মানিকগঞ্জ হাসপাতালে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ২ আনসার সদস্য আটক
জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
এমপিরা বরাদ্দের ৫০% অর্থ নিজের পকেটে ভরেন —রুমিন ফারহানা
জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
মানিকগঞ্জ হাসপাতালে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ২ আনসার সদস্য আটক
জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
এমপিরা বরাদ্দের ৫০% অর্থ নিজের পকেটে ভরেন —রুমিন ফারহানা
জানুয়ারি ১৩, ২০২৬

জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক নীতি সংলাপে বক্তারা শুধু সীমান্ত সুরক্ষাকেই জাতীয় নিরাপত্তা ভাবার সুযোগ আর নেই

রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে জাতীয় নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকা। এটি শুধু সামরিক নিরাপত্তা না, এখানে সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টিও হতে পারে।

রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে জাতীয় নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকা। এটি শুধু সামরিক নিরাপত্তা না, এখানে সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টিও হতে পারে। আমরা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছি। সাইবার, জ্বালানি, খাদ্যসহ বিভিন্ন নিরাপত্তাহীনতায় আছি। শুধু সীমান্ত সুরক্ষাকেই জাতীয় নিরাপত্তা ভাবার আর সুযোগ নেই। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে ‍তুলে নিয়ে যাওয়া সেটি প্রমাণ করেছে।

গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ আয়োজিত ‘জাতীয় নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা: গণতান্ত্রিক শাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক নীতি সংলাপে এসব কথা বলেন আলোচকরা।

সংলাপে বক্তারা বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তায় জাতীয়ভাবে ও রাজনৈতিক রিকনসিলিয়েশন দরকার। সমাজকে বিভক্ত রেখে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সবাইকে এক করতে না পারলে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সম্ভব না। দুর্বল রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণে বাংলাদেশে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি বারবার আসে।’

গবেষক, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও লেখক মেজর (অব.) এএসএম শামসুল আরেফিন বলেন, ‘সীমান্ত নিরাপত্তাই শুধু জাতীয় নিরাপত্তা নয়। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে তুলে নেয়া হয়েছে। গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা চলছে। এটি প্রতিবেশী দেশ করেনি। অনেক দূর থেকে এসে করেছে। ইন্দো-প্যাসিফিক যারা নিয়ন্ত্রণ করছে তারা এর আশপাশে বসবাস করে না। সেজন্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কেবল সীমান্ত দিয়ে চিন্তা করলেই ভুল হবে।’

চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নাগরিক সচেতনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতার মাধ্যমে সরকারের ওপর জনগণের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়। এখানে বিচার বিভাগ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিচারক কোথা থেকে এলেন, তার চেয়ে বড় বিষয় তিনি দায়িত্ব পেয়ে কী করছেন? বিচার ব্যবস্থাকে স্বাধীন করতে হবে। এ সরকার মবের কাছে নতজানু—এটি দুঃখজনক। দেশে একটি বিষয় প্রতিষ্ঠা পেয়েছে—তুমি আন্দোলন করো তারপর সেটি আদায় করে নাও।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টি বারবার সামনে আসার কারণ ত্রুটিপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি। সরকার পরিবর্তন হলেও জাতীয় স্বার্থ ও মৌলিক স্বার্থ পরিবর্তন হয় না। ফলে সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হয় না। কিন্তু আমরা এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছি যে সবকিছু নতুন করে শুরু করি। আবেগতাড়িত হওয়া যাবে না। জাতীয় স্বার্থে অবিচল থাকতে হবে এবং সম্পর্ক ধরে রাখতে হবে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মানেই নতজানু পররাষ্ট্রনীতি নয়। এখানে ভারসাম্যপূর্ণ বন্ধুত্ব বজায় রাখতে হবে। প্রতিবেশীকে আমার প্রয়োজন, আমাকেও তার প্রয়োজন। সেইভাবে সম্পর্ক রাখতে হবে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমরা বিপজ্জনক পৃথিবীতে প্রবেশ করেছি। জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে সবাই ট্রাম্প-মাদুরো ঘটনাকে ব্যাখ্যা করছেন। কিন্তু এটি শুরু হয়েছে ২০২২ সালে রাশিয়া যখন ইউক্রেনে হামলা করে। একটি দেশ আরেকটি স্বাধীন দেশে হামলা করে তার ২০ শতাংশ দখল করে নিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিবেশী কোনো দেশকে হামলা করে দখল করে নেয়ার ঘটনা এটির আগে নেই। বৈশ্বিক রুলস অর্ডারে কিছু নিয়ম-কানুন ছিল। সেগুলো বড় বড় দেশও মানত। কিন্তু সেটি ২০২২ সালে ভাঙতে শুরু করেছে। যেটি ট্রাম্পের ভেনিজুয়েলা হামলার মাধ্যমে আরো স্পষ্ট হয়েছে। মাদুরোকে ধরে নিয়ে গেছে, কিউবা-কলম্বিয়া ঝুঁকিতে আছে। যারা গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের ছবক দিত, তারাই বৈশ্বিক রুলস অর্ডার ভেঙে মাদুরোকে ধরে নিয়ে গেছে।’

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার সংজ্ঞা আগের মতো আর নেই। আমাদের মধ্যে নিরাপত্তা বলতে সীমান্তকেন্দ্রিক স্থল, জল ও আকাশপথের সীমান্ত রক্ষার যে ধারণা ছিল, এখন সেটি অনেক বেশি ডাইভারসিফায়েড। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে তার দেশ থেকে হামলা করে তুলে নিয়ে গেছে। এর আগে পানামা ও ফিলিপাইনে হয়েছে। মাদুরোকে তুলে নেয়ার পেছনে মাদকের অভিযোগ দেয়া হয়েছে। সেখানে তাদের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলার বিষয় রয়েছে। এটিকে আমরা প্রতীকী হিসেবে ধরতে পারি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি এখন অনেক বেশি চর্চিত হচ্ছে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. আলী আকবর বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা বলতে যদি ট্র্যাডিশনালি চিন্তা করি তাহলে সেখানে সামরিক বিষয়টি আসে। নন-ট্র্যাডিশনাল বিষয় হিসেবে চিন্তা করলে সেখানে মানুষের নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, খাদ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা সবকিছুই আসে।’

বাংলাদেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলার বিষয়টি তুলে ধরে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. অধ্যাপক আবু সাঈদ বলেন, ‘দেশে আইনও নেই, শৃঙ্খলাও নেই। আইন থাকলেও সেটি বেআইনি কাজে ব্যয় হচ্ছে। আর শৃঙ্খলা হয়ে গেছে বিশৃঙ্খলা। এই পরিবেশের মধ্যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন কীভাবে হবে সেটি দেশবাসীর ভাবনা। মানুষজন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পাঁচ-ছয় কোটি মানুষ একটি দলের সদস্য হলে তাদের বাইরে রেখে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব না।’

সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য দেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী গোলাম সারওয়ার মিলন, নৈতিক সমাজ বাংলাদেশের সংগঠক মেজর জেনারেল (অব.) আমসা আমিন, সাবেক আইজিপি ড. এম এনামুল হক, সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব.) উ কান থিন, বাসদের প্রেসিডিয়াম মেম্বার নিখিল দাস, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার এম সারওয়ার হোসেন, শিক্ষক ও রাজনীতিবিদ মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর, মেজর জেনারেল (অব.) মনিরুল ইসলাম আকন্দ প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *