দড়ি ছাড়াই তাইপেই ১০১ জয় করলেন অ্যালেক্স হনল্ড
জানুয়ারি ২৫, ২০২৬
বগুড়ার জনসভায় জামায়াত আমির ক্ষমতায় গেলে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করা হবে
জানুয়ারি ২৫, ২০২৬
দড়ি ছাড়াই তাইপেই ১০১ জয় করলেন অ্যালেক্স হনল্ড
জানুয়ারি ২৫, ২০২৬
বগুড়ার জনসভায় জামায়াত আমির ক্ষমতায় গেলে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করা হবে
জানুয়ারি ২৫, ২০২৬

ঊর্ধ্বমুখী এশিয়া-প্যাসিফিকের অধিকাংশ শেয়ার সূচক

গ্রিনল্যান্ড ইস্যু নিয়ে তৈরি বাণিজ্য বিরোধ ও শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তার মাঝেও সাপ্তাহিক লেনদেনের শেষ কার্যদিবসে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজারের অধিকাংশ সূচক ছিল ঊর্ধ্বমুখী।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যু নিয়ে তৈরি বাণিজ্য বিরোধ ও শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তার মাঝেও সাপ্তাহিক লেনদেনের শেষ কার্যদিবসে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজারের অধিকাংশ সূচক ছিল ঊর্ধ্বমুখী। গত সপ্তাহের শুরুতে কয়েক দিনের দরপতনের পর শুক্রবার সূচকগুলো ঊর্ধ্বমুখী ধারায় স্থির হয়। জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তের পর এ অঞ্চলের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর প্রস্তাবিত শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আভাস এশিয়ার রফতানি খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা নিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। এর প্রভাব পড়েছে অঞ্চলটির পুঁজিবাজারে। খবর এপি।

ব্যাংক অব জাপান গত শুক্রবার সুদহার দশমিক ৭৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে গত ডিসেম্বরে সুদহার বাড়িয়ে ঋণদান কর্মসূচি কিছুটা কঠোর করেছিল ব্যাংকটি। এটি বর্তমানে দেশটির ভবিষ্যৎ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন কিছুটা বাড়িয়েছে, যা বাজারের স্থিতিশীলতায় সহায়তা করেছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে টোকিও শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক নিক্কেই ২২৫ শুক্রবার দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৫৩ হাজার ৮৪৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

লন্ডনভিত্তিক অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতির চাপ বজায় থাকায় আগামী কয়েক মাসে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধীরে ধীরে সুদহার বাড়াতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ার সূচক কসপি শুক্রবার প্রথমবার পাঁচ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করেছে। লেনদেন শেষে সূচকটি দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৯৯০ পয়েন্টে স্থির হয়। মূলত প্রযুক্তি খাতের ওপর ভর করেই সিউলের শেয়ারবাজার এ অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ কারণে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে বিনিয়োগ আস্থা বেড়েছে।

চীনের মূল ভূখণ্ডের পাশাপাশি হংকংয়ের পুঁজিবাজার শুক্রবার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ২৬ হাজার ৭২০ পয়েন্টে পৌঁছেছে। একই সময়ে চীনের সাংহাই কম্পোজিট সূচক দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যান্য শেয়ার সূচকের মধ্যে তাইওয়ানের তাইএক্স সূচক এদিন দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার এসঅ্যান্ডপি/এএসএক্স ২০০ সূচক দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। তবে এ অঞ্চলের অধিকাংশ শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও ভারতের সেনসেক্স সূচকে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এদিন সূচকটি দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।

এশিয়ায় উত্থান হলেও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের শেয়ারবাজারের চিত্র ছিল মিশ্র। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটে শুক্রবার লেনদেন হয়েছে অনেকটা মন্থর গতিতে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক দশমিক ১ শতাংশের কম বাড়লেও ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ২৮৫ পয়েন্ট বা দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। প্রযুক্তি খাতের চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইন্টেলের শেয়ারদর ১৭ শতাংশ কমায় মার্কিন শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোর সূচকও ছিল মিশ্র। জার্মানির ডিএএক্স সূচক দশমিক ১৮ শতাংশ বাড়লেও ফ্রান্সের সিএসি ৪০ এবং ব্রিটেনের এফটিএসই ১০০ সূচক দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ কমেছে।

চলতি বছর শুরু থেকেই মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত মঙ্গলবার ডেনমার্কসহ আটটি দেশের পণ্যে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর প্রভাবে এশিয়া ও ইউরোপের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়। তবে হোয়াইট হাউজ গত শুক্রবার একটি চুক্তির কাঠামোর কথা জানানোর পাশাপাশি শুল্ক স্থগিতের আভাস দেয়ায় এশিয়ার রফতানিকারকদের দুশ্চিন্তা কিছুটা কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়া-প্যাসিফিকের বাজারগুলোয় এখন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) আগামী সপ্তাহের সভার ফলাফলের অপেক্ষায় আছেন বিনিয়োগকারীরা। তারা ধারণা করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হবে। মার্কিন ভোক্তা জরিপে মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা ৪ শতাংশে নেমে আসা ফেডের সিদ্ধান্তের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি পুরোপুরি না কমলেও এশিয়া-প্যাসিফিকের রফতানি নির্ভরশীল অর্থনীতির জন্য আগামী কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *