
৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কলকাতায় মুস্তাফিজ
ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল, উন্নতি নিয়ে আশাবাদী: ডা. জাহিদ
ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫দক্ষিণাঞ্চলের মফস্বল জনপদ ঝালকাঠির নলছিটি থেকে উঠে আসা শরিফ ওসমান হাদি আজ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তিনি কোনো প্রচলিত রাজনৈতিক দলের পরিচিত মুখ নন, বরং সময়ের অভিঘাত, সামাজিক টানাপোড়েন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এক স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর। তাঁর বক্তব্য ও অবস্থান কারও কাছে সাহসী ও আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক, আবার কারও কাছে বিতর্কিত ও উসকানিমূলক। কিন্তু এক বিষয়ে দ্বিমত নেই—হাদিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
হাদির পারিবারিক ও শিক্ষাগত পটভূমি তাঁর চিন্তার ভিত নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একজন মাদ্রাসা শিক্ষকের সন্তান হিসেবে শৈশব থেকেই তিনি ধর্মীয় নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। নেছারাবাদ কামিল মাদ্রাসায় পড়াশোনার মাধ্যমে ইসলামি মূল্যবোধ ও ইতিহাসচেতনার সঙ্গে তাঁর পরিচয় আরও গভীর হয়। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়ন তাঁকে রাষ্ট্র, ক্ষমতা, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে একাডেমিক দৃষ্টিভঙ্গি দেয়। এই দুই ধারার সম্মিলনই তাঁর রাজনৈতিক ভাষা ও অবস্থানকে আলাদা করেছে।
নিরাপদ ও স্থিতিশীল পেশাগত জীবনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও হাদি রাজপথ ও জনপরিসরকে বেছে নেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি যে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ গড়ে তোলেন, তা কোনো প্রচলিত রাজনৈতিক সংগঠন নয়; বরং এটি সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও প্রতিবাদী চেতনার একটি প্ল্যাটফর্ম। এই মঞ্চ থেকে তিনি আধিপত্যবাদ, অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলেন এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন তুলে ধরেন। শাহবাগসহ বিভিন্ন স্থানে তাঁর সমাবেশগুলো নতুন প্রজন্মের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।
তবে এই অবস্থানের মূল্যও তাঁকে দিতে হয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তিনি হুমকির মুখে পড়েছেন এবং সাম্প্রতিক হামলা দেশবাসীকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। একজন মতপ্রকাশকারী নাগরিকের ওপর এমন সহিংসতা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিসরের জন্যও অশনিসংকেত। ভিন্নমতকে মোকাবিলা করতে হলে যুক্তি ও আলোচনার পথই হওয়া উচিত, সহিংসতা নয়।
ওসমান হাদির জীবন ও সংগ্রাম আমাদের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন তোলে—রাজনীতি কি কেবল দল, ক্ষমতা ও নির্বাচনের হিসাব, নাকি এটি আদর্শ, ন্যায়বোধ ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ? ইতিহাস বলে, ব্যক্তিকে আঘাত করা গেলেও ভাবনাকে দমিয়ে রাখা যায় না। হাদি আজ হাসপাতালের শয্যায়, কিন্তু তাঁর উচ্চারিত প্রশ্নগুলো সমাজে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
একজন হাদির কণ্ঠ স্তব্ধ করার চেষ্টা থেকে যদি শিক্ষা না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও অস্থিরতা অনিবার্য। প্রয়োজন সহনশীলতা, সংলাপ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার। কারণ ব্যক্তির চেয়েও বড় হলো আদর্শ, আর আদর্শ কখনো একা থাকে না—তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে।
জাকির হোসেন, সম্পাদক, সিটিনিউজ সেভেন ডটকম


