একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে ইএমই সদস্যদের সেনাপ্রধানের আহ্বান
নভেম্বর ২৬, ২০২৫
কড়াইলে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধান উপদেষ্টা
নভেম্বর ২৬, ২০২৫
একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে ইএমই সদস্যদের সেনাপ্রধানের আহ্বান
নভেম্বর ২৬, ২০২৫
কড়াইলে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধান উপদেষ্টা
নভেম্বর ২৬, ২০২৫

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন অধ্যায় শুরু করতে প্রস্তুত ফ্রান্স: ফরাসি রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো ক্ষেত্রগুলোতে দুই দেশের স্বার্থ ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় ফ্রান্স বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন অধ্যায় শুরু করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শারলে।

মঙ্গলবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত এ অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রদূত সেরে-শারলে বলেন, ঐতিহাসিক জাতীয় নির্বাচনের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ এখন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান করছে। এ মুহূর্তটি ফ্রান্স ও বাংলাদেশের অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার উপযুক্ত সময়।

চলতি মাসের শুরুর দিকে দায়িত্ব নেওয়া ফরাসি রাষ্ট্রদূত জানান, ফ্রান্সের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে বাংলাদেশের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ ফরাসি নাগরিক বসবাস করেন, যা ফ্রান্সের মোট জনসংখ্যার প্রায় তিন শতাংশ।

তিনি বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক হলো উন্মুক্ততা ও অবাধ চলাচলের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা অঞ্চল। বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ফ্রান্স এখানে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার বড় সুযোগ দেখছে।

রাষ্ট্রদূত জানান, আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সম্পন্ন হবে বলে ফ্রান্স আশা করছে। জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজনের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ উপকৃত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপের কিছু দেশ নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রেক্ষাপটে সংগঠিত বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা ও সামাজিক বিভাজনের চেষ্টার মুখোমুখি হয়েছে। বাংলাদেশকেও এমন ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হতে পারে।

অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত সেরে-শারলে বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য দেখিয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে ফ্রান্স বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) উত্তরণ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা জোরদার করবে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করবে।

তিনি বলেন, এই উত্তরণ যেন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে ফ্রান্স সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ফ্রান্সকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম ও আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গৃহীত প্রস্তুতির বিষয়ে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।

তিনি বলেন, ‌আপনার দায়িত্ব গ্রহণ এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অধ্যাপক ইউনূস গণতন্ত্র, মানবাধিকার, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় পদক্ষেপ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নসহ অগ্রাধিকারমূলক বিষয়ে ফ্রান্সের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার আগে একাধিকবার ফ্রান্স সফর এবং বিভিন্ন ফরাসি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের নিবিড় সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *