
মেট্রোরেলের সব কর্মীর ছুটি বাতিল
নভেম্বর ১০, ২০২৫
রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন তারেক রহমান
নভেম্বর ১০, ২০২৫
গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে আইসিডিডিআর,বি এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এর সহযোগিতায়, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এর অর্থায়নে। এতে বাংলাদেশের দুটি টারশিয়ারি লেভেল হাসপাতাল থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
নবজাতকদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) ‘ক্যান্ডিডা অরিস’ নামের এক ধরনের ছত্রাক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এটি একধরনের ‘ফাঙ্গাল সুপারবাগ’, যা হাসপাতাল-সম্পর্কিত সংক্রমণের (এইচএআই) নতুন উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি মাইক্রোবায়োলজি স্পেকট্রাম জার্নালে প্রকাশিত আইসিডিডিআর,বি এর এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে আইসিডিডিআর,বি এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এর সহযোগিতায়, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এর অর্থায়নে। এতে বাংলাদেশের দুটি টারশিয়ারি লেভেল হাসপাতাল থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যান্ডিডা অরিস এমন এক ধরনের ছত্রাক, যা মানুষের ত্বকে কোনো উপসর্গ ছাড়াই অবস্থান করতে পারে ও দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে। প্রায় ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে এ অবস্থান সংক্রমণে পরিণত হয়। সাধারণত এটি রক্তের মতো জীবাণুমুক্ত অঙ্গে প্রবেশ করে, যা রোগটিকে প্রাণঘাতী করে তোলে।
বিশ্বব্যাপী অনুন্নত ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে ক্যান্ডিডা অরিসজনিত সংক্রমণে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মৃত্যুর হার প্রায় ৭০ শতাংশ। দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, গুরুতর অসুস্থতা ও অপরিণত নবজাতকদের জন্য এ সংক্রমণ বিশেষভাবে বিপজ্জনক। ফলে এনআইসিইউতে ভর্তি অনেক নবজাতকই উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে।
ছত্রাকটি প্রায়ই একাধিক অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের প্রতিরোধী হয়। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি ২০১৯ সালে একে ‘অতি জরুরি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স হুমকি’ হিসেবে ঘোষণা করে। দীর্ঘ সময় হাসপাতালে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিতে এটি টিকে থাকতে পারে ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এসব কারণে ক্যান্ডিডা অরিসকে হাসপাতাল-সম্পর্কিত ‘সুপারবাগ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
২০২১ সালের আগস্ট থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকার একটি সরকারি ও একটি বেসরকারি হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি ৩৭৪ জন নবজাতকের ওপর এ গবেষণা পরিচালিত হয়। ভর্তি হওয়ার সময় ও পরবর্তী পর্যায়ে নবজাতকদের ত্বক ও রক্তে ছত্রাকটির উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়।
গবেষণাতে ৩৭৪ জন নবজাতকের মধ্যে ৩২ জনের (৯ শতাংশ) ত্বকে ক্যান্ডিডা অরিস পাওয়া যায় এবং একজনের ( দশমিক ৩ শতাংশ) রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়ে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৪ জন (৪৪ শতাংশ) ভর্তি হওয়ার সময়ই আক্রান্ত ছিল এবং ১৮ জন (৫৬ শতাংশ) ভর্তি হওয়ার পর সংক্রমিত হয়। ভর্তি হওয়ার সময় আক্রান্ত ১৪ জনের মধ্যে ১৩ জন অন্য হাসপাতাল বা প্রসূতি ওয়ার্ড থেকে স্থানান্তরিত হয়েছিল, কেবল একজন এসেছিল বাড়ি থেকে।
সংক্রমিত ৩২ জনের মধ্যে ৭ জন (২২ শতাংশ) মারা যায়, যার মধ্যে রক্তে সংক্রমিত নবজাতকও ছিল। ফলাফল থেকে বোঝা যায়, এনআইসিইউর ভেতরে ক্যান্ডিডা অরিস সংক্রমণ নিয়মিত ঘটছে। কারণ আক্রান্তদের অর্ধেকের বেশি ভর্তি হওয়ার পর সংক্রমিত হয়েছে।
এই ফলাফল আইসিডিডিআর,বি এর আরেকটি সাম্প্রতিক গবেষণার সঙ্গে মিলে যায়, যেখানে দেখা গেছে নতুনভাবে ভর্তি কোনো রোগীর শরীরে ক্যান্ডিডা অরিস পাওয়া যায়নি। এতে প্রমাণিত হয়, এই ছত্রাকটি মূলত হাসপাতালের ভেতরে টিকে থাকে ও সেখান থেকেই ছড়ায়।
বর্তমান গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যান্ডিডা অরিস এর ৩টি (৯ শতাংশ) নমুনা একাধিক ওষুধের প্রতিরোধী, আর ৮২ শতাংশ ফ্লুকোনাজোল প্রতিরোধী। ফ্লুকোনাজোল হলো রক্তে ছত্রাকজনিত সংক্রমণের প্রথম সারির ওষুধ।
গবেষণায় আরো দেখা যায়, যেসব নবজাতকের শরীরে ক্যান্ডিডা অরিস পাওয়া গেছে, তাদের ৮১ শতাংশের জন্ম সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হয়েছিল। গবেষকদের ধারণা, সিজারিয়ান ডেলিভারির পর হাসপাতালে দীর্ঘ সময় অবস্থানের ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
আইসিডিডিআর,বি এর সংক্রামক রোগ বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী ও এএমআর রিসার্চ ইউনিটের প্রধান ডা. ফাহমিদা চৌধুরী বলেন, নবজাতকদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে এই ‘সুপারবাগ’ এর উপস্থিতি উদ্বেগজনক। এটি গুরুতর অসুস্থ শিশুদের জন্য বড় হুমকি তৈরি করছে। তিনি বলেন, এই গবেষণার ফল প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আইসিডিডিআর,বি এর এনআইসিইউতে কাজ করছেন মেডিকেল কর্মীরা। ছবি: আইসিডিডিআর,বি
গবেষকরা এনআইসিইউ ও অন্যান্য হাসপাতালের পরিবেশে এ ছত্রাকের বিস্তার রোধে নিয়মিত ক্লোরিনভিত্তিক জীবাণুনাশক ব্যবহার এবং যন্ত্রপাতি ও ব্যবহার্য জিনিস পরিষ্কার রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের হাত ধোয়ার অভ্যাস আরো উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন।
তারা আরো বলেছেন, এনআইসিইউতে ক্যান্ডিডা অরিস সংক্রমণের ওপর নিয়মিত নজরদারি চালানো জরুরি। এতে সংক্রমিত নবজাতকদের দ্রুত শনাক্ত করে আলাদা রাখা, সংক্রমণ ছড়ানো ঠেকানো ও দ্রুত চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হবে।


