জেএসডির আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল বিশ্বাসঘাতকতা করেছে সরকার ও ঐকমত্য কমিশন
নভেম্বর ১, ২০২৫
হাসিনার সাক্ষাৎকারে হতাশ কলকাতার আওয়ামী লীগ নেতারা
নভেম্বর ১, ২০২৫
জেএসডির আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল বিশ্বাসঘাতকতা করেছে সরকার ও ঐকমত্য কমিশন
নভেম্বর ১, ২০২৫
হাসিনার সাক্ষাৎকারে হতাশ কলকাতার আওয়ামী লীগ নেতারা
নভেম্বর ১, ২০২৫

সিম ব্যবহারে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান নবম অর্ধকোটি সিম বন্ধ হচ্ছে আজ

সাইবার নিরাপত্তা, বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আগামী নির্বাচনের আগে সিম ব্যবহারের অপব্যবহার ঠেকাতে ব্যক্তিগত মোবাইলের সিমকার্ড ব্যবহার কমিয়ে আনতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

সাইবার নিরাপত্তা, বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আগামী নির্বাচনের আগে সিম ব্যবহারের অপব্যবহার ঠেকাতে ব্যক্তিগত মোবাইলের সিমকার্ড ব্যবহার কমিয়ে আনতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি প্রতি ১০টির বেশি সিম ব্যবহার করতে পারবেন না কোনো গ্রাহক।

আজ থেকে অতিরিক্ত সিম বন্ধ করে দিতে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি। ফলে বন্ধ হতে পারে অন্তত ৫০ লাখের বেশি সিমকার্ড। আগামী বছর গ্রাহকপ্রতি নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা আরো কমিয়ে পাঁচটিতে নিয়ে পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে সিম ব্যবহারে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। যেখানে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো।

অক্টোবরে বিটিআরসির সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যমতে দেশে বর্তমানে মোবাইল সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের ৮ কোটি ৫৯ লাখ, রবি আজিয়াটার ৫ কোটি ৭৫ লাখ, বাংলালিংকের ৩ কোটি ৭৯ লাখ এবং টেলিটকের ৬৬ লাখ ৭০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে সিম ব্যবহারকারী সংখ্যা ছিল ১৮ কোটি ৯৯ লাখ। ২০২৩-এর অক্টোবরে ১৮ কোটি ৯৬ লাখ, ২০২২ সালে এ সময়ে ১৮ কোটি ১৬ লাখ, ২০২১ সালে ১৮ কোটি ১৩ লাখ। গত ১০ বছরে সিম ব্যবহারকারী সংখ্যা বেড়েছে সাড়ে পাঁচ কোটি। ২০১৫ সালে দেশে সিম ব্যবহারকারী গ্রাহক ছিলেন ১৩ কোটি ৩৭ লাখ। যেটি পাঁচ বছরে অর্থাৎ ২০২০-এ বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ কোটিতে।

দেশে সিম ব্যবহারের অপব্যবহার ঠেকাতে সিম বন্ধ করে দেয়ার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। তার অংশ হিসেবে গত আগস্টে এক ব্যক্তির নামে ১০টির অধিক সিম থাকলে অতিরিক্ত সিম ৩০ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারের মাধ্যমে নিজ দায়িত্বে বাতিল (ডি-রেজিস্ট্রার) বা মালিকানা পরিবর্তনে নোটিস দেয় বিটিআরসি। সংস্থাটির একটি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে ২৬ কোটি ৬৩ লাখ নিবন্ধিত সিম রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১৯ কোটি সিম সক্রিয় রয়েছে। এ সংখ্যা ২০ কোটির বেশি হবে। বাকি সিমগুলো নিবন্ধিত কিন্তু নিষ্ক্রিয়। গত আগস্ট পর্যন্ত সক্রিয় এক ব্যক্তির ১০টির বেশি সিম ছিল ৬৭ লাখ। গত তিন মাসে প্রায় ১৫ লাখ সিম গ্রাহক স্বেচ্ছায় বাতিল করেছেন। বাকি রয়েছে ৫০-৫৩ লাখ সিম। সেগুলো যেহেতু তিন মাসেও বাতিল করা হয়নি তাই সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের মাধ্যমে বাতিল করা হবে।

এ বিষয়ে বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘‌আমরা তিন মাস সময় দিয়েছিলাম ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে, কিন্তু যেসব গ্রাহক এটি করেন নাই তাদের সক্রিয় সিম ডি-রেজিস্ট্রেশন করা হবে। কালকে (আজ) কি পরিমাণ সিম ডি-রেজিস্ট্রেশন হয়নি সেটা দেখে বাতিল করা হবে।’

বিশ্বজুড়ে অর্থনীতি, শিল্প ও আর্থিক ডাটা, সূচক, চার্ট ও পূর্বাভাস সরবরাহ করে সিইআইসি। তাদের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে সক্রিয় মোবাইল সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যায় বাংলাদেশের অবস্থান নবম। বাংলাদেশের ১৮ কোটি ৭৯ লাখ সিম ব্যবহার হচ্ছে। চীনে সর্বোচ্চ ১৬১ কোটি সিম ব্যবহার করে মানুষ। এছাড়া ভারতে ১৫১ কোটি, ইন্দোনেশিয়ায় ৩৮ কোটি ৫৫ লাখ, যুক্তরাষ্ট্রে ৩৮ কোটি, ব্রাজিলে ২৮ কোটি, রাশিয়ায় ২৫ কোটি ৬১ লাখ, পাকিস্তানে ১৯ কোটি ৬০ লাখ এবং নাইজেরিয়ায় ১৯ কোটি সিম ব্যবহার হয়। বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে জাপান (১৪ কোটি ৬৪ লাখ), জার্মানি (১০ কোটি ৭০ লাখ), যুক্তরাজ্য (৮ কোটি), দক্ষিণ কোরিয়া (পাঁচ কোটি), কানাডা (তিন কোটি) এবং অস্ট্রেলিয়ায় (২ কোটি ৫৭ লাখ) মোবাইল সিম ব্যবহার করে মানুষ।

জাতীয় নির্বাচন কমিশন অনুযায়ী দেশে এনআইডির সংখ্যা ১২ কোটি ৬৩ লাখ। সিম ব্যবহার করে এমন এনআইডির সংখ্যা হচ্ছে ৭ কোটি ৪৮ লাখ, যার বিপরীতে সিম রয়েছে ২৬ কোটির অধিক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রামীণ পর্যায়ে মানুষের অসচেতনতা, ১৮ বছর বয়সের নিচের মোবাইল ব্যবহারকারী ও দুষ্কৃতকারীরা অপব্যবহার করতে অনেক সিম নিয়ে থাকে। সেখানে অসচেতন মানুষের এনআইডি, বায়োমেট্রিক ব্যবহার করে। আবার অনেক সময় অপারেটররা বেশি লাভের আশায় এখানে-সেখানে নানা অফার দেখিয়ে সিম বিক্রি করে, যার কারণে সিমের সংখ্যা বেড়েছে।

এ বিষয়ে সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌বর্তমানে গ্রাহকপ্রতি ১০টির ওপরে সিম ছিল ৬৭ লাখ। এর মধ্যে গত ১৫ তারিখ পর্যন্ত ১৪ লাখ সিম স্বেচ্ছায় গ্রাহকরা ফেরত দিয়েছেন। বাকি ৫৩ লাখের মধ্যে গত ১৫ দিনে আরো প্রায় ৩ লাখ সিম এসেছে। ফলে ৫০ লাখের সিমের নিবন্ধন বাতিল করা হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *