
২০৩০ বিশ্বকাপের ভেন্যু: মরক্কোর পতন, বার্নাব্যুর উত্থান?
জানুয়ারি ২০, ২০২৬
ভোটের প্রচারণা শুরু বৃহস্পতিবার ব্যবহার হবে না পোস্টার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঘিরে জোর পরিকল্পনা
জানুয়ারি ২০, ২০২৬আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আবেদন জানিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আবেদন জানিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এ নিয়ে দুটি সংস্থার মধ্যে ভার্চুয়াল ও সরাসরি একাধিক বৈঠক হলেও আইসিসির তরফ থেকে পরিষ্কার কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। অবশেষে জানা গেল, বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারতেই খেলতে হবে, নইলে রয়েছে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি! গতকাল ফ্রান্সভিত্তিক সংবাদ সংস্থা এএফপি এবং ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম আইসিসির সূত্রের বরাত দিয়ে এমন দাবিই করেছে।
সম্প্রতি ঢাকায় আইসিসির প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে বিসিবির কর্মকর্তারা আগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে জানান, বাংলাদেশ দল ভারতে খেলতে চায় না, বরং তারা ম্যাচগুলো শ্রীলংকায় সরানোর অনুরোধ জানান এবং বিকল্প হিসেবে অন্য গ্রুপে স্থানান্তর করা যায় কিনা, সেই অনুরোধও জানানো হয়।
বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির ওই প্রতিনিধি সেদিন জানান, আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর কাছে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হবে এবং শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এরপর আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না করলেও ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো, এএফসি ও বেশ কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যম গতকাল জানায়, বিসিবিকে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য বুধবার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে।
আইসিসির সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি এক প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না খেললে তাদের জায়গায় বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ র্যাংকধারী স্কটল্যান্ডকে নেয়া হবে।
ভারত ও শ্রীলংকায় আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে ছেলেদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। এ আসরে ‘সি’ গ্রুপে খেলবে বাংলাদেশ। টাইগারদের প্রতিপক্ষ সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছাড়াও নেপাল আর নবাগত ইতালি। বাংলাদেশের চার ম্যাচের তিনটি কলকাতার ইডেন গার্ডেনস স্টেডিয়ামে, একটি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে।
এদিকে বাংলাদেশ ও ভারতের টানাপড়েনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাকিস্তানও। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আগেই জানিয়েছে, বাংলাদেশের দাবি যৌক্তিক এবং তারা বাংলাদেশের পাশে আছে। সর্বশেষ বিশ্বকাপ সামনে রেখে জাতীয় দলের সব ধরনের প্রস্তুতি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে পিসিবি। গতকাল জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারতের নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের আপত্তির প্রতি সংহতি জানিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান।
জিও নিউজ জানায়, পিসিবি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে পাকিস্তান দলের টিম ম্যানেজমেন্টকে বিশ্বকাপের পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে পরে অবহিত করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান যদি শেষ পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সেক্ষেত্রে একটি বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ভারতের মাঠে না খেলার বাংলাদেশের আপত্তির বিষয়টিকে পাকিস্তান ‘যৌক্তিক’ ও ‘বৈধ’ বলে মনে করে। পিসিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যদি বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি সমাধান না হয়, তবে পাকিস্তানও এ টুর্নামেন্টে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে।
তিন সপ্তাহ আগে এ সংকটের শুরু। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ এনে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেয়ার পর বাংলাদেশে ক্ষোভ তৈরি হয়। সেই রেশে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নির্দেশে বিসিবি এক ই-মেইল বার্তায় আইসিসিকে জানিয়ে দেয়, নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে না বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এ ইস্যুতে আইসিসি ‘ধীরে চলো’ নীতিতে এগোচ্ছে, আর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) পুরোপুরি চুপ।
গতকাল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি আইসিসির সূত্রের বরাত দিয়ে এক খবরে দাবি করেছে, বাংলাদেশকে ২১ জানুয়ারির মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে আলটিমেটাম দিয়েছে আইসিসি, নইলে এ আসর থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিতে আছে তারা। বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডের কথা ভেবে রেখেছে আইসিসি।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা ওঠার পর আইসিসি স্বাধীন ঝুঁকি মূল্যায়নে সুনির্দিষ্ট কিংবা সরাসরি ‘হুমকি’র কিছু পায়নি। আইসিসির দৃষ্টিতে বিশ্বকাপে ‘খুবই কম কিংবা মাঝারি’ ঝুঁকি রয়েছে। বাংলাদেশ দল কিংবা কোনো কর্মকর্তা কিংবা নির্দিষ্ট কোনো ভেন্যু নিয়ে ঝুঁকি আছে বলে মনে করে না বিশ্বকাপের আয়োজক সংস্থাটি।
এরপর আইসিসির পক্ষ থেকে বিসিবিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হলেও আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড তাদের দাবিতে অটল থাকে। আইসিসির সূত্রের বরাতে এনডিটিভির খবরে আরো বলা হয়, ‘বিসিবি কর্মকর্তাদের ২১ জানুয়ারির মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। তারা যদি ভারতে ভ্রমণ করতে রাজি না হন, তাহলে র্যাংকিং অনুযায়ী অন্য দলকে দিয়ে তাদের শূন্যতা পূরণ করা হবে।’
গত ১৭ জানুয়ারি নাটকীয়ভাবেই আইসিসিকে অনুরোধ জানায় বিসিবি—যেন ‘বি’ গ্রুপ থেকে আয়ারল্যান্ডকে ‘সি’ গ্রুপে স্থানান্তর করে বাংলাদেশকে ‘বি’ গ্রুপে দেয়া হয়। যদিও এ ব্যাপারে আয়ারল্যান্ড মোটেও আগ্রহী নয় এবং আইসিসির পক্ষ থেকে তাদের নিশ্চিত করা হয়েছে যে তাদের ম্যাচগুলোর সূচি কোনোভাবেই পরিবর্তন করা হবে না।


