
কমিশনের সুপারিশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ উপেক্ষা, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা—মির্জা ফখরুল
অক্টোবর ২৯, ২০২৫
‘নেতিবাচক সংস্কৃতির জন্য হয়তো ভবিষ্যতে অন্তর্বর্তী সরকারকে মনে করা হবে’
অক্টোবর ২৯, ২০২৫আবদুল্লাহ তাহের বলেন, ‘জুলাই সনদ তো একটা সংস্কারও। সুতরাং দুটোকে একসঙ্গে জুড়ে দেয়াটা এটা আমরা কোনোভাবেই সঠিক মনে করি না। আমরা মনে করি একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট হওয়া উচিত নয়। অনতিবিলম্বে গণভোটের তারিখ ঘোষণা করতে হবে।
জাতীয় নির্বাচন কোনো কারণে পিছিয়ে গেলেও গণভোট আগে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঠিক সময়ে হবে। তবে নির্বাচন কোনো কারণে সঠিক সময়ে না হলেও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন যেন না পেছায়, সে জন্য আগে গণভোট করতেই হবে।’
বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে আবদুল্লাহ তাহের এ দাবি জানান। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির নেতাদের সঙ্গে কমনওয়েলথের ‘ইলেকটোরাল সাপোর্ট’ শাখার উপদেষ্টা ও ‘প্রি-ইলেকশন অ্যাসেসমেন্ট’ প্রধান লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজের নেতৃত্বাধীন সফররত প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে এ ব্রিফিং করা হয়। বৈঠকে কমনওয়েলথ প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন দিনুষা পণ্ডিতরত্ন, ন্যান্সি কানিয়াগো, সার্থক রায় ও ম্যাডোনা লিঞ্চ। জামায়াতের পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ প্রমুখ।
আবদুল্লাহ তাহের বলেন, ‘জুলাই সনদ তো একটা সংস্কারও। সুতরাং দুটোকে একসঙ্গে জুড়ে দেয়াটা এটা আমরা কোনোভাবেই সঠিক মনে করি না। আমরা মনে করি একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট হওয়া উচিত নয়। অনতিবিলম্বে গণভোটের তারিখ ঘোষণা করতে হবে।
আবদুল্লাহ তাহের বলেন, ঐকমত্য কমিশন নির্বাচনের দিন বা এর আগে গণভোটের সুপারিশ করেছে সরকারের কাছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটই সঠিক সিদ্ধান্ত। কারণ, গণভোট হবে সংস্কারপ্রক্রিয়ার ওপর। আর জাতীয় নির্বাচন হবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নির্ধারণের জন্য। দুটোর চরিত্র আলাদা। এনসিসির (জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল) বিষয়ে সরকারকে দ্রুত একটি আদেশ দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন নায়েবে আমির। বলেন, সরকার যেন এ বিষয়ে আর সময়ক্ষেপণ না করে। এ আদেশের পরেই গণভোট হবে।
জামায়াতের এ নেতা বলেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তারিখ ঘোষণা হলে মাসের শেষ দিকে গণভোট হতে পারে। কারণ, এতে জাতীয় নির্বাচনের মতো সময় লাগবে না। খুব বেশি খরচও হবে না। গণভোটের সময় ভোটারের ঢেউ লেগে যাবে বলে মন্তব্য করেন আবদুল্লাহ তাহের। তিনি বলেন, গণভোটে সংস্কার বিষয়ে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোই ভোটার নিয়ে আসবে।


