খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব তুলে ধরে সরকারি ডকুমেন্টারি প্রকাশ
ডিসেম্বর ৫, ২০২৫
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে চেতনানাশক খাইয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার তিনজন রিমান্ডে
ডিসেম্বর ৫, ২০২৫
খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব তুলে ধরে সরকারি ডকুমেন্টারি প্রকাশ
ডিসেম্বর ৫, ২০২৫
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে চেতনানাশক খাইয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার তিনজন রিমান্ডে
ডিসেম্বর ৫, ২০২৫

সন্ত্রাসী ইয়াছিনের সহযোগী থানায় মামলা করলো দুই জুলাই যোদ্ধার নামে, ভুলে ভরা এজাহার

চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ২ থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন ইসমাইল হোসেন, যিনি মাইকেল বাবু নামে পরিচিত। আদালত ২৫ নভেম্বর তার জামিন মঞ্জুর করলে তিনি পরদিন ২৬ নভেম্বর কারাগার থেকে বের হন। কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার হলো—কারাগারে থাকা অবস্থায় অর্থাৎ ২৩ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে আবারও চার লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা হয়। অভিযোগকারী মো. হাসান নামের ব্যক্তি এই মামলা করেন।

এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানা ছাত্রদল নেতা মো. শাহীন ৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। তার অভিযোগ, সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের কুখ্যাত সন্ত্রাসী মো. ইয়াছিন বিভিন্ন সময় হত্যাসহ ডাকাতি, অপহরণ, ধর্ষণ, পাহাড় কাটা, অস্ত্র– এসব মামলার আসামি হলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছে না। উল্টো ইয়াছিনের ইশারায় ছাত্রদল ও যুবদল নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে।

শাহীন জানান, তিনি গত বছরের ১৮ জুলাই বহদ্দারহাট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়া একজন স্বীকৃত জুলাই যোদ্ধা এবং পাঁচলাইশ থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তার ভাই ফাহিমও জুলাই যোদ্ধা। তারা অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন ধরে তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে মিথ্যা মামলার ফাঁদ পেতে চলেছে।

শাহীন আরও জানান, সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে ইয়াছিনের সহযোগী মো. হাসান ২৩ নভেম্বর খুলশী থানায় মামলা করেন। মামলায় বলা হয়, ১৮ নভেম্বর বিকেলে সলিমপুর মসজিদের সামনে তার কাছে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। অথচ এর আগে ১৯ নভেম্বর ডিবি উত্তরে দেওয়া অভিযোগে ঘটনাস্থল হিসেবে একই জায়গা উল্লেখ করা হলেও ২০ নভেম্বর সিএমপি কমিশনারের কাছে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, ঘটনা ঘটেছে নগরের বায়েজিদ থানাধীন এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটির সামনে। তিন দিনে তিন বক্তব্য—যা অভিযোগের বড় অসঙ্গতি বলে দাবি করেন শাহীন।

তিনি বলেন, মামলায় ইসমাইল হোসেনকে আসামি করা হয়েছে, যিনি তখন কারাগারে ছিলেন—এ বিষয়টি প্রমাণ করার মতো নথিও তাদের কাছে আছে।

এ ছাড়াও শাহীন দাবি করেন, ৭ সেপ্টেম্বর টেকনিক্যাল মোড় এলাকায় নয়জন অস্ত্রধারীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে তাকে জড়ানো হয়। কিন্তু ভিডিওতে তার উপস্থিতি নেই। যারা ভিডিওতে ছিলেন তাদের শনাক্ত করে তদন্ত ও কললিস্ট, লোকেশনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার দাবি জানান তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মামলায় মো. হাসান নিজেকে স্কেভেটর অপারেটর দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি ইয়াছিনের সেকেন্ড ইন কমান্ড। স্কেভেটরের মালিকও তিনি নন, বরং ইয়াছিনের ছেলে রাসেল মালিক। জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড় কেটে প্লট বিক্রির কাজে ইয়াছিনের বহু স্কেভেটর ব্যবহৃত হয়। ‘আলী নগর বহুমুখী সমবায় সমিতি’ নামে তিনি সেখানে আবাসিক প্রকল্পের আড়ালে সন্ত্রাসী ঘাঁটি পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শাহীন দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে ও তার ভাইকে হয়রানি করতে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি এসব ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *