহমান। এরপর আবু সাঈদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। পথে পথে নেতাকর্মীদের ভিড় ডিঙিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে তার প্রায় পৌনে ২ ঘণ্টা লেগে যায়। তিনি মঞ্চে ওঠেন রাত সাড়ে ৮টায় ও বক্তব্য শুরু করেন পৌনে ৯টার দিকে।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যেসব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ রয়েছে, সেগুলো সুদসহ সরকার পরিশোধ করে দেবে। কৃষকদের এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে না।’
উত্তরাঞ্চলের সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার দুপুরে বগুড়া থেকে সড়কপথে রংপুর আসেন তারেক রহমান। তার আগমন উপলক্ষে দুপুর থেকে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেন। ছোট ছোট মিছিল নিয়ে আসা নেতাকর্মীদের হাতে দেখা যায় ধানের ছড়া ও প্রার্থীদের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড।
বিকাল সাড়ে ৪টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়।
সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ রংপুর বিভাগের বিভিন্ন আসনে ধানের শীষের প্রার্থীরা বক্তব্য দেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য দিনাজপুর-৬ আসনের প্রার্থী এজেডএম জাহিদ হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক লালমনিরহাট-৩ আসনের প্রার্থী আসাদুল হাবিব দুলু, রংপুর-১ আসনের মোকাররম হোসেন, রংপুর-২ আসনের মোহাম্মদ আলী সরকার, রংপুর-৩ আসনের সামসুজ্জামান সামু, রংপুর-৪ আসনের মোহাম্মদ এমদাদুল হক, রংপুর-৫ আসনের গোলাম রাব্বানী ও রংপুর-৬ আসনের সাইফুল ইসলাম।
এছাড়া কর্মী-সমর্থক নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী নওশাদ জমির, পঞ্চগড়-২ আসনের ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের আব্দুস ছালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের মো. জাহিদুর রহমান, দিনাজপুর-১ আসনের মনজুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-২ আসনের সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, দিনাজপুর-৩ আসনের সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৪ আসনের আক্তারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-৫ আসনের একেএম কামরুজ্জামান, নীলফামারী-১ আসনের মঞ্জুরুল ইসলাম আফ্রিদি (জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম), নীলফামারী-২ আসনের মো. সৈয়দ আলী, নীলফামারী-৩ আসনের শাহরিন, নীলফামারী-৪ আসনের আব্দুল গফুর সরকার, লালমনিরহাট-১ আসনের হাসান রাজিব প্রধান, লালমনিরহাট-২ আসনের রোকন উদ্দিন বাবুল, কুড়িগ্রাম-১ আসনের সাইফুল রহমান রানা, কুড়িগ্রাম-২ আসনের সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের তাজভীর উল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের আজিজুল ইসলাম, গাইবান্ধা-১ আসনের খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী, গাইবান্ধা-২ আসনের আনিসুজ্জামান খান বাবু, গাইবান্ধা-৩ আসনের সৈয়দ মঈনুল হাসান সাদিক, গাইবান্ধা-৪ আসনের মো. শামিম কায়সার লিঙ্কন ও গাইবান্ধা-৫ আসনের মো. ফারুক আলম সরকার।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামু। সঞ্চালনায় ছিলেন সদস্য সচিব মাহফুজ উন নবী ডন।
আবু সাঈদের কবর জিয়ারত: রংপুরে জনসভায় বক্তব্যের আগে জুলাই আন্দোলনে শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
গতকাল সন্ধ্যায় রংপুরের পীরগঞ্জের জাফরপাড়া বাবনপুর গ্রামে পৌঁছান তিনি। কবর জিয়ারতের পর আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ রংপুর জেলার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়ায় পথসভা: এদিকে রংপুরে যাওয়ার পথে গতকাল বেলা সোয়া ৩টার দিকে বগুড়ার মোকামতলা বন্দরে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মীর শাহে আলমের নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কারেক রহমান।
এ সময় তিনি বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখ নির্বাচন, এই বগুড়ার মাটি বিএনপির ঘাঁটি—এটা সারা বাংলাদেশ জানে। বগুড়ার মানুষ এবার প্রমাণ করে দেখাবে বগুড়ার মাটি শুধু বিএনপির ঘাঁটি নয়, বগুড়ার মাটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি।’
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান পথসভায় আরো বলেন, ‘এর আগে ধানের শীষ যতবার দেশ পরিচালনা করেছে, আমরা চেষ্টা করেছি আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে এলাকার উন্নয়ন করার জন্য। এখনো অনেক কাজ বাকি আছে।’
তারেক রহমান নিজেকে বগুড়ার সন্তান উল্লেখ করে আরো বলেন, ‘আমি আপনাদের সন্তান। মহান আল্লাহ সুযোগ দিলে দেশ ও দেশের মানুষের কাজে নিজেকে নিয়োজিত হতে পারি, এজন্য সবার দোয়া চাই।’
পথসভা মঞ্চে অন্যদের মধ্যে বগুড়া-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বগুড়া শহরের বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন তারেক রহমান। ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ তিনি মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। পরে বেলা ১টা ৫০ মিনিটে বগুড়া থেকে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন তারেক রহমান। পথিমধ্যে গাড়িবহর থেকে নেমে ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে হজরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সঙ্গে: বগুড়ার চার তারকা হোটেল নাজ গার্ডেনের বলরুমে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও কিশোরদের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ ও তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমানের পক্ষ থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও কিশোরদের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়। আর তারেক রহমানকে নিজেদের তৈরি হস্তশিল্পপণ্য উপহার দেয় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও কিশোররা। এছাড়া তারা ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ গানটি গেয়ে শোনায়।
এসব শিশু সিএসএফ গ্লোবাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় বৃত্তিমূলক নানা প্রশিক্ষণ নিয়েছে।
এ অনুষ্ঠানের আয়োজন ও সঞ্চালনা করেন সিএসএফ গ্লোবালের চেয়ারম্যান এমএ মুহিত।


