নারায়ণগঞ্জে নাহিদ ইসলাম এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি
নভেম্বর ৬, ২০২৫
চাঁদাবাজ ও জুলাই সনদের বিপক্ষে যারা গিয়েছে তাদের সাথে জোট করবো না: হাসনাত
নভেম্বর ৬, ২০২৫
নারায়ণগঞ্জে নাহিদ ইসলাম এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি
নভেম্বর ৬, ২০২৫
চাঁদাবাজ ও জুলাই সনদের বিপক্ষে যারা গিয়েছে তাদের সাথে জোট করবো না: হাসনাত
নভেম্বর ৬, ২০২৫

নির্বাচনের সময় ১ লাখ পর্যন্ত সদস্য মোতায়েন করবে সেনাবাহিনী

সরকারের রূপরেখা অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সহায়তা করতে ৯০ হাজার থেকে এক লাখ পর্যন্ত সদস্য মোতায়েন করবে সেনাবাহিনী। দেশের নির্বাচন ইতিহাসে যা হবে সর্বোচ্চ সেনা মোতায়েনের রেকর্ড।

সরকারের রূপরেখা অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সহায়তা করতে ৯০ হাজার থেকে এক লাখ পর্যন্ত সদস্য মোতায়েন করবে সেনাবাহিনী। দেশের নির্বাচন ইতিহাসে যা হবে সর্বোচ্চ সেনা মোতায়েনের রেকর্ড। ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মিলিটারি অপারেশনস বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, ‘যখনই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয় আসে, তখনই নজরদারি করা হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অন্য সব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করে। একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সরকারের যে ইচ্ছা ও গাইডলাইন দেয়া আছে এবং নির্বাচন কমিশন যে পরিপত্র প্রকাশ করবে সে অনুযায়ী সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’

আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধান দেখা করেছেন। কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এরই মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পূর্বশর্ত হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকা। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন স্বাভাবিক থাকে সে লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর। সেনাবাহিনীকে যখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য নিয়োজিত করা হয়, তখন থেকেই আমরা আমাদের সর্বাত্মক দিয়ে চেষ্টা করছি।’

নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলা, উপজেলা ও আসন পর্যায়ে সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। এ তথ্য জানিয়ে মিলিটারি অপারেশনস বিভাগের পরিচালক বলেন, ‘আমরা ৯০ হাজার থেকে এক লাখ সদস্য মাঠপর্যায়ে মোতায়েন করব, যেটা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। আমাদের পরিকল্পনায় আছে জেলা পর্যায়ে, উপজেলা পর্যায়ে এমনকি আসনভিত্তিক ক্যাম্প স্থাপন করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতায় যা যা প্রয়োজন সবকিছু করার জন্য আমরা সদা প্রস্তুত থাকব।’

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, সদর দপ্তর আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (জিওসি আর্টডক) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমানও। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে দেশের স্থিতিশীলতা আরো দৃঢ় হবে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে। আমরা যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গত ১৫ মাস দায়িত্ব পালন করেছি, তা একেবারেই সহজ ছিল না।’

বাংলাদেশ প্রতিদিন এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় না উল্লেখ করে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান বলেন, ‘আমরাও চাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। আশা করি নির্বাচন হলে দেশের স্থিতিশীলতা আরো ভালো হবে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে আরো স্বাভাবিক হবে এবং সেনাবাহিনী তখন সেনানিবাসে ফিরে যেতে পারবে। আমরা সেদিকেই তাকিয়ে আছি।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাবাহিনীকে ঘিরে প্রচারিত বিভিন্ন গুজব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কিছু স্বার্থান্বেষী চক্র সেনাবাহিনীর নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও সাজানো অপপ্রচার চালিয়েছে। আমি আপনাদের নিশ্চিত করতে চাই, সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য সেনাপ্রধান ও সিনিয়র লিডারশিপের প্রতি শতভাগ অনুগত। যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন সেনাবাহিনী আরো ঐক্যবদ্ধ, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং ভ্রাতৃত্ববোধে দৃঢ়। সেনাবাহিনী দেশের জনগণের বাহিনী; তাই জনগণের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় দায়িত্ব সেনাবাহিনী পালন করে যাবে।’

সরকার এখন পর্যন্ত নির্বাচনের যে রূপরেখা প্রণয়ন করেছে তার ওপর ভিত্তি করে সেনাবাহিনী যথাযথ প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এখন সীমিত আকারে চলছে। তার মধ্যে নির্বাচনের সময় আমাদের কী করণীয়, সেটাকে ফোকাসে রেখেই প্রশিক্ষণ করছি।’

১৫ মাস ধরে সেনাসদস্যদের একটি অংশ ব্যারাকের বাইরে থাকায় প্রশিক্ষণ বিঘ্নিত হচ্ছে জানিয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর বলেন, ‘নির্বাচন পর্যন্ত বা তার কিছুটা পরও বাইরে থাকতে হবে। এতে করে আমাদের প্রশিক্ষণ বিঘ্নিত হচ্ছে। সেনাবাহিনীর দায়িত্ব হলো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেয়া। আমরা বলে থাকি—“উই ট্রেইন অ্যাজ উই ফাইট”।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *