
‘বিশেষ কেউ ভালো, বাকি সবাই খারাপ’, এটা গণতন্ত্রণের জন্য বিপজ্জনক: তারেক রহমান
ডিসেম্বর ৮, ২০২৫
ইসির নিবন্ধন পেল ৮১ পর্যবেক্ষক সংস্থা
ডিসেম্বর ৮, ২০২৫সোমবার সামরিক জাদুঘরে অনুষ্ঠিত সমাপনী অধিবেশনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের উপস্থিতিতে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে ১৩ দফা দাবি সম্বলিত ইশতেহার উপস্থাপন করা হয়।
রাজধানীতে তৃতীয় বাংলাদেশ জ্বালানি সম্মেলনের সমাপনী দিনে জলবায়ু সংকট ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবেলায় দ্রুত একটি বাস্তবভিত্তিক জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়নের দাবি উঠেছে। এ সময় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো ছাড়া দেশের জন্য আর কোনো পথ খোলা নেই বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সামরিক জাদুঘরে অনুষ্ঠিত সমাপনী অধিবেশনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের উপস্থিতিতে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে ১৩ দফা দাবি সম্বলিত ইশতেহার উপস্থাপন করা হয়। বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোটের নির্বাহী সদস্য মনোয়ার মোস্তাফা ইশতেহারটি পাঠ করেন। তিনি ভবিষ্যৎ সরকার ও সব রাজনৈতিক দলকে এ দাবিগুলোর বিষয়ে সুস্পষ্ট অঙ্গীকারের আহ্বান জানান।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ন্যায্য রূপান্তর এখন জাতির জন্য একটি বাস্তব রাজনৈতিক প্রশ্ন। তিনি মনে করেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় অনেক সিদ্ধান্ত ব্যাহত হয়। এছাড়া প্রকৃতির ওপর অতিরিক্ত চাপ দেশের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তার মতে, ন্যায্য রূপান্তর নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, রাজনীতি ও জনগণকে একসঙ্গে দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি তাদের দলের ঘোষিত ৩১ দফার মধ্যে জ্বালানি ও অবকাঠামো, পরিবেশ এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসানাত কাইয়ুম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অনিয়ম বন্ধে শক্ত পদক্ষেপ জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে যে লুটপাট চলছে, তার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজন।
কমিউনিস্ট পার্টির নেতা মঞ্জুর মঈন বলেন, জ্বালানি খাতে আমদানি-নির্ভরতা কমাতে উদ্যোগ নেয়া হলেও রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া এসব বাস্তবায়ন কঠিন। তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সারওয়ার তুষার বলেন, গণমুখী জ্বালানি নীতি তৈরিতে শক্তিশালী আন্দোলন দরকার।
বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের নেতা রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, নবায়নযোগ্য শক্তির নীতির লক্ষ্য অর্জন না হওয়া উদ্বেগজনক। তিনি মনে করেন, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যাওয়া জরুরি।
গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, জ্বালানি রূপান্তর এখন কেন্দ্রীয় ইস্যু। তিনি বলেন, প্রকৃতির সব স্তরের ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে আরো গণতান্ত্রিক ও বিকেন্দ্রীভূত রাজনৈতিক কাঠামো প্রয়োজন।
ইশতেহারে উপস্থাপিত ১৩ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে দ্রুত নতুন জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়ন, দুর্নীতি প্রতিরোধে সব চুক্তি প্রকাশযোগ্য করা, জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি কমানো, নতুন কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র বন্ধ রাখা, নতুন এলএনজি টার্মিনাল অনুমোদন না দেয়া এবং ২০৫০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ।
এছাড়া বৈদ্যুতিক যানবাহনে কর ছাড়, স্মার্ট গ্রিড বাস্তবায়ন, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ভর্তুকি, দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যয়বহুল প্রযুক্তি পরিহার, সৌর প্যানেল পুনর্ব্যবহার শিল্প গড়ে তোলা এবং নারী, আদিবাসী ও শ্রমজীবীদের অধিকার নিশ্চিতকরণের দাবিও রাখা হয়। কৃষিজমি সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ইজারা পদ্ধতি ও বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রস্তাবও ইশতেহারে রয়েছে।


