মেক্সিকোর ফুটবল মাঠে গুলিবর্ষণ, নিহত ১১
জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ সেমির আগেই বিদায় বাংলাদেশের
জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
মেক্সিকোর ফুটবল মাঠে গুলিবর্ষণ, নিহত ১১
জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ সেমির আগেই বিদায় বাংলাদেশের
জানুয়ারি ২৭, ২০২৬

জয়ের বিষয়ে আমি প্রচণ্ড আশাবাদী

আলহামদুলিল্লাহ। সাধ্যে যতটুকু কুলায় আমরা সর্বোচ্চ করছি। প্রচারণা চালাতে গিয়ে এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা বিষয়ে আমরা কোনো শঙ্কা দেখছি না। এ মুহূর্তে অন্য কোনো সমস্যাও দেখছি না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনে রিকশা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১০ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন মামুনুল হক। নির্বাচনী প্রচারণা, ভোট ব্যাংকসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনিকা মাহজাবিন

আপনার নির্বাচনী প্রচারণা কেমন চলছে?

আলহামদুলিল্লাহ। সাধ্যে যতটুকু কুলায় আমরা সর্বোচ্চ করছি। প্রচারণা চালাতে গিয়ে এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা বিষয়ে আমরা কোনো শঙ্কা দেখছি না। এ মুহূর্তে অন্য কোনো সমস্যাও দেখছি না।

আপনি তো জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১০ দলীয় জোটের পক্ষে নির্বাচন করছেন। সেক্ষেত্রে আপনার ভোটের প্রচারণায় জোটের সমর্থন কেমন পাচ্ছেন?

আমাদের নির্বাচনী ১০ দলীয় যে ঐক্য হয়েছে সেটা যথেষ্ট সর্বসম্মত। বিশেষ করে আমার আসনে ঐক্যটা আরো বেশি। আমাদের ১০ দলের তো ঐক্য আছেই, সেই সঙ্গে ১০ দল থেকে বেরিয়ে যাওয়া চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও এ আসনে আমাকে সমর্থন দিয়েছে। যে কারণে এ আসনে ইসলামী ভোট অথবা বিরোধী ভোট সবই একদিকে ঐক্যবদ্ধ। হিসাবটা সম্পূর্ণই এখন বিএনপি বনাম অন্যান্য হয়ে গেছে। মোহাম্মদপুরের বিএনপির মধ্যে অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে। যেমন স্থানীয় কোনো প্রতিনিধিকে এ আসনে বিএনপি কখনই মনোনয়ন দেয়নি এ পর্যন্ত। ফলে স্বাধীনতা-উত্তরকালে এটা নিয়ে এলাকার মানুষের বিএনপির প্রতি ক্ষোভ রয়েছে। এবারো এখানে স্থানীয় অনেক প্রার্থী ছিলেন যারা মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তারা কেউ মনোনয়ন না পাওয়ায় বিএনপির ভেতরেও এটা নিয়ে একটা ক্ষোভের বাস্তবতা আছে। যে জন্য জয়ের ব্যাপারে আমি প্রচণ্ড রকম আশাবাদী।

এ আসনে আপনার ভোট ব্যাংকের চিত্র কেমন?

সাধারণ ভোটারদের বাইরে এখানে তিনটি ভোট ব্যাংক আছে। একটা হলো গার্মেন্টস। গার্মেন্টসে কাজ করা নিম্নবিত্ত নারী-পুরুষদের অনেক বড় সংখ্যক ভোটার এখানে আছে। আমার অবস্থানগত জায়গাটাও গার্মেন্টসের কাছাকাছি। সে জায়গা থেকে তাদের একটা সিম্প্যাথি আমার দিকে থাকার কথা। দ্বিতীয়ত, ভোট ব্যাংকটা আছে অবাঙালি বা উর্দুভাষী একটা বিশাল জনগোষ্ঠীর। তাদের মধ্যে ধর্মচর্চার মাত্রাটা অন্যদের চেয়ে বেশি। তারা অনেকটাই ধর্মভীরু। মোহাম্মদপুর এলাকায় প্রায় সাতটা বিহারি ক্যাম্প আছে। এ ক্যাম্পের বাইরেও পুরো এলাকা জুড়েই অনেক বিহারি অধিবাসীদের এখানে বসবাস। অনেক বড় সংখ্যক একটা ভোটার। আমি আশা করছি যে আদর্শগতভাবে তারা আমার খুব কাছাকাছি। আমি তাদের খুব কাছাকাছি। সেই জায়গাটা থেকেও আমি তাদের সমর্থনপ্রত্যাশী। সর্বশেষ ভোট ব্যাংক হলো মসজিদ ও মাদ্রাসা। অনেকগুলো মাদ্রাসা আছে। যেগুলো সরাসরি আমরা ডিল করি। কাজেই এ মাদ্রাসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে ভোট ব্যাংকটা তারা শুধু আমার ভোটারই না, মূলত তারাই আমার ক্যাম্পেইন করছে। সুতরাং তিনটা ভোট ব্যাংক আমার পক্ষে আছে। এছাড়া যেহেতু আমি স্থানীয় সে হিসেবে স্থানীয় মানুষের জনসমর্থন আমাকে সুবিধা দিচ্ছে।

ভোটাররা আপনাকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে কেন প্রাধান্য দিচ্ছেন বা দেবেন বলে মনে করেন?

দুইটা কারণ রয়েছে আমাকে ভোট দেয়ার। এ এলাকার মানুষ বিশ্বাস করে যে সমাজকে কুক্ষিগত করে রাখা সন্ত্রাসী ও আধিপত্যবাদী শক্তির হাত থেকে মুক্তি পেতে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রয়োজন। আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বড় বড় শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে আমি সে আস্থা অর্জন করেছি। এলাকাবাসী মনে করে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করার মতো সাহস ও শক্তি আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। যা অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয়। তারা মনে করে এখানে মামুনুল হকের ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন। এছাড়া আমি এ এলাকারই সন্তান এবং স্থানীয় প্রতিনিধি। এলাকার মানুষের যেকোনো প্রয়োজনে আমাকে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পাশেই পাওয়া যাবে। আমাকে পাওয়ার জন্য মানুষকে অন্য এলাকায় যেতে হবে না। আমার আগমনের অপেক্ষায় প্রহর গুনতে হবে না। যা আমার ওপর মানুষের ভরসার অন্যতম বড় কারণ।

আপনি গার্মেন্টস শ্রমিকদের কথা বলছিলেন। গার্মেন্টসের নারী শ্রমিকসহ অন্য নারীদের ক্ষমতায়নের বিষয়ে আপনাদের চিন্তাভাবনা কী?

নিম্নবিত্ত নারীদের মূলত ক্ষমতায়নের চেয়েও বেশি প্রাধান্য হলো অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান। আমার বিভিন্ন প্রোগ্রামে এসব নারীর অনেক বেশি যাতায়াত রয়েছে। ধর্মীয়সহ অন্য যে প্রোগ্রামগুলো করি সেখানে ব্যাপকভাবে আমরা নারীদের যুক্ত করি। যে কারণে এসব শ্রেণীর নারীদের মধ্যে অনেক আগে থেকেই আমার জনপ্রিয়তা আছে। সে জায়গা থেকে গার্মেন্টস শ্রমিক অথবা কর্মজীবী নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য সবসময়ই আমরা ভয়েস রেইজ করি। এটা শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক না। সাধারণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ করে নারীদের সম্মান, তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আমার যে অবস্থান রয়েছে তাতে আমি মনে করি যে তাদের মধ্যে আমার প্রতি একটা বিশেষ আগ্রহ ও জনপ্রিয়তা কাজ করে।

নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার কথা বলছেন। এটি করার কী ধরনের পরিকল্পনা আছে?

এটা নিয়ে সেভাবে আমাদের কাজের জায়গা এ মুহূর্তে নেই। তবে এখানে অনেক গার্মেন্টস আছে। গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে আমরা একসঙ্গে বিভিন্ন রকম কার্যক্রম করি। বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করি। সে জায়গা থেকে এ কর্মজীবী নারীরা, তারপরে শ্রমিক নারীরা তারা যেন গার্মেন্টসগুলোতে আরো ভালোভাবে কাজ করতে পারেন, তাদের নিরাপত্তা যেন ভালো করে প্রতিষ্ঠিত হয় সেই জায়গা থেকে তাদের জন্য অনেক কাজ করার আছে। তাদের বেতন-ভাতা নিয়ে আমরা আগেও অনেক কাজ করেছি।

উর্দুভাষী ভোটারদের নিয়ে আপনার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে জানতে চাই।

উর্দুভাষীদের ক্যাম্পগুলোতে মানুষ বর্তমানে অমানবিক ও মানবেতর জীবনযাপন করছে। ছোট একটি কামরায় কয়েকজন মানুষ গাদাগাদি করে বাস করছে। তাদের প্রথম প্রয়োজন হলো সম্মানের সঙ্গে মাথা গোঁজার ঠাঁই বা উন্নত পুনর্বাসন। আর দীর্ঘমেয়াদি এ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলাকালীন বর্তমান অবস্থানেই তাদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার মতো নাগরিক সুবিধাগুলো নিশ্চিত করা আমার অগ্রাধিকার। এছাড়া এসব ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা অপরাধী চক্র ও মাদকের যে সাম্রাজ্য রয়েছে, তা গুঁড়িয়ে দিতে আমি জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল থাকব। আমি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী যে মোহাম্মদপুরকে মাদকের অভিশাপমুক্ত করার জন্য যে সাহস ও শক্তির প্রয়োজন তা আমার মধ্যে রয়েছে এবং ইনশা আল্লাহ আমি এ মিশনে সফল হব।

এ এলাকায় একসময় জাহাঙ্গীর কবির নানকের আধিপত্য ছিল। আওয়ামী লীগের ভোটারদের আপনি আশ্বস্ত করতে পেরেছেন?

৫ আগস্টের আগে-পরে আমাদের মাধ্যমে কোনো দলেরই নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার হয়নি, তাদের সে ভীতিও নেই। বরং তারা আমাদের নিরাপদ জায়গা মনে করে। তারা মনে করে আমরা কাউকে অযথা হয়রানি করব না। হয়রানি করার মানসিকতা আমার নেই। সে জায়গাটা থেকে আমি মনে করি যে তারাও আমার ওপর আস্থা রাখছে।

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হওয়ার কোনো আশঙ্কা দেখছেন?

নির্বাচন ঘিরে অতীতে আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমরা দেখেছি প্রতিবারই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নিত্যনতুন ছক আঁকা হয়। কখনো বিনা ভোটের নির্বাচন, কখনো মধ্যরাতের ভোট, আবার কখনো ডামি প্রার্থী দিয়ে সাজানো নির্বাচনের নাটক। এবারো পর্দার আড়ালে নতুন কোনো ষড়যন্ত্র বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নীলনকশা হচ্ছে কিনা, আগাম বলা যাচ্ছে না।

এমন কোনো পরিস্থিতির আভাস পেলে নির্বাচন কি আপনারা বয়কট করবেন?

এবার পরিস্থিতির ভিন্নতা রয়েছে। সাধারণ জনগণ তাদের ভোটাধিকার রক্ষায় অত্যন্ত সতর্ক ও সোচ্চার। জনগণের ভোট যাতে কেউ মাইনাস করতে না পারে বা অন্যদিকে ডাইভার্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। আমরা সর্বাত্মক সতর্ক থাকছি যাতে ভোটারদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে। নির্বাচন বর্জন বা বয়কট করার মতো কোনো সিদ্ধান্ত এ মুহূর্তে আমাদের নেই। বরং আমরা আশাবাদী যে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সব ধরনের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারব। একটি সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সক্ষম হব ইনশা আল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *