শান্তিতে নোবেল ভেনিজুয়েলার মারিয়া কোরিনা মাচাদোর
অক্টোবর ১১, ২০২৫
নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দেশে ফিরছেন তারেক রহমান
অক্টোবর ১১, ২০২৫
শান্তিতে নোবেল ভেনিজুয়েলার মারিয়া কোরিনা মাচাদোর
অক্টোবর ১১, ২০২৫
নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দেশে ফিরছেন তারেক রহমান
অক্টোবর ১১, ২০২৫

বিধ্বস্ত গাজায় ফিরছে বাস্তুচ্যুতরা, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার শুরু

ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুমোদনের পর গাজার উল্লেখযোগ্য অংশ থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু হয়েছে।

ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুমোদনের পর গাজার উল্লেখযোগ্য অংশ থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু হয়েছে। এ খবরের পর বাস্তুচ্যুত হাজারো ফিলিস্তিনি পরিবার পশ্চিমাঞ্চলের অস্থায়ী আশ্রয় ছেড়ে গাজার মূল এলাকায় ফিরতে শুরু করেছে, যেখান থেকে তাদের জোর করে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুই বছরের যুদ্ধে অন্তত ১৮ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। যুদ্ধের তীব্রতায় গাজার অবকাঠামো প্রায় সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত, ৯০ শতাংশ ভবন আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে, ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে হাসপাতাল ও স্কুলগুলো। ফলে যারা ফিরছে, তারা মূলত ধ্বংসস্তূপেই ফিরে যাচ্ছে। এছাড়া অধিকাংশ নাগরিকের কাছে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির কোনো স্থায়ী উৎস নেই বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবিক দপ্তর (ওসিএইচএ)। বিশেষ করে উত্তর গাজার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। রাস্তায় ছড়িয়ে আছে ভাঙা কংক্রিট আর অবিস্ফোরিত গোলা, যার কারণে ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণের কাজও শুরু করা কঠিন হবে। ফলে যারা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ফিরছে, তাদের অনেককেই পানি, খাবার ও চিকিৎসার ভয়াবহ সংকটে পড়তে হবে বলে মনে করছে বিভিন্ন সংস্থা ও বিশ্লেষকরা।

 

এদিকে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কয়েকটি ব্রিগেড ও ডিভিশনকে গাজার কেন্দ্রীয় অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় নুসেইরাত আশ্রয় শিবির থেকে ফিলিস্তিনিরা উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে তারা এখনো নেতজারিম করিডোরে প্রবেশ করতে পারেনি, যেখানে আগে ইসরায়েলি সেনারা অবরোধ করে রেখছিল। ওই অঞ্চল থেকে ইসরায়েলের শেষ ট্যাংকটি চলে যাওয়ার পর তারা সেখানে প্রবেশ করতে চায়।

তবে ভোর থেকেই আকাশে ইসরায়েলি ড্রোন, যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজের তৎপরতা বেড়েছে। সকালে যেসব স্থানে মানুষ বাড়ি ফেরার আশায় জড়ো হয়েছিল, সেসব জায়গায় নতুন হামলার খবর এসেছে। আল-আহলি হাসপাতালের সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে গাজা সিটির বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলাবর্ষণের খবর এসেছে দক্ষিণের খান ইউনিস থেকেও। গাজার সিভিল ডিফেন্স টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জনগণকে সতর্ক করে জানিয়েছে, যেসব এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী এখনো অবস্থান করছে, সেখানে যেন কেউ না যায়। আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের ঘোষণা এবং কর্তৃপক্ষের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত গাজা সিটির সীমান্তবর্তী এলাকায় কাউকে না যেতে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে ওই বিবৃতিতে।

দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় মিসরের শার্ম আল শেখে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে তিনদিনের পরোক্ষ আলোচনার পর বৃহস্পতিবার একটি চুক্তি হয়। আলোচনায় অংশ নেন মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, মিসর, কাতার ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা।

শুক্রবার প্রথম প্রহরে ইসরায়েলি সরকার চুক্তির প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের অনুমোদন দেয়। এতে সংঘাত বন্ধের পাশাপাশি ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি এবং গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ খুলে দেয়ার কথা রয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী অনুমোদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী ‘ইয়েলো লাইন’ পর্যন্ত পিছু হটবে। গাজায় হামলা বন্ধ হবে এবং মানবিক সহায়তা বহনকারী ট্রাক প্রবেশ করতে পারবে। অন্যদিকে হামাস ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ২০ জন জীবিত জিম্মি ও ২৮ জনের মৃতদেহ ফেরত দেবে। এর বিনিময়ে ইসরায়েল প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে—যার মধ্যে ২৭০ জন দণ্ডপ্রাপ্ত এবং বাকি ১ হাজার ৭০০ জন বিনাবিচারে আটক ছিল। তাদের মধ্যে রয়েছে ২২ জন কিশোর। এছাড়া গাজার ৩৬০ জন যোদ্ধার মৃতদেহও ফেরত দেবে ইসরায়েল।

চুক্তি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে মার্কিন সেনাবাহিনী ২০০ সদস্যের একটি টাস্কফোর্স মোতায়েন করবে, তবে তারা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রবেশ করবে না।

গাজার যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে মার্কিন সেনাবাহিনী দুইশ সেনার একটি টাস্কফোর্স মোতায়েন করবে। তবে তারা ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের ভেতরে ঢুকবে না।

হামাসের নির্বাসিত গাজাপ্রধান খলিল আল-হায়া বলেছেন, যুদ্ধ যে শেষ হয়েছে সে ব্যাপারে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে নিশ্চয়তা পেয়েছেন।

গাজা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী দুই বছরের ইসরায়েলি হামলায় ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়েছে ওই অঞ্চল, দেখা দিয়েছে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।

বন্দি-জিম্মি বিনিময় কার্যকর হওয়ার মধ্যেই খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা বহন করা অসংখ্য ট্রাকের গাজায় প্রবেশ করার কথা রয়েছে। এ সহায়তার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে গাজার লাখ লাখ মানুষ, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়ে যাদের বেশির ভাগই এখন বিভিন্ন তাঁবুতে আশ্রয় নিয়ে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *