
বরিশালে গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা নির্বাচনকালীন সরকার নিরপেক্ষ হলেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব
ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
আবাদ হয় না বরিশাল বিভাগের সাড়ে ছয় লাখ হেক্টর জমিতে
ডিসেম্বর ৭, ২০২৫বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দ্রুত ও আধুনিক বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি ডেডিকেটেড বা বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার আহ্বান ছিল, যা শিগগিরই বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে।’
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) যৌথ উদ্যোগে গতকাল আয়োজিত ‘অপারেশনাইজিং কমার্শিয়াল কোর্ট’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। বাণিজ্যিক আদালতসংক্রান্ত আইনের প্রাথমিক খসড়া তৈরি করে সুপ্রিম কোর্টের একটি গবেষক দল। পরে দেশব্যাপী রোড শো, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গে নিবিড় পরামর্শ, ব্যবসায়িক আইন বিশেষজ্ঞ ও বাণিজ্যিক অংশীজনদের মতামতের মাধ্যমে তা সমৃদ্ধ হয় বলে সেমিনারে উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নও গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি সহায়তা দিয়েছে। পরবর্তী সময়ে আইন মন্ত্রণালয়ের আরো পরীক্ষণ-পরিমার্জনের পর খসড়াটি এখন চূড়ান্ত আইনগত রূপ পেয়েছে।’
সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সাংবিধানিক স্বচ্ছতার ভিত্তিতে গত দেড় বছরে বিচার ব্যবস্থায় যে মৌলিক রূপান্তর সাধিত হয়েছে, তা দেশের বিচারিক ইতিহাসে এক মাইলফলক বলে মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ এক নতুন প্রাতিষ্ঠানিক যুগে প্রবেশ করেছে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণয়নের মাধ্যমে বহুদিনের দ্বৈত প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা দূর হয়েছে। সেই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট প্রথমবারের মতো পূর্ণ প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বায়ত্তশাসন লাভ করেছে। এর ফলে বিচার বিভাগ এখন নিজস্বভাবে পদসৃজন, বাজেট বরাদ্দ, প্রশিক্ষণ উন্নয়ন, নীতিমালা প্রণয়নসহ বিচার সংস্কারকে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ধারা হিসেবে এগিয়ে নেয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে।’
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘খসড়া আইনটিতে বাণিজ্যিক বিরোধের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা, পর্যাপ্তসংখ্যক বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার বিধান, হাইকোর্ট বিভাগে পৃথক আপিল বেঞ্চ, বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা, সীমিত মুলতবি, সারসংক্ষেপ বিচার, মামলার পরিসংখ্যানের স্বচ্ছ প্রকাশ এবং বিচারক-আইনজীবীদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের মতো আধুনিক বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার; ঢাকার সুইডিশ দূতাবাসের রাজনৈতিক, বাণিজ্য ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান অলি লুন্ডিন; কানাডার রাষ্ট্রদূত অজিত সিং; সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস এবং ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
এছাড়া ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা।


