পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ ঝুঁকি সম্পর্কে অবহিত হয়েছে আইএমএফ
নভেম্বর ৬, ২০২৫
নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি
নভেম্বর ৬, ২০২৫
পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ ঝুঁকি সম্পর্কে অবহিত হয়েছে আইএমএফ
নভেম্বর ৬, ২০২৫
নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি
নভেম্বর ৬, ২০২৫

ডিএসইর সঙ্গে বিএপিআইয়ের নির্বাহী কমিটির বৈঠক নীতি ধারাবাহিকতা থাকলে পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরবে

পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ফিরিয়ে আনতে নীতি, আইন ও বিধিমালায় ঘন ঘন পরিবর্তন বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা উচিত নয়।

পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ফিরিয়ে আনতে নীতি, আইন ও বিধিমালায় ঘন ঘন পরিবর্তন বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা উচিত নয়। সরকারের উচিত বিনিয়োগ সম্পর্কিত নীতিমালাগুলো স্থিতিশীল রাখা ও কোনো বিষয়ে পরিবর্তন আনা হবে না তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা। নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেই বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব।

সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সঙ্গে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির (বিএপিআই) নির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ মন্তব্য করেন সমিতির সভাপতি এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল মুক্তাদির।

বিএপিআই সভাপতি বলেন, ‘‌বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে পুঁজিবাজারকে আরো গতিশীল ও আস্থাশীল করতে বিনিয়োগযোগ্য অর্থের সরবরাহ, নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং কর কাঠামোর সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে পাবলিক ও প্রাইভেট কোম্পানির কর-হার প্রায় সমান হওয়ায় তালিকাভুক্তির প্রণোদনা কমেছে। পাবলিক কোম্পানিগুলোর জন্য কর সুবিধা নিশ্চিত করলে আরো বেশি প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে আসবে।’

বৈঠকে ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘‌দেশের পুঁজিবাজারকে কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রোথ-ওরিয়েন্টেড করার লক্ষ্যে ডিএসই একটি রূপান্তর প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ‌আইপিও অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুততর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে ডিএসই একটি স্বচ্ছ, দক্ষ ও প্রাণবন্ত পুঁজিবাজার গড়ে তুলবে, যা দেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

ডিএসই পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন তার বক্তব্যে বলেন, ‘‌বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে, তবুও অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়। ভালো উদ্যোক্তারা যদি বাজারে না আসে, তবে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলো সুযোগ নেবে।’

ডিএসই পরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুজ্জামান (অব.) বলেন, ‘‌বিশ্বের বড় ওষুধ কোম্পানি তাদের দেশের স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত। এটি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আস্থার প্রতীক। বাংলাদেশেও এখন সেই সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

ডিএসই পরিচালক রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, ‘‌ডিএসই কাঠামোগত পরিবর্তনের পথে রয়েছে। আগস্টের পর চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা থেমে থাকিনি। সবকিছু রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়। যত বেশি মানুষ পুঁজিবাজারে যুক্ত হবেন এবং যত বেশি বড় কোম্পানি তালিকাভুক্ত হবে, পরিবর্তন তত দ্রুত হবে।’

রেনাটা পিএলসির সিইও ও এমডি সৈয়দ এস কায়সার কবির তার বক্তব্যে বলেন, ‘‌লিস্টিংয়ের মূল সুবিধা হলো আন্তর্জাতিক বাজারে কোম্পানির স্বীকৃতি বৃদ্ধি। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে নির্ভরযোগ্য মনে করে। তবে কোম্পানিগুলোকে এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে যাতে সব শেয়ারহোল্ডার উপকৃত হন।’

বাংলাদেশ ল্যাম্পস পিএলসির এমডি ও সিইও সিমিন রহমান বলেন, ‘‌উচ্চ সুদের হার ও মুদ্রার অবমূল্যায়নে ব্যবসায়ীরা চাপের মধ্যে রয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন রাইট ইস্যু বা বড় উদ্যোগ নেয়া উপযুক্ত নয়, তবে ভবিষ্যতে অবস্থা অনুকূল হলে তা পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে। ইতিবাচক পরিবর্তন ও ভোক্তাকেন্দ্রিক উদ্যোগ ভবিষ্যতে বাজারকে আরো প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক করে তুলবে।’

এছাড়া বৈঠকে ডিএসইর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত এমডি মোহাম্মদ আসাদুর রহমান, ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের এমডি ও বিএপিআই সেক্রেটারি জেনারেল ড. মো. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ এগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান ও হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও মোহাম্মদ হালিমুজ্জামান বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *