
বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন প্রাথমিক ক্ষতির পরিমাণ ১২ হাজার কোটি টাকা: এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন
অক্টোবর ২০, ২০২৫
ভোটের মাঠে থাকবে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ সেনা: ইসি সচিব
অক্টোবর ২০, ২০২৫অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মহাপরিচালক নবপদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানান।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে নবপদোন্নতিপ্রাপ্ত উপজেলা প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষিকাদের র্যাংক ব্যাজ পরিধান অনুষ্ঠানে কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
রোববার (১৯ অক্টোবর) সকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মোট ১০৪ জন উপজেলা প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষিকাকে সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মহাপরিচালক নবপদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সেবায় নিয়োজিত প্রত্যেকের মনে রাখতে হবে যে সবার পারিশ্রমিক আসে জনগণের অর্থ থেকে। তাই দায়িত্ব পালনের প্রতিটি মুহূর্তে সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে। নিজের মাতৃভূমিকে সমুন্নত রাখা সবার অঙ্গীকার হওয়া উচিত।
দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে মহাপরিচালক রাষ্ট্রের প্রতি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়বদ্ধতা, মাঠ প্রশাসনে বাহিনীর কার্যকারিতা, দুর্যোগকালীন সময়ে সদস্যদের আত্মনিবেদন ও রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণে বাহিনীর অবদান তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের আনসার বাহিনী আজ জাতির কাছে অনন্য মর্যাদা অর্জন করেছে। দেশের মাটির প্রতি ভালোবাসা ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত করতে হলে জানতে হবে আমরা অতীতে কোথায় ছিলাম, বর্তমানে কোথায় আছি ও ভবিষ্যতে কোন পথে এগোতে চাই। এ আত্মচেতনা ও লক্ষ্যই বাহিনীর অগ্রযাত্রার প্রেরণা হবে।
মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, বাহিনীর কাঠামোকে আরও কার্যকর, গতিশীল ও শক্তিশালী করতে হলে মাঠ পর্যায়ের প্রত্যেক সদস্যকে নিজের যোগ্যতা ও নিষ্ঠার সর্বোচ্চ প্রকাশ ঘটাতে হবে। তাহলেই বাহিনীর গ্রহণযোগ্যতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং দেশসেবার দায়িত্ব আরো ফলপ্রসূ হবে।
দুর্যোগকালীন সময়ে আনসার বাহিনীর তাৎক্ষণিক সাড়া প্রদানের বিষয়েও বক্তব্য দেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, যে কোনো দুর্যোগ বা বিপর্যয়ের সময় প্রথম সাড়া দেয়ার দায়িত্ব আনসার বাহিনীর। তাই প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়িত্ববোধে পরিপূর্ণ ও ইতিবাচক মনোভাবে কাজ করতে হবে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, রাষ্ট্রীয় জানমাল রক্ষায় আনসার সদস্যদের সাহসিকতা ছিল প্রশংসনীয়। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের সংকটে ঝাঁপিয়ে পড়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায় মহাপরিচালক বলেন, নতুন বাংলাদেশের চাহিদা অনুযায়ী গণপ্রতিরক্ষা বাহিনী হিসেবে আনসার ও ভিডিপির ভূমিকা আরো জোরালো হবে। রাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে সংগতি রেখে বাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতাকে আরো শাণিত করাই হবে অগ্রগতির পথ।
অনুষ্ঠানের শেষে তিনি বলেন, বাহিনীর প্রতি জনগণের যে আস্থা তৈরি হয়েছে, সেটি সযত্নে রক্ষা করতে হবে। তাহলেই বাহিনীর লক্ষ্য ও প্রত্যাশা সফলভাবে পূরণ হবে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফিদা মাহমুদ, উপমহাপরিচালক (প্রশাসন) কর্নেল মো. ফয়সাল আহাম্মদ ভূঁইয়া, উপমহাপরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল্লাহ রাসেল, উপমহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. রফিকুল ইসলাম, উপমহাপরিচালক (ঢাকা রেঞ্জ) মো. আশরাফুল আলমসহ সদর দপ্তরের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


