
এরই মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডা. এ জেড এম জাহিদ। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে আজকে মধ্যরাত কিংবা আগামীকাল সকালের মধ্যে কাতারের রয়েল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে যুক্তরাজ্যে নেয়া হবে। এরই মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডা. এ জেড এম জাহিদ। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের বাইরে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, দেশী-বিদেশী চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা ইনশাআল্লাহ কাতার এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে আজকে মধ্যরাতের পর বা আগামীকাল সকালে লন্ডনে নিয়ে যাবো। ওনার সঙ্গে দেশের ও দেশের বাইরের বেশ কয়েক জন চিকিৎসক সঙ্গে যাবেন। কাতারের আমিরের বিশেষ বিমান ‘রয়েল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স’ এ উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ত্যাগ করবেন খালেদা জিয়া। ডা. জাহিদ দেশবাসীর কাছে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চেয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং খালেদা জিয়ার পরিবার থেকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
ডিসেম্বর ৪, ২০২৫
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশী নিহত
ডিসেম্বর ৫, ২০২৫আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পুলিশকে নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এ নির্বাচনকে বিশ্বের বুকে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে তৈরির আহ্বানও জানান তিনি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পুলিশকে নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এ নির্বাচনকে বিশ্বের বুকে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে তৈরির আহ্বানও জানান তিনি। গতকাল প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় নির্বাচনকালীন পুলিশের দায়িত্ব পালনসংক্রান্ত ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। বৈঠকে এসপিদের পাশাপাশি অতিরিক্ত ডিআইজি, ডিআইজি ও অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া দশম শ্রেণীর ছাত্র শাহরিয়ার খান আনাসকে স্মরণ করতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আনাস মিছিলে যোগ দেয়ার আগে তার মায়ের কাছে যে চিঠি লিখেছিল, তার একটি অংশ উদ্ধৃত করার সময় ড. ইউনূসের চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।
‘আমি স্বার্থপরের মতো বসে থাকতে পারি না। আমি যদি ফিরতে না পারি, তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিও’—আনাসের লেখা চিঠির এ অংশটুকু উদ্ধৃত করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘তার (আনাস) কথাই আমাদের দায়িত্ব নির্ধারণ করে। আমরা নিষ্ক্রিয় থাকতে পারি না। আনাস যেভাবে বলেছিল কাপুরুষের মতো বসে থাকতে চায় না, আমরাও বসে থাকতে চাই না। তার স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। সেটিই আমাদের দায়িত্ব।’
বৈঠকে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের ঝুঁকি ও প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ, হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াসমিন খাতুন ও জামালপুরের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মোহাম্মদ জাবের। তাদের বক্তব্য শোনার পর ড. ইউনূস বলেন, ‘অতীতের নির্বাচনগুলো আমরা সবাই দেখেছি। কেউ প্রহসনের নির্বাচন বলে, কেউ বলে প্রতারণা আর তামাশার নির্বাচন। সেখান থেকে বেরিয়ে অনেক ওপরে উঠে আমাদের একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে হবে। সেই পরিবর্তন নিয়ে আসাই পুলিশ বাহিনীর বড় দায়িত্ব।’
তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচন সবার জন্য একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব। এ দায়িত্বকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে ভূমিকা রাখতে হবে। এবারের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া এ নির্বাচন। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম। আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে সেই স্বপ্নকে আমরা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাব।’
প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, যা আগামীর বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। গণভোটের মধ্য দিয়ে আমরা যে নতুন ভিত্তি পাব সেটা শতবর্ষ ধরে এ জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। নির্বাচনে বিদেশ থেকে অনেক প্রতিনিধি দল, নির্বাচন পর্যবেক্ষক আসবেন। তারা যেন নির্বাচনকে একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত হিসেবে সারা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারেন, সে লক্ষ্যে পুলিশ সুপারদের কাজ করে যেতে হবে।’
ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার। একই দিনে রাষ্ট্র সংস্কারে গণভোটও হবে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি গুছিয়ে আনতে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে কমিশন বলেছে, চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল দেয়া হবে।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর করার ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের উদ্যোগী ও সৃজনশীল হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘সব কথা তো কাগজে লিখে দেয়া যায় না। দায়িত্ব পালনের সময় আপনারা চিন্তা করবেন, কীভাবে কাজটি আরো সুন্দরভাবে করা যায়।’ পুলিশ সদস্যদের কাজের মান উন্নত করতে এবং কাজে আনন্দ বাড়াতে জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। এক্ষেত্রে পুরস্কার প্রদানের ব্যবস্থা করা যায় বলেও তিনি পরামর্শ দেন।


