
নির্বাচন সঠিক সময়ে না হলেও সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোট আগে দিতে হবে : আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের
অক্টোবর ২৯, ২০২৫
জলবায়ু সম্মেলনের আগে রিওতে রক্তক্ষয়ী পুলিশি অভিযান, নিহত অন্তত ৬৪
অক্টোবর ২৯, ২০২৫নেতিবাচক সংস্কৃতি তৈরি করে রেখে যাওয়ার জন্য হয়তো ভবিষ্যতে এ সরকারকে (অন্তর্বর্তী সরকার) মনে করা হবে। সেটা হচ্ছে নানা দাবিদাওয়া আদায়ের জন্য প্রতিনিয়ত মহাসড়ক, রেল লাইন অবরোধ করে জনভোগান্তি তৈরি করা হচ্ছে। তবে আমি আশা করি, এসব অবরোধ সংস্কৃতিতে পরিণত হবে না।
৯০-এর দশকে দাবি দাওয়া আদায়ে গাড়ি ভাংচুরের একটি সংস্কৃতি ছিল এখন সেটি অবরোধের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এমন নেতিবাচক সংস্কৃতি ভবিষ্যতে অন্তর্বর্তী সরকারকে মনে করাতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
বুধবার পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘সামাজিক অগ্রগতি সম্পর্কে যুব দৃষ্টিভঙ্গি: তৃণমূল, নেটওয়ার্ক এবং নেতৃত্বের কণ্ঠস্বর’ শীর্ষক এক জাতীয় সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন তরুণদের মধ্যে একটি মানসিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে যে নৃশংসতা তারা দেখেছে সেটা এ বিপর্যয়ের একটি কারণ হতে পারে। তার জন্য তরুণদের মধ্যে একটি অস্থিরতা রয়েছে। নেতিবাচক সংস্কৃতি তৈরি করে রেখে যাওয়ার জন্য হয়তো ভবিষ্যতে এ সরকারকে (অন্তর্বর্তী সরকার) মনে করা হবে। সেটা হচ্ছে নানা দাবিদাওয়া আদায়ের জন্য প্রতিনিয়ত মহাসড়ক, রেল লাইন অবরোধ করে জনভোগান্তি তৈরি করা হচ্ছে। তবে আমি আশা করি, এসব অবরোধ সংস্কৃতিতে পরিণত হবে না। এটারও একটা ভাল দিক আছে। আগে অর্থাৎ ৯০ এর দশকে রাস্তায় যত গাড়ি আছে সেগুলো ভাংচুর করা হতো, এখন সে ভাংচুরের সংস্কৃতি চলে গেছে, অবরোধের সংস্কৃতি এসেছে। আশা করি এটা আমরা কাটিয়ে ওঠতে পারবো। এখন এ সংস্কৃতি তৈরি হওয়ার কারণ মানুষের বহুদিনের বঞ্চনার পুঞ্জিভূত ক্ষোভ। এটা চলে যাবে। আমি আশাবাদী যে, দেশ আবার স্থির হবে।
শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের জন্য মৌলিক বিষয় ঠিক করতে হবে বলে মনে করেন সরকারের এ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘দেশে শিক্ষিত বেকার সমস্যা অনেক বড় সমস্যা। শিক্ষায় এতো বেশি পচন ধরেছে যে মৌলিক জিনিসগুলো ঠিক না করলে সমস্যার সমাধান হবে না। রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়। শুধু শিক্ষা কমিশন গঠন করলেই হবে না। অতীতে তিনটা শিক্ষা কমিশন হয়েছে, সেগুলো কাজে আসে নাই। তাদের সুপারিশগুলো তো দেখা যেতে পারে। এখন নতুন করে কমিশন করে কয়েকজনকে দায়িত্ব দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থা ঠিক করে দিতে বললে হবে না, এটা তাদের জন্য প্রেশার হয়ে যাবে।’
এ সময় তরুণদের উদ্দেশে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘২০২৪ সালের ছাত্রজনতার গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার পতনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে, যেখানে পরিবর্তনের মূল চালিকা শক্তি ছিল তরুণরা। দেশকে তরুণরাই স্বৈরাচারমুক্ত করেছে এবং তারা সচেতন যে, আর কেউ যেন স্বৈরাচার হয়ে ওঠতে না পারে। বাংলাদেশ হবে সুশাসিত, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। নিজেদের যোগ্য ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশ গঠনের দায়িত্বও নিতে হবে তাদের। এছাড়া তরুণদের মধ্যে নৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা তৈরি হয়েছে। তাদের মধ্যে কিছু একটা করার শক্তি তৈরি হয়েছে। তরুণদের থেকে একটি বুদ্ধিদীপ্ত, শিক্ষিত, যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। এটা রাজনীতির মাধ্যমে হবে। এছাড়া আরেকটি হচ্ছে নিজেদের উদ্যোগে উদ্যোক্তা হওয়া। যেগুলো দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেবে।’
এসময় পরিকল্পনা উপদেষ্টা তরুণদের শুধু আন্দোলন নয়, ক্লাসে ফিরে গিয়ে নিয়মকানুন মেনে শিক্ষিত হওয়ার পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে পিপিআরসির চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘তরুণরা সমাজের বড় একটি অংশ। তরুণরা বলতে ১৮-৩০ পর্যন্ত বয়স একটি বড় গোষ্ঠী। তরুণ বলতে কোনো একক গোষ্ঠী নয়। বয়সের পার্থক্য থাকলেও সংখ্যাটা অনেক বড়। বাংলাদেশকে ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক সমাজ তৈরি করতে হলে তরুণদের অংশগ্রহণ ও কথা বলার সুযোগ থাকতে হবে। সেসকল তরুণদের চিন্তা ভাবনা, একটি গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে তাদের ধারণাগুলো তুলে আনতে তিন বছরের ‘অর্থবহ যুব ভবিষ্যৎ: অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ’ নামে একটি প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় তরুণদের নিয়ে গবেষণা করা, মানসম্মত জরিপ, অবজারভেশন এথনোগ্রাফি, তারুণ্য ক্যাম্প এবং তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কাজ করবে। এছাড়া একটি তরুণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে যেখানে সকল খাতে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই হবে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।’
অনুষ্ঠানে যুব কর্মসূচীতে প্রজন্মগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা করেন অধ্যাপক সৈয়দ এম হাশেমী, গবেষক আলতাফ পারভেজ, নারী হিসেবে এভারেস্ট বিজয়ী প্রথম বাংলাদেশ নিশাত মজুমদার, নারী অধিকারকর্মী উমামা জিল্লুর।
এছাড়া আরেক অধিবেশনে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক উদ্যোক্তা তানিম নূর এবং জাতীয় স্কাউট আন্দোলন এম.এম. ফজলুল হক আরিফ উপস্থিত ছিলেন।


