‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার সমর্থনের ব্যাখ্যা দিল সরকার
জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
আপিল শুনানি শেষে কয়েক আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী হারাল বিএনপি
জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার সমর্থনের ব্যাখ্যা দিল সরকার
জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
আপিল শুনানি শেষে কয়েক আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী হারাল বিএনপি
জানুয়ারি ১৯, ২০২৬

প্রথম বক্তৃতায় জাইমা রহমান নারীরা সুযোগ পেলে জাতির ভবিষ্যৎ বদলে দেয়

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান বলেছেন, ‘যখন নারীদের দূরে না ঠেলে স্বাগত জানানো হয়, তখন তারা কেবল নিজেদের জীবনই বদলায় না; তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ এবং জাতির ভবিষ্যৎও বদলে দেয়।’

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান বলেছেন, ‘যখন নারীদের দূরে না ঠেলে স্বাগত জানানো হয়, তখন তারা কেবল নিজেদের জীবনই বদলায় না; তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ এবং জাতির ভবিষ্যৎও বদলে দেয়।’

গতকাল রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ‘জাতি গঠনে নারী: নীতি, সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এর আয়োজন করে ঢাকা ফোরাম ইনিশিয়েটিভ। গত ২৫ ডিসেম্বর ১৭ বছর পর পরিবারের সঙ্গে দেশে ফেরেন জাইমা রহমান। জনপরিসরে দেয়া এটিই তার প্রথম বক্তৃতা।

তিনি বলেন, ‘জনসংখ্যার অর্ধেক অংশ নারীদের পেছনে রেখে বাংলাদেশ বেশি দূর এগিয়ে যেতে পারবে না। নিজের ছোট্ট জায়গা থেকেও দেশ ও সমাজের জন্য কিছু করার আন্তরিকতা আমাদের সবার থাকা উচিত।’

জাইমা রহমানের মতে, বাংলাদেশ যদি সত্যিকারের টেকসই উন্নয়ন চায়; তাহলে ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ কেবল শিক্ষা, অফিস বা নীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; ঘর, প্রতিষ্ঠান এবং মানসিকতায়ও পৌঁছতে হবে। আর এর দায়িত্ব সবার।

তিনি বলেন, ‘আমি আজ এখানে দাঁড়িয়েছি ভিন্ন এক অনুভূতি ও আবেগ নিয়ে। বাংলাদেশের এ পলিসি লেভেলে আমার প্রথম বক্তব্য এটা। আমি এমন কেউ নই, যার কাছে সব প্রশ্নের উত্তর আছে বা সব সমস্যার সমাধান জানা আছে। তবু আমি বিশ্বাস করি, নিজের ছোট্ট জায়গা থেকেও সমাজের জন্য, দেশের জন্য কিছু করার আন্তরিকতা আমাদের সবার মধ্যে থাকা উচিত। আজ আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে।’

জাইমা রহমান বলেন, ‘নারীর মর্যাদা ব্যক্তিগত ও জনপরিসর—উভয় ক্ষেত্রেই স্বীকৃত হওয়া উচিত; এ বিশ্বাস আমাদের পরিবারের বাইরেও আমার দাদা-দাদির জীবন ও নেতৃত্বে প্রতিফলিত হয়েছিল। আমার দাদা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জানতেন যে নারীদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন কখনই পূর্ণ হতে পারে না। তিনি নারীদের ঘরে, কর্মক্ষেত্রে ও জনপরিসরে সক্ষম অবদানকারী হিসেবে দেখতেন। এ বিশ্বাসই একজন নেতা হিসেবে নেয়া তার সিদ্ধান্তগুলোকে প্রভাবিত করেছিল। তার নেতৃত্বে পোশাক খাতের সম্প্রসারণের ফলে লাখ লাখ নারী প্রথমবারের মতো প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানে প্রবেশের সুযোগ পান, অর্জন করেন স্বাধীনতা ও আয়ের ক্ষমতা।’

জিয়াউর রহমানের মূল্যবোধকে খালেদা জিয়া এগিয়ে নিয়ে যান মন্তব্য করে তাদের নাতনি জাইমা বলেন, ‘আমার দাদি খালেদা জিয়া, যিনি শিক্ষার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন ও আত্মবিশ্বাস অর্জনের গুরুত্ব বুঝেছিলেন। তার নেতৃত্বে কন্যাশিক্ষাকে সুযোগ নয়, অধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। বিনামূল্যে মাধ্যমিক শিক্ষা, পাশাপাশি “‍খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা” ও “‍নগদ অর্থের বিনিময়ে শিক্ষা” কর্মসূচি—এসব উদ্যোগ দেশের লাখো মেয়েকে বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং অসংখ্য পরিবারের জীবনধারা বদলে দেয়। তার প্রণীত মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছাত্রী সহায়তা প্রকল্প মাধ্যমিক শিক্ষায় প্রথমবারের মতো লিঙ্গসমতা আনে এবং বাংলাদেশ ছাড়িয়ে অন্যান্য দেশেও অনুকরণযোগ্য মডেল হয়ে ওঠে।’

জাইমা রহমান বলেন, ‘গত বছরের প্রথম দিকে দাদি যখন আমাদের সঙ্গে লন্ডনে ছিলেন, তখন হাসপাতালে ছিলেন চিকিৎসার জন্য। ওখানে বিভিন্ন দেশের নার্স-ডাক্তার ছিলেন। এক নার্স ছিলেন নাইজেরিয়া থেকে; নাইজেরিয়া ওয়েস্ট আফ্রিকায়। আম্মু-আব্বু একদিন দাদিকে সকাল সকাল দেখতে গিয়েছিলেন। তো নার্স বলেন, “‍‍ওহ আমি তো আপনার মাকে চিনেছি। আপনার মা-ই প্রথম ইলেক্টেড নারী প্রাইম মিনিস্টার বাংলাদেশের, না?” আম্মু-আব্বু তো অবাক; “‍হ্যাঁ, আপনি কীভাবে জানেন?” নার্স তারপর বললেন যে, “‍উনি যে এত কিছু করেছেন মেয়েদের শিক্ষার জন্য, স্পেশালি প্রাইমারি এডুকেশন, ফুড ফর এডুকেশন, ক্যাশ ফর এডুকেশন; এগুলো আমাদের সরকার ওই ৩০-৩৫ বছর আগে দেখে ইমপ্লিমেন্ট করেছিল।” আর ওই কারণে লক্ষ লক্ষ মেয়ে ওদের দেশের গ্রাম অঞ্চলে বিভিন্ন জায়গায় এখনো শিক্ষা পাচ্ছে অন্তত প্রাইমারি এডুকেশন লেভেলে।’

বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জাইমা বলেন, ‘অনলাইনে নারীরা হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছে। জলবায়ুজনিত ঝুঁকিতে পড়ছে। নিরাপত্তা, সুরক্ষা, পরিবহনের ক্ষেত্রে সবকিছুই মূলত পুরুষদের নিরাপদ রাখা ও সফল হওয়ার জন্যই নকশা করা হয়েছে। নারীরা এর মধ্যে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছে। এ পৃথিবী শুধু পুরুষদের সফল হওয়ার জন্য নয়, এটি নারীদের জন্যও।’

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নারীর ক্ষমতায়নে বিএনপির পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশের জনসংখ্যায় এখন ৫১ শতাংশ নারী ও ৪৯ শতাংশ পুরুষ। সেদিক থেকে আমি এখানে মাইনরিটি। আমাদের নারীদের সামনে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেব ফ্যামিলি কার্ড চালু করার কথা বলেছেন।’

কাজী জেসিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) চেয়ারম্যান ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী চৌধুরী, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদসহ বিভিন্ন পেশার নারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *