
খননের দেড় বছরেই ভরাট হয়ে গেছে বরিশাল নগরের সাত খাল
জানুয়ারি ২৫, ২০২৬
চট্টগ্রামে তারেক রহমানের সমাবেশ, পলোগ্রাউন্ডে নেতাকর্মীদের ঢল
জানুয়ারি ২৫, ২০২৬চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশী কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়া বর্তমানে আইনি জটিলতায় রয়েছে। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের এবং রায়ে দ্বিধাবিভক্ত মত থাকায় পুরো বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তিহীন।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশী কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়া বর্তমানে আইনি জটিলতায় রয়েছে। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের এবং রায়ে দ্বিধাবিভক্ত মত থাকায় পুরো বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তিহীন। এর মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় এ টার্মিনাল হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি গুছিয়ে আনতে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের নথি অনুযায়ী, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কনসেশন চুক্তি সম্পাদনের দিন ধার্য করা হয়েছে।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, কনসেশন চুক্তির লক্ষ্যে মাত্র ১২ দিনের মধ্যে দরপত্র সংশোধন, টেকনিক্যাল ও ফাইন্যান্সিয়াল ইভ্যালুয়েশন, নেগোসিয়েশন, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং একাধিক সরকারি সংস্থার অনুমোদনসহ পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘একাধিক কারণ মিলিয়েই এনসিটি বিদেশী অপারেটরের হাতে তুলে দেয়ার প্রক্রিয়াটি ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার যে প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করে এগোচ্ছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি এখন আদালতে বিচারাধীন। ফলে এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কার্যত আদালত অবমাননার শামিল। দ্বিতীয়ত, অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এবং অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে এনসিটির কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। এর আগে লালদিয়া টার্মিনালের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিজ্ঞতা আমরা দেখেছি। সে সময় তড়িঘড়ি করে চুক্তি সম্পাদনের ফলে নানা ধরনের বড় অসংগতি থেকে গিয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘এনসিটি এমন একটি প্রকল্প, যা রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে এবং কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের বড় ও সংবেদনশীল প্রকল্প যদি একইভাবে তড়িঘড়ি ও গোপনীয়তার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়, তাহলে সেটিকে স্বাভাবিকভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। আমি একে প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন বলেই মনে করি। এটি এমন কোনো বিষয় নয় যে তিন সপ্তাহের মধ্যে না করলে পরবর্তী সময়ে আর করা যাবে না। বর্তমান সরকার নির্বাচনকালীন সরকার। এই যে তড়িঘড়ি করে, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে, এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, যারা এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত, এনসিটি নিয়ে তাদের নিজেদের কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় আছে কিনা। আরো স্পষ্ট করে বললে, কোনো ধরনের সুবিধা আদায়ের বিষয় আছে কিনা, সেই প্রশ্ন ওঠা খুবই স্বাভাবিক। আমি মনে করি এত গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত প্রকল্পের বিষয়ে নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। জনরায়ের ভিত্তিতে গঠিত সরকারই এমন কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে সেটাই হবে যথাযথ ও গ্রহণযোগ্য পথ।’
বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশোধিত টাইমলাইন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ প্রায় প্রতিটি ধাপের জন্য রাখা হয়েছে মাত্র একদিন করে সময়। গত ২০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের (পিপিপিএ) সঙ্গে সমন্বয় করে মূল দরপত্রে পরিবর্তন এনে সংশোধিত শর্তে পুরো প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সংশোধিত শর্ত পাওয়ার মাত্র চারদিনের মাথায় গতকাল দরপত্র জমা দেয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়।
টাইমলাইন অনুযায়ী, আজ একদিনেই টেকনিক্যাল বিডের পাশাপাশি আইনি নথিসহ পূর্ণাঙ্গ টেকনিক্যাল এনভেলপ মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে। সাধারণত এ ধরনের বড় প্রকল্পে অপারেশনাল সক্ষমতা, বিনিয়োগ পরিকল্পনা, ঝুঁকি বণ্টন এবং আইনি কাঠামো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে মাত্র একদিনের টেকনিক্যাল ইভ্যালুয়েশনকে অস্বাভাবিক বলছেন বন্দর খাতের একাধিক বিশেষজ্ঞ।
সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, আগামীকাল ফাইন্যান্সিয়াল বিড ইভ্যালুয়েশন সম্পন্ন করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ রাজস্ব ভাগাভাগি, ট্যারিফ কাঠামো, বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি এবং সরকারের সম্ভাব্য আর্থিক লাভ-ক্ষতি বিশ্লেষণের জন্যও রাখা হয়েছে মাত্র একদিন। এরপর ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি দুই দিনে ফাইন্যান্সিয়াল মডেল ও কনসেশন এগ্রিমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো নিয়ে নেগোসিয়েশন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে সিপিএ বোর্ড থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন নেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। নথিতে উল্লেখ আছে, এই নেগোসিয়েশনে সিপিএ, আইএফসি এবং নির্বাচিত অপারেটরের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
নেগোসিয়েশন শেষ হওয়ার পরদিনই, ২৯ জানুয়ারি, চুক্তির সারসংক্ষেপ ও খসড়া আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি একই দিনে আইডিআরএ, এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩০ জানুয়ারি একদিনেই আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মতামত বা সম্মতি পাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে টাইমলাইনে। সাধারণত যেখানে একাধিক সংস্থার মতামত পেতে সপ্তাহ লেগে যায়, সেখানে একদিনেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
টাইমলাইন অনুযায়ী, ৩১ জানুয়ারি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে (সিসিইএ) চুক্তির সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হবে। সবশেষে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি একই দিনে সিসিইএ অনুমোদন, লেটার অব অ্যাওয়ার্ড ইস্যু এবং কনসেশন এগ্রিমেন্টে স্বাক্ষরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক পর্ষদ সদস্য (পরিকল্পনা ও প্রশাসন) মো. জাফর আলম এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বন্দরে আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটর যুক্ত করার বিষয়টি বিশ্বজুড়েই একটি স্বীকৃত ও প্রচলিত চর্চা। এ ক্ষেত্রে যে আইনগত জটিলতার কথা বলা হচ্ছে, সেটি সরকারই সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবে। অন্তর্বর্তী সরকার সম্ভবত এ বিষয়টি অনুধাবন করছে যে তারা যদি এখন বন্দরে আন্তর্জাতিক অপারেটর যুক্ত না করে, তাহলে পরবর্তী সরকার বিভিন্ন কারণে এ উদ্যোগটি এগিয়ে না-ও নিতে পারে।’
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বন্দরসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের মতে, এনসিটি হস্তান্তরসংক্রান্ত বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের অস্বাভাবিক দ্রুতগতির সময়সূচি নির্ধারণ বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক এ টার্মিনালকে ঘিরে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে জনমনে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করবে। বিশেষ করে টেকনিক্যাল ও ফাইন্যান্সিয়াল ইভ্যালুয়েশনের জন্য মাত্র একদিন করে সময় নির্ধারণ এবং ছুটির দিনসহ টানা সাতদিনের মধ্যে সব ধরনের সরকারি সিদ্ধান্ত সম্পন্ন করার পরিকল্পনা পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, পুরো প্রক্রিয়াটি এতটাই গোপনীয়ভাবে করা হচ্ছে যে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশী বেসরকারি অপারেটরের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়ার নথি যাচাই ও পর্যালোচনার জন্য সম্প্রতি একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছিল নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়। তবে কমিটি গঠনের কিছুদিনের মধ্যেই ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের চাপের মুখে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সেই কমিটি বাতিল করতে বাধ্য হয়।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নাহিদা আক্তার স্বাক্ষরিত (স্মারক নম্বর : ১৮.০০.০০০০০৩৮.০৭.০০১.২৩-০১) জারি করা অফিস আদেশ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অব সিপিএস নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইনক্লুডিং ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) বাই প্রাইভেট টার্মিনাল অপারেটর আন্ডার পিপিপি’ প্রকল্পের আওতায় প্রস্তুত করা আরএফপি ডকুমেন্ট, কনসেশন এগ্রিমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নথি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটিতে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান। সদস্য হিসেবে রাখা হয় মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, উপসচিব (ডব্লিউ অ্যান্ড আই), উপসচিব (পরিকল্পনা) এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্যকে (হারবার ও মেরিন)। কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিবকে।
এ কমিটির কার্যপরিধি অনুযায়ী, এনসিটি প্রকল্পের আওতায় প্রস্তুত করা আরএফপি ডকুমেন্ট, কনসেশন এগ্রিমেন্ট ডকুমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেয়ার কথা ছিল। প্রয়োজনে কমিটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে বলেও উল্লেখ ছিল আদেশে। তবে কমিটি গঠনের পরপরই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় যে এ কমিটি আর কার্যকর থাকবে না। বন্দর ও মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঊর্ধ্বতন মহলের চাপেই বন্দর কর্তৃপক্ষ কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে এনসিটি পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্পে নথি যাচাইয়ের জন্য গঠিত আনুষ্ঠানিক কমিটিটি কার্যত কোনো কাজই করতে পারেনি। যদিও বিদেশী অপারেটরের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কনসেশন চুক্তির ক্ষেত্রে আরএফপি ও কনসেশন এগ্রিমেন্টের নথি যাচাই একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
বিষয়টি বিচারাধীন এবং রায় দ্বিধাবিভক্ত থাকা সত্ত্বেও এনসিটির চুক্তি প্রক্রিয়া কীভাবে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিষয়টি বিচারাধীন হওয়ায় এ বিষয়ে মন্তব্য করা আমার জন্য সমীচীন হবে না।’
এছাড়া এনসিটি পরিচালনায় বিদেশী বেসরকারি অপারেটরের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়ার নথি যাচাই ও পর্যালোচনার জন্য সম্প্রতি একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হলেও পরে তা কেন বাতিল করা হলো, এ বিষয়ে মন্তব্য করতেও তিনি রাজি হননি।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশী প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে গত বছর একটি রিট দায়ের করেন বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন। পিপিপি আইন ও নীতি লঙ্ঘন করে এনসিটি পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিদেশী কোম্পানির চলমান চুক্তি প্রক্রিয়া আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা কেন করা হবে না রিটে সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। আরো উল্লেখ করা হয়, যেকোনো অপারেটরকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতি অনুযায়ী ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক পাবলিক বিডিং (দরপত্র আহ্বান) কেন নিশ্চিত করা হবে না। এ মামলার বিষয়ে কয়েক দফা শুনানি শেষে হাইকোর্ট গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বিভক্ত রায় প্রদান করেন, যেটা এখনো বিচারাধীন।
পিপিপি কাঠামোর আওতায় বর্তমানে চালু থাকা এনসিটিতে জিটুজি ভিত্তিতে বিদেশী অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। পিপিপি আইনের ২০১৫ সংস্করণে জিটুজি প্রকল্পের বিধান ছিল না। ২০১৭ সালে এ-সংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন করা হয় এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালে আইন সংশোধন করা হলে বিদেশী অপারেটর নিয়োগের পথ আরো সুগম হয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের করা এ সংশোধিত আইনের ভিত্তিতেই বিদেশী অপারেটর নিয়োগের কাজ এগোচ্ছে।


