
ইসিতে ৬৪৫ আপিল শুনানি শুরু আজ
জানুয়ারি ১০, ২০২৬
গ্যাস নিয়ে সংকটের মধ্যে এবার ফেটেছে ভালভ, নতুন করে স্বল্পচাপ রাজধানীতে
জানুয়ারি ১০, ২০২৬যশোরে শীতজনিতসহ বিভিন্ন রোগে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে অসুস্থ হয়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পর গত ২৪ ঘণ্টায় তারা মারা যান। মারা যাওয়া এসব ব্যক্তির বয়স ৫৫-৭০ বছরের মধ্যে। তারা ঠাণ্ডা ও ফুসফুসে সংক্রমণজনিত রোগে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন বলে তাদের স্বজনরা জানিয়েছেন।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালে বিভিন্ন রোগ নিয়ে ২৯০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে শতাধিক রোগী ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে ৫৪ জনই শিশু।
দুই সপ্তাহ ধরে যশোরের তাপমাত্রা ৭-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। দিনে কুয়াশা ও শীতের দাপট রয়েছে। এ অবস্থায় ঠাণ্ডাজনিত রোগও বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
মৃত মুন্সি মহিউদ্দিনের ছেলে শামছুজ্জামান জানান, ঠাণ্ডার কারণে তার বাবার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। ভোর ৬টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান।
মৃত শেখ সদরুল আলমের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তার বাবার হার্টের সমস্যা ছিল। এছাড়া কয়েক দিনের শীতে তিনি বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জোবায়ের আহমেদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ঠাণ্ডা ও ফুসফুস সংক্রমণজনিত কারণে ১০ জন মারা গেছেন। শীতে ফুসফুস সংক্রমণ এবং অন্যান্য সমস্যার কারণে বয়স্কদের মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি দেখা দিচ্ছে। বাইরে চলাফেরার ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করা এবং ফুসফুস সংক্রমণজনিত কারণগুলো রোধ করার জন্য সতর্ক থাকতে হবে।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন সাফায়াত জানান, হাসপাতালে প্রতিদিন জরুরি বিভাগে ২৫০-৩০০ রোগী চিকিৎসা নেয়। ভর্তি থাকে ৪৫০-৫০০ রোগী। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ জন মারা গেছেন। যাদের বেশির ভাগ বয়স্ক রোগী। তারা বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।
সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান, ২৫০ শয্যা হাসপাতালে একদিনে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংখ্যাটা হয়তো একটু বেশি। তবে তারা সবাই শীতের কারণে মারা যাননি। তারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ফুসফুসে সংক্রমণসহ বিভিন্ন রোগে তাদের মৃত্যু হয়েছে।


