ড্রাইভিং লাইসেন্সে বাধ্যতামূলক হচ্ছে ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ
অক্টোবর ২৩, ২০২৫
এক দশকের মধ্যে দেশে দৈনিক সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড চলতি বছর
অক্টোবর ২৩, ২০২৫
ড্রাইভিং লাইসেন্সে বাধ্যতামূলক হচ্ছে ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ
অক্টোবর ২৩, ২০২৫
এক দশকের মধ্যে দেশে দৈনিক সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড চলতি বছর
অক্টোবর ২৩, ২০২৫

বরিশাল বিভাগে বাড়ছে জলাতঙ্ক, নয় মাসে আক্রান্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষ

বরিশাল বিভাগে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে কুকুর-বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড়-আঁচড়ে আক্রান্তের সংখ্যা।

বরিশাল বিভাগে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে কুকুর-বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড়-আঁচড়ে আক্রান্তের সংখ্যা। বিভাগের ছয় জেলায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে জলাতঙ্ক রোগ। পোষা প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত বাড়ায় দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। চলতি বছরের গত ৯ মাসেই বিভাগটিতে ১০ হাজার ৮৫১ জন জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সম্প্রতি ঝালকাঠিতে কাজী মনিরুজ্জামান মান্না নামে এক যুবক জলাতঙ্কে মারা গেছেন। এ ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের মাঝে ভীতি বেড়েছে। অবশ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, সংক্রামক এ রোগ থেকে রক্ষা পেতে ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে সচেতনতার বিকল্প নেই। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি বরিশাল জেলায়। গত ৯ মাসে এ জেলায় জলাতঙ্ক আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩ হাজার ৮৭৭ জন। আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভোলা। উপকূলীয় এ জেলাটিতে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ হাজার ৬৭১ জন। এর পরই রয়েছে বরগুনা। সেখানে আক্রান্তর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩৫ জনে। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে পটুয়াখালী। সাগরকূলের এ জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১১৭ জন। তবে পিরোজপুরে আক্রান্তের হার কিছুটা কম। সেখানে নয় মাসে জলাতঙ্কের চিকিৎসা নিয়েছেন ৯৯৪ জন। বিভাগটির মধ্যে সবচেয়ে কম আক্রান্ত হয়েছে ঝালকাঠিতে। সেখানে ৭৬৩ জন জলাতঙ্ক আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

সরজমিন বরিশাল সদর জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিতে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন রোগীরা। প্রতিদিন ২৫০-৩০০ রোগী ভ্যাকসিন নিচ্ছেন।

বরিশাল নগরীর কাশীপুরের শিক্ষার্থী বাইজিদ (১৪) বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে ভ্যাকসিন নিতে এসেছে। সদর উপজেলার করাপুর গ্রামের শিশু সিয়াম (৬) নিচ্ছে প্রথম ডোজ। নবগ্রাম রোডের শিশু মাঈদা (৪) প্রিয় বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে বিড়ালের কামড়ে আক্রান্তের সংখ্যাই বেশি। হাসপাতালে ভ্যাকসিন সংকট না থাকলেও মাঝে মধ্যে সরবরাহে কিছুটা বিলম্ব হয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা।

পরিসংখ্যান বলছে, জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্তদের তিন ডোজ ভ্যাকসিনের মধ্যে প্রথম ডোজ সবাই নিলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় ডোজ নেয়ার সংখ্যা তুলনামূলক কম। গত জানুয়ারির তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত রোগী ছিল ২ হাজার ১৭৪ জন। এর মধ্যে ২ হাজার ১৭৪ জনই প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েছেন। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ১ হাজার ৭৫৪ জন। আর তৃতীয় ডোজ নিয়েছেন ১ হাজার ৫২৮ জন। একইভাবে ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ৭৯৫ জন জলাতঙ্ক রোগীর মধ্যে সবাই প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েছেন। তবে দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ১ হাজার ৭৪০ জন। আর তৃতীয় ডোজ নিয়েছেন ১ হাজার ৫৬৯ জন। এভাবে প্রতি মাসে জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত এক-তৃতীয়াংশ রোগী দ্বিতীয় ও তৃতীয় ডোজ নিচ্ছেন না।

এ ব্যাপারে বরিশাল সদর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অনেকেই পোষা প্রাণী রাখেন, কিন্তু তাদের ভ্যাকসিন দেন না। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই মানুষকে সচেতন হতে হবে। নিজে বাঁচুন, সমাজকেও বাঁচান।’

জলাতঙ্কে আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে সুস্থ ব্যক্তি র‌্যাবিস ভাইরাসে সংক্রমিত হয়। ধীরে ধীরে এ ভাইরাস প্রান্তীয় স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। ফলে গলবিল ও খাদ্যনালির মাংসপেশির কাজ নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুও আক্রান্ত হয়। সাধারণত কামড়ানোর দুই-তিন মাসের মধ্যে জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। তবে এ সময়সীমা এক সপ্তাহ থেকে এক বছর পর্যন্তও হতে পারে।

জলাতঙ্কে আক্রান্ত ব্যক্তি পানি দেখলে ভয় পায়। পানি বা খাবার গিলতে তাদের কষ্ট হয়। পিপাসা পেলেও পানি দেখলেই আতঙ্কিত ও ভীত হয়ে পড়ে। আলো-বাতাসের সংস্পর্শে এলে এ ভীতি আরো বেড়ে যায়। তাদের আচরণেও কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। খিঁচুনিসহ মুখ থেকে অতিরিক্ত লালা নিঃসৃত হয়। বিনা প্ররোচনায় অন্যকে আক্রমণ বা কামড় দেয়ার প্রবণতা দেখা যায়। চিকিৎসা না পেলে এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুও হতে পারে। এ অঞ্চলটিতে জলাতঙ্কে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। ফলে সচেতনতা, সময়মতো ভ্যাকসিন গ্রহণ ও পোষা প্রাণীর টিকাদানই এখন সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সার্বিক বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শ্যামল কৃঞ্চ মণ্ডল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জলাতঙ্ক প্রতিরোধে নিয়মিত ভ্যাকসিন কার্যক্রম চালু রয়েছে। আক্রান্ত হলে দ্রুত নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে হবে। তাছাড়া আমাদের ভ্যাকসিন কার্যক্রম জোরদার রয়েছে। পোষা প্রাণীদের বছরে অন্তত একবার টিকা দেয়া বাধ্যতামূলক। জলাতঙ্কের রোধে গণসচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানো প্রয়োজন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *