
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা বিবেচনা করছে এনসিপি
জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যাংক ঋণের প্রায় অর্ধেকই এখন খেলাপি
জানুয়ারি ২০, ২০২৬শিক্ষক ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, ‘নিরাপদ কৃষি ও খাদ্য নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোতে তেমন গবেষণা হয় না। নীতিনির্ধারকরাও এসব নিয়ে ভাবেন না।
শিক্ষক ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, ‘নিরাপদ কৃষি ও খাদ্য নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোতে তেমন গবেষণা হয় না। নীতিনির্ধারকরাও এসব নিয়ে ভাবেন না। বরং উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও উৎপাদন প্রবৃদ্ধি নিয়ে কৃতিত্ব দাবি করা হয়েছে। ফলে রাসায়নিকের ব্যবহার বেড়েছে মাত্রাতিরিক্ত। মাটি ও পানি বিষাক্ত হয়ে নানা রোগ সৃষ্টি করছে। আপাতদৃষ্টিতে দেশের কৃষি খাদ্যের জোগান দিলেও এটি একটি অসুস্থতা তৈরির ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে গতকাল ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের কাছে নিরাপদ কৃষি ও খাদ্য বিষয়ের প্রস্তাবনাসমূহকে গুরুত্ব দিয়ে ইশতাহার’ ঘোষণার দাবিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন বলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করে ‘নিরাপদ কৃষি ও খাদ্য আন্দোলন’। কয়েকটি সংগঠন মিলে গঠিত এ প্লাটফর্ম নিরাপদ কৃষি ও খাদ্যবিষয়ক ২০ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানায়।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘আমরা এখন যে কৃষির মধ্যে আছি সে কৃষিটা খুবই দাপটের সঙ্গে চলছে এবং খুবই প্রভাবশালী। প্রভাবশালী কারণ—তার মধ্যে একটা উন্নয়নের বিশ্বাস আছে। এখন গ্রামে গেলে দেখতে পাই নানা কৃষির ক্ষেত; ফসল হচ্ছে, মাছের ঘের হচ্ছে, পাশে আবার ইটের ভাটাও আছে। হাটে গেলে দেখা যায় যে ব্যাপক বিপণন হচ্ছে, কোথাও সার, কোথাও কীটনাশক, কোথাও নানান ধরনের যন্ত্রপাতি ইত্যাদি—সেই যন্ত্র যেখানে রাষ্ট্র ভর্তুকি দিচ্ছে। বালাইনাশক নামে যেসব রাসায়নিক আছে সেগুলোর ব্যাপারেও সরকারের যথেষ্ট সহানুভূতি আছে। এগুলো নিয়ে যেসব নীতিমালা হয় সেগুলো কীভাবে প্রণীত হয় মানুষ তো জানেই না, কৃষকরা আরো জানে না। এগুলোর ভাষাও বাংলা না, ইংরেজি। আমাদের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী বলে যারা আছে, এখানে এদের একটা বড় ভূমিকা আছে।’
দেশের কৃষিতে সবসময় উৎপাদনের অর্জনগুলোই উঠে আসে জানিয়ে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘কৃষি নিয়ে যে হিসাবগুলো দেয়া হয় সেগুলো খুবই চিন্তাকর্ষক। যেমন খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে চার গুণেরও বেশি। মৎস্য ও সবজি উৎপাদন বেড়েছে। উৎপাদনে বাংলাদেশ কত রেকর্ড করল পত্রপত্রিকায় এসব দেখে মুগ্ধ হই। এতে মানুষের মধ্যে একটা ধারণা তৈরি হয়, ঠিকমতোই চলছে। কৃষি খুবই উন্নত হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকের আত্মহত্যার খবরও পাই। এসব তুলে ধরে হিসাবটা কখনো হয় না, কারণ এটার জন্য কোনো তহবিল আসে না। কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার আগ্রহ নেই যে কীসের বিনিময়ে উৎপাদনটা হচ্ছে। যে বৃদ্ধি হচ্ছে সেটির গুণগত মান কী, এ নিয়ে কিন্তু কোনো গবেষণা নেই।’
বিশিষ্ট এ অর্থনীতিবিদ আরো বলেন, ‘শিশুমৃত্যুর হার কমেছে বলে কৃতিত্ব নিচ্ছি, কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে মধ্যবয়সে (৪০ বছরের পর) বেশকিছু রোগ দেখা যাচ্ছে যেটি সংক্রামক। সেগুলোর সঙ্গে সরাসরি পরিবেশ সম্পর্কিত। হার্ট, মস্তিষ্ক, কিডনি, লিভার, নিউরোলজিক্যাল সমস্যা বাড়ছে। এ সমস্যাগুলোর ফলে উৎপাদনশীলতা কমে যাচ্ছে। আমাদের যে গড় আয়ুসীমা, সেটিও কিছুদিন পর রিভাইজ করলে দেখা যাবে সেটি কমে যাচ্ছে। এ অসুখগুলো কেন হচ্ছে, কোথা থেকে হচ্ছে—এটার কোনো হিসাব নেই। আমরা যেটাকে বলছি উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেটা কীসের বিনিময় হচ্ছে? যদি সমীকরণের দুই পাশ হিসাবে না আসে তাহলে এটি কি উন্নয়ন হলো, না আমাদের জন্য বড় বিপর্যয় হলো—সেটি একটি বড় প্রশ্ন হিসেবে সামনে আসবে। তার মানে যে জাঁকজমকটা আমরা দেখতে পাচ্ছি সেখানে একটি মোহ এবং বিপজ্জনক ঘোরের মধ্যে আমরা আছি।’


