দুই দিনে চার আক্রমণ, হাঙর আতঙ্কে অস্ট্রেলিয়ায় বন্ধ ডজনখানেক সৈকত
জানুয়ারি ২১, ২০২৬
যশোরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে হামলাকারী নিহত
জানুয়ারি ২১, ২০২৬
দুই দিনে চার আক্রমণ, হাঙর আতঙ্কে অস্ট্রেলিয়ায় বন্ধ ডজনখানেক সৈকত
জানুয়ারি ২১, ২০২৬
যশোরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে হামলাকারী নিহত
জানুয়ারি ২১, ২০২৬

ছয় বিষয়ে গুরুত্ব আগামীর বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরল জামায়াতে ইসলামী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে তার নীতিগত রূপরেখা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে তার নীতিগত রূপরেখা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, আগামী তিন বছর সব শিল্পে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির চার্জ না বাড়ানো, গ্র্যাজুয়েশন শেষে চাকরি পাওয়া পর্যন্ত সময়ে পাঁচ লাখ গ্র্যাজুয়েটকে বিনাসুদে মাসিক ঋণ প্রদান, ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি ও পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, নারীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, এক কোটি তরুণকে বাজারভিত্তিক দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেয়ার মতো নানা বিষয় এ রূপরেখায় ‍উঠে এসেছে।

গতকাল রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘পলিসি সামিট ২০২৬’-এ এই রূপরেখা তুলে ধরেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। সুশাসন, অর্থনীতি, তরুণদের কর্মসংস্থান, নারী অধিকার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—এ ছয় বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে এ সামিটের আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

জামায়াত আমির বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ হবে ইনসাফ ও মর্যাদার। যেখানে থাকবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি। দেশের স্বার্থে সংস্কার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার শর্তে আগামীর রাজনৈতিক অগ্রযাত্রায় যেকোনো দলের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচন কেবল একটি রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের দেশের শাসন ব্যবস্থার নতুন দিশা নির্ধারণের এক সন্ধিক্ষণ। বাংলাদেশ আজ এমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে মূল চ্যালেঞ্জ কেবল টিকে থাকা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।’

দুর্নীতি নির্মূল, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও উন্নত শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশবাসীর কাছে আমাদের অঙ্গীকার হলো আমরা এমন যেকোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করব, যারা তিনটি মৌলিক নীতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন—দুর্নীতি নির্মূল, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং এমন একটি শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকর সংস্কার এগিয়ে নেয়া, যা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ গর্ব করতে পারে এবং যা নিরলসভাবে জনগণের সেবায় কাজ করে যাবে।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশ এমন একটি আধুনিক বাজার অর্থনীতি হিসেবে গড়ে উঠুক, যা সামাজিক ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী এবং যেখানে কোনো নাগরিকই পিছিয়ে থাকবে না। আমরা এমন একটি দেশ চাই, যা জাতীয় সার্বভৌমত্বকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেয় এবং একই সঙ্গে একটি দায়িত্বশীল ও সক্রিয় আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক অংশীদার রাষ্ট্র হিসেবে ভূমিকা রাখে। আমরা এমন একটি জাতি হতে চাই, যা প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে তার অদম্য অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কেন্দ্রে রাখে এবং এমন একটি আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে বিশ্বাস করে যেখানে মূল্যবোধ ও নীতিবোধ আজও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন বাংলাদেশ পুনর্গঠন করতে চাই, যা ছিল আমাদের দেশ প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি। আমার দল দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, কেবল গণতন্ত্র এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমেই আমরা দেশ হিসেবে এগিয়ে যেতে পারি।’

ছয়টি সেশনে দিনব্যাপী এ সামিট অনুষ্ঠিত হয়। ‘সুশাসন ও প্রশাসনিক সংস্কার’ বিষয়ক সেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উন্নয়ন ও নীতি বিশেষজ্ঞ দেওয়ান এএইচ আলমগীর। উপস্থাপিত প্রবন্ধে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে আগামীর মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রথমেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করতে হবে।’

প্যানেল আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘মূল বিষয়টি হলো সুশাসন। আমরা সবাই জানি যে সুশাসনের জন্য আমাদের ভালো মানুষের প্রয়োজন এবং আমাদের দেশে প্রধান বাধা হলো দুর্নীতি। তাই সুশাসনের জন্য আমাদের অবশ্যই এমন একটি সমাজ এবং এমন কিছু ব্যক্তি প্রয়োজন যারা দুর্নীতিমুক্ত হবে। সুশাসনের জন্য আমাদের একটি অত্যন্ত ভালো ব্যবস্থা প্রয়োজন, যা সমতা নিশ্চিত করবে এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের—নারী ও পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধ বা সকল পেশার মানুষের অধিকার নিশ্চিত করবে।’

অর্থনীতি, ব্যবসা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত সেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম। এতে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি, প্রযুক্তি এবং ব্যাংক খাতের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। এ সেশনে বলা হয়, ট্যাক্স ও ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) বর্তমান হার থেকে ক্রমান্বয়ে কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ট্যাক্স ১৯ শতাংশ ও ভ্যাট ১০ শতাংশে নিয়ে আসার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি শিল্প খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আগামী তিন বছর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দাম বাড়ানো হবে না। ব্যবসাবান্ধব পলিসি তৈরির মাধ্যমে বন্ধ কলকারখানা চালু এবং ১০ শতাংশ মালিকানা শ্রমিকদের প্রদান করা হবে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনতে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে দেয়া হবে ‘স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড, যেখানে একজন নাগরিকের এনআইডি, টিআইএন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সব সেবা একটি মাত্র কার্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।’

এ সেশনে প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমাদের সামনে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাগুলো আমাদের আরো শক্তিশালী করেছে। আজকের এ সংলাপ নিশ্চিত করে যে বাংলাদেশের প্রয়োজন একটি ন্যায়সংগত, স্বচ্ছ এবং বেসরকারি খাতচালিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা পুনরুদ্ধার করবে। এখানে শেয়ার করা ধারণাগুলো আমাদের অর্থনৈতিক রোডম্যাপের পরিমার্জন এবং বাস্তবায়নে সরাসরি ভূমিকা রাখবে। ঐক্য, সততা এবং যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী যে বাংলাদেশ ন্যায়বিচার, সুযোগ এবং অংশীদারত্বমূলক সমৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে একটি শক্তিশালী অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।’

‘ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা: পরিবর্তনের জন্য নীতিমালা’ শীর্ষক আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের সোয়ানসি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোকাররম হোসেন। প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি উল্লেখ করেন, গ্র্যাজুয়েশন শেষে চাকরি পাওয়া পর্যন্ত সময়ে পাঁচ লাখ গ্র্যাজুয়েটকে সর্বোচ্চ দুই বছর মেয়াদি মাসিক সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ দেয়া হবে। মেধা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে এক লাখ শিক্ষার্থীর জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত শিক্ষা ঋণ দেয়া হবে। এছাড়া প্রতি বছর বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য ১০০ শিক্ষার্থীকে সুদমুক্ত শিক্ষা ঋণ প্রদান করা হবে। যার ফলে গরিব মেধাবীরাও যেন হার্ভার্ড, এমআইটি, অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারে। এ সময় জানানো হয়, ইডেন, বদরুন্নেসা ও হোম ইকোনমিকস কলেজকে একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বড় কলেজগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে সব নিয়োগ হবে যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে।

‘স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনা: রূপান্তরের জন্য নীতিমালা’ সেশনে প্যানেল আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সম্পাদক ডা. হাসান আল বান্না। তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ পরিকল্পনায় ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ এবং পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে এবং আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে দেশের ৬৪টি জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা দেয়া হয়। বিশেষ করে একটি সুস্থ-সবল আগামী প্রজন্ম গড়ে তুলতে অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য ‘ফার্স্ট থাউজ্যান্ড ডেজ প্রোগ্রাম’ চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে, যা গর্ভধারণ থেকে শুরু করে শিশুর দুই বছর বয়স পর্যন্ত মা ও শিশুর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টির নিরাপত্তাকে সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের আওতায় নিয়ে আসবে।

‘তরুণদের কর্মসংস্থান’ বিষয়ক সেশনে সেন্ট্রালাইজড সাপোর্ট টু দ্য ইএনএফপিএস নেটওয়ার্কের রিজিওনাল ম্যানেজার ফর এশিয়া ড. আশিকুর রহমান তার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় বলেন, ‘বাংলাদেশের বিশাল তরুণ প্রজন্ম জেন-জি ও আলফাদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলায় হবে আগামীর মূল লক্ষ্য। তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে একটি বিশেষায়িত ‘জব প্লেসমেন্ট ও দক্ষ জনশক্তি মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয়া হয়। এ পরিকল্পনার আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি তরুণকে বৈশ্বিক বাজারের চাহিদানুযায়ী পেশাদার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। উচ্চশিক্ষিত যুবকদের কারিগরি উৎকর্ষ সাধনে প্রতিটি উপজেলায় ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ স্থাপন করা হবে এবং জেলা পর্যায়ে ‘জেলা জব ইয়ুথ ব্যাংক’ গঠনের মাধ্যমে ৫০ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া প্রযুক্তিভিত্তিক অর্থনীতি গড়তে ১৫ লাখ ফ্রিল্যান্সার তৈরি এবং নারী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে পাঁচ লাখ নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা হবে, যাতে সমাজের প্রতিটি স্তরের তরুণ দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে সরাসরি অবদান রাখতে পারে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ‘আইসিটি ও ভিশন ২০৪০’ পরিকল্পনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতকে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ মহাপরিকল্পনার আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ লাখ আইসিটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল পণ্য রফতানি সহজ করতে একটি ‘ন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে’ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আইসিটি খাত থেকে ৫০০ কোটি ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে সরকারি কাজে প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে ১৫০ কোটি ডলার ব্যয় সাশ্রয় করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। যা বাংলাদেশকে একটি শ্রমনির্ভর দেশ থেকে জ্ঞানভিত্তিক উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করবে।

‘সমতা বাস্তবায়ন: নারী ও অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রম’ সংক্রান্ত সেশনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক প্রকৌশলী মারদিয়া মুমতাজ। এতে জানানো হয়, নতুন বাংলাদেশ গঠন করতে নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ নারী আনুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে যুক্ত, যা দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম উচ্চহার। এ হার আরো দ্রুত বাড়ানো প্রয়োজন। এজন্য কন্যাশিশু ও তরুণীদের প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

রেমিট্যান্স বিষয়ে সম্মেলনে জানানো হয়, এ খাতে দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে পাঁচ-সাত বছরের মধ্যে রেমিট্যান্স আয় দুই থেকে তিন গুণ বৃদ্ধি করা হবে। অর্থনৈতিক রেমিট্যান্সের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশী প্রফেশনাল, গবেষক, শিক্ষকদের দেশে নিয়ে আসা হবে ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’ হিসেবে।

সমাপনী বক্তব্যে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের আশা জেগেছে আমরা সবাই মিলে আগামীতে নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারব। বাংলাদেশ ভালো না থাকলে আমরা কেউ ভালো থাকব না।’ যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি। তোমরা স্বৈরাচার সরিয়েছো, কিন্তু স্বৈরাচারী মানসিকতা এখনো সরেনি। আরেকবার লড়তে হবে।’

পলিসি সামিটে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তান, কসোভো, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা, ব্রুনাই, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, ডেনমার্ক, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, ইরান, কানাডা, ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, লিবিয়া, আলজেরিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ কোরিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, স্পেন, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশ এবং জাতিসংঘ, ইউএনডিপি, আইআরআইসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনীতিবিদরা উপস্থিত ছিলেন।

আরো উপস্থিত ছিলেন, দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মু. তাহের ও মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ও মোবারক হোসাইন।

বিশিষ্টজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রবীণ সম্পাদক আবুল আসাদ, দৈনিক নয়াদিগন্তের সম্পাদক সালাউদ্দিন বাবর, দ্য নিউ নেশন সম্পাদক মোকাররম হোসেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শাহদীন মালিক, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, ইবনে সিনা ট্রাস্টের সদস্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. একেএম সাদরুল ইসলাম, ডিইউজে সভাপতি ও দৈনিক মানবকণ্ঠের সম্পাদক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *