১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি
অক্টোবর ১৯, ২০২৫
‘জুলাই যোদ্ধা’ বিতর্ক নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ
অক্টোবর ১৯, ২০২৫
১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি
অক্টোবর ১৯, ২০২৫
‘জুলাই যোদ্ধা’ বিতর্ক নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ
অক্টোবর ১৯, ২০২৫

ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন বর্তমানে দলের তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষিত, সজ্জন ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতার পাশাপাশি তিনি ৫ আগস্টের পর থেকে সকল অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন এবং তার অনুসারীদেরও এসব কাজ থেকে বিরত রাখতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন। এজন্যই দলের হাই কমান্ডের কাছে তিনি এখন ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে পরিচিত।

 

নগর উত্তর বিএনপির গত তিনটি কমিটিতেই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন। সভাবসূলভ ভঙ্গি, কঠোর অবস্থান, জনপ্রিয়তা ও জনদরদী বক্তব্যের জন্য তিনি দলের কর্মী-সমর্থকদের কাছে বেশ পরিচিত মুখ। গত এক বছরে ভিন্নধারার বক্তব্য কৌশল গ্রহণ করে শ্রোতাদের মন জয় করেছেন তিনি। স্থানীয়দের মতে, ধানের শীষ প্রতীকে তার প্রার্থীতা নিশ্চিত হলে বৃহত্তর উত্তরার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতি আসবে।

 

দক্ষিণখানের মোল্লা বাড়ীর এই কৃতি সন্তান ছাত্রদলের রাজনীতির গোড়াপত্তন করেন এ অঞ্চলে। বৃহত্তর উত্তরার ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে জাতীয়তাবাদী ধারার রাজনীতির সূচনা হয় তার হাত ধরে। পরবর্তীতে তিনি বিমানবন্দর থানা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। নগর বিএনপির কাইয়ুম-হাসান কমিটিতে সহ-সভাপতি, আমান-আমিনুল কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সর্বশেষ আমিনুল-মোস্তফা কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

 

স্থানীয় নেতারা জানান, আপাদমস্তক একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে সেগুনের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। পেশায় একজন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার ও সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও তিনি সুপরিচিত। নির্বাচনী রাজনীতিতে তার হাতেখড়ি ঘটে উত্তরার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়ে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় অনুষ্ঠিত সেই নির্বাচনে তিনি সর্বাধিক ভোট পেলেও নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের কারসাজিতে বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তখন সেগুনের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় প্রতিদ্বন্দ্বীরা একাধিকবার হামলার ঘটনাও ঘটায়।

 

স্থানীয়দের দাবি, এবারের নির্বাচনে যদি মোস্তাফিজ সেগুন ধানের শীষের টিকিট পান, তাহলে মডেল টাউন, দক্ষিণখান, উত্তরখানসহ পুরো এলাকায় তার বিপুল জনসমর্থন ভোটের মাঠে বড় প্রভাব ফেলবে। ক্লিন ইমেজ, ভালো চরিত্র ও ব্যক্তিগত যোগ্যতা এখন নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, আর এই তিনটি গুণই সেগুনের মধ্যে বিদ্যমান। গত ১৮ বছরে দলের প্রতি তার ত্যাগ, নিষ্ঠা ও রাজপথে সরাসরি অংশগ্রহণ তাকে দলের একজন বিশ্বস্ত সৈনিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

 

নিজের মনোনয়ন প্রসঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন বলেন,

 

“আমি পলিটিক্যাল ক্যানভাসারের মতো স্লোগান বা ব্যক্তিস্তুতির মানুষ নই। আমি শুধু বলতে চাই, ঢাকা-১৮ আসন থেকে নির্বাচন করতে চাই। আমার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যদি আমাকে তার প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন দেন এবং ধানের শীষের প্রতীক দেন, তাহলে এই আসনটিই ধানের শীষের সর্বোচ্চ ভোটের আসন হবে। এর বাইরে অযথা কিছু বলার নাই আমার।”

 

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনভিত্তির কারণে আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন বিএনপির একটি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে উঠে আসতে পারেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *