তুরাগের তলদেশে ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনে ঢুকেছে পানি এলপিজি ভোগান্তির মধ্যেই ঢাকায় তীব্র গ্যাস সংকট
জানুয়ারি ১০, ২০২৬
জাতীয় সংসদ নির্বাচন রাঙ্গামাটির দুর্গম ২০ কেন্দ্রে ব্যবহার হবে হেলিকপ্টার
জানুয়ারি ১০, ২০২৬মুন্সিগঞ্জে সংসদীয় আসন রয়েছে তিনটি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেন ২৩ জন।
মুন্সিগঞ্জে সংসদীয় আসন রয়েছে তিনটি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেন ২৩ জন। তবে যাচাই-বাছাইয়ে ছয়জনের মনোনয়ন সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। বাকি ১৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ এসব প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কারো রয়েছে হাজার কোটি টাকার ঋণ। আবার কেউ লাখ টাকার সম্পদ নিয়ে নেমেছেন ভোটের মাঠে। কোটিপতি ছয় প্রার্থীর তিনজনই বিএনপি মনোনীত। বাকি ১১ প্রার্থীই রয়েছেন লাখপতির তালিকায়। তাদের মধ্যে একজন নারী প্রার্থীও রয়েছেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অনিয়ম, তথ্যগত গরমিল ও বিধিমালার ব্যত্যয়ের কারণে ছয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ২১ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দের পরদিন অর্থাৎ ২২ জানুয়ারি থেকে বৈধ প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।
ছয়টি উপজেলা নিয়ে গঠিত মুন্সিগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতসহ ১৭ প্রার্থী এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত শেখ মো. আব্দুল্লাহ। তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪৩ কোটি টাকা। আর সবচেয়ে কম সম্পদ রয়েছে একই আসনের ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী রোকেয়া আক্তারের। তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ টাকা। প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতি রয়েছেন ছয়জন। তাদের তিনজনই বিএনপির প্রার্থী। শেখ মো. আব্দুল্লাহ ছাড়াও বিএনপির অন্য দুই কোটিপতি প্রার্থী হলেন অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ ও মো. কামরুজ্জামান রতন। এছাড়া কোটিপতি অন্য তিন প্রার্থী হলেন জাতীয় পার্টির আরিফুজ্জামান দিদার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেএম বিল্লাল ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মাজেদুল ইসলাম। বাকি ১১ প্রার্থীই রয়েছেন লাখপতির তালিকায়।
আসনভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সিরাজদিখান ও শ্রীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত মুন্সিগঞ্জ-১ আসন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পর এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে আছেন বিএনপি, জামায়াত, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চার প্রার্থী। জেলার গুরুত্বপূর্ণ এ আসনের একমাত্র কোটিপতি প্রার্থী শেখ মো. আব্দুল্লাহ (বিএনপি মনোনীত) আল-মুসলিম গ্রুপের কর্ণধার। তার হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আয়কর রিটার্নের বিপরীতে তার নিজের নামে মোট বৈধ সম্পদ রয়েছে ৪২ কোটি ৫১ লাখ ১১ হাজার ১১২ টাকার। আব্দুল্লাহর মালিকানাধীন আল মুসলিম গ্রুপের সাতটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের নামে ঢাকার পূবালি, মধুমতি, সিটি, স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ও আইডিএলসি ব্যাংকে ঋণ রয়েছে ১ হাজার ১১৪ কোটি ৬ লাখ ৭২ হাজার ৫৯০ টাকা। এ আসনে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী রোকেয়া আক্তারের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ২ লাখ ৯২ হাজার টাকার। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক একেএম ফখরুদ্দিন রাজীর ৩২ লাখ ২০ হাজার টাকার অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ রয়েছে। অন্য প্রার্থী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আতিকুর রহমানের রয়েছে ৩৭ লাখ ৪৩ হাজার ৫২০ টাকার সম্পদ।
টঙ্গীবাড়ি ও লৌহজং নিয়ে গঠিত মুন্সিগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থী রয়েছেন সাতজন। তাদের মধ্যে কোটিপতির তালিকায় রয়েছেন তিনজন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদের সম্পদের পরিমাণ ৫ কোটি ৮ লাখ ৬০ হাজার ২২ টাকা। এর মধ্যে তার ১ কোটি ৭২ লাখ ৪০ হাজার ৯৩৪ টাকার স্থাবর ও ৩ কোটি ৩৬ লাখ ১৯ হাজার ২৯৮ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। আসনটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী কেএম বিল্লালের মোট সম্পদের পরিমাণ ৭ কোটি ৯৬ লাখ ৯০ হাজার ২১০ টাকা। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদ রয়েছে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকার ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৫৬ লাখ ৪০ হাজার ২১০ টাকা। এ আসনে অন্য কোটিপতি প্রার্থী এনসিপির মাজেদুল ইসলাম। ৮০ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ টাকার স্থাবর ও ১ কোটি ৫ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে তার সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৪৬ লাখ ২২ হাজার ৩৬৬ টাকা।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করীমের ৭৯ লাখ ১ হাজার ৮৯৪ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এছাড়া ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী আশিক মাহমুদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১২ লাখ টাকা, খেলাফত মজলিসের আমিনুল ইসলামের ৩ লাখ ৪০ হাজার ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী নোমান মিয়ার ২৫ লাখ ২৯ হাজার ৯৭৪ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।
সদর ও গজারিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে নয়জনের মধ্যে ছয়জনের মনোনয়নপত্র বৈধতা পেয়েছে। বাকি তিনজনের মনোনয়নপত্র সাময়িক বাতিল করা হয়েছে। বৈধ ছয় প্রার্থীর মধ্যে কোটিপতি রয়েছেন দুজন। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রতনের সম্পদ রয়েছে ১ কোটি ৮৫ লাখ ৯৩ হাজার ৩৫৩ টাকার। এর মধ্যে ২৫ লাখ টাকার স্থাবর ও ১ কোটি ৬০ লাখ ৯৩ হাজার ৩৫৩ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তার।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী এএফএম আরিফুজ্জামান দিদারের স্থাবর সম্পদ ২ কোটি টাকার ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ১৫ লাখ ৫ হাজার ৪৩১ টাকার। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সুমন দেওয়ানের ৬০ লাখ টাকা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির আনিছ মোল্লার ৩১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ মো. শিমুলের ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও খেলাফত মজলিস বাংলাদেশের প্রার্থী হাজি আব্বাস কাজীর সম্পদ রয়েছে ৬ লাখ টাকার।


