
শান্তিতে নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মদী আবারো ইরানে গ্রেফতার
ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
আমার প্রিয়তমা স্ত্রী একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছে: নয়ন
ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের প্রাথমিক সময়সীমা ঘোষণার পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনী পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী অস্থির রাজনৈতিক বাস্তবতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে—নির্বাচন কতটা নিরাপদ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে পারবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা একাধিকবার দাবি করে আসছেন, দেশে বর্তমানে কারও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি নেই এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এ মাসের শুরুতে আইন-শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরলে তার নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা রয়েছে কি না। জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, বাংলাদেশে কারও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে নেই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সবাইকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তুত।
কিন্তু বাস্তবতা যেন ভিন্ন কথাই বলছে। ওই বক্তব্য দেওয়ার দুই সপ্তাহ না যেতেই শুক্রবার ভরদুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। রিকশায় করে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলযোগে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরুর আগেই একজন প্রার্থীর ওপর এমন হামলা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা প্রস্তুতির বাস্তব চিত্র সামনে এনে দিয়েছে।
হামলার পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া না গেলেও এটিকে রাজনৈতিক সহিংসতার অংশ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) তথ্যমতে, গত নভেম্বরে দেশে ৭২টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ৭২৪ জন আহত এবং ৯ জন নিহত হয়েছেন। এর আগের মাস অক্টোবরে ৪৯টি ঘটনায় আহত হয়েছিলেন ৫৪৭ জন এবং নিহত হন দুজন। অর্থাৎ সহিংসতার প্রবণতা ক্রমাগত বাড়ছে।
রাজনৈতিক সহিংসতার পাশাপাশি মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনাও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ১০ মাসে মব সহিংসতার ২৫৬টি ঘটনায় অন্তত ১৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এসব পরিসংখ্যান দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে।
নির্বাচনের আগেই যদি একজন প্রার্থীর ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা হয়, তাহলে নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক সহিংসতা কোন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে—সে প্রশ্ন এখন জনমনে তীব্রভাবে আলোচিত হচ্ছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত ‘প্রস্তুতি’ আদৌ কতটা কার্যকর, তা নতুন করে পর্যালোচনার সময় এসেছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়ন না ঘটলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠতে পারে। আর এর পূর্ণ দায়ভার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ওপরই বর্তাবে, কারণ দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই তার প্রধান দায়িত্ব।
রিপোর্ট:
— মোঃ জাকির হোসেন
সম্পাদক, সিটি নিউজ সেভেন


