
ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে সম্মত ইসরায়েল-হামাস
অক্টোবর ৯, ২০২৫
দলীয় প্রতীক ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এনসিপির বৈঠক
অক্টোবর ৯, ২০২৫উপদেষ্টা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য এখন এক কঠিন বাস্তবতা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অভিযোজন আমাদের জীবনের অংশ হলেও এর প্রভাবের তীব্রতা ও ঘনত্ব আজ মানুষের সীমা অতিক্রম করেছে। শুধুমাত্র বাংলাদেশকে ‘সহনশীল সমাজ’ হিসেবে উপস্থাপন করা মানবাধিকারের প্রতি অবিচার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা ও জ্বালানি রূপান্তরে বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরো সক্রিয় সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘টিম ইউরোপ ইনিশিয়েটিভ–ক্লাইমেট অ্যান্ড এনার্জি’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
এ সময় পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও অতিথিরা যৌথভাবে ‘টিম ইউরোপ ইনিশিয়েটিভ–ক্লাইমেট অ্যান্ড এনার্জি’ এর উদ্বোধন করেন।
উপদেষ্টা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য এখন এক কঠিন বাস্তবতা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অভিযোজন আমাদের জীবনের অংশ হলেও এর প্রভাবের তীব্রতা ও ঘনত্ব আজ মানুষের সীমা অতিক্রম করেছে। শুধুমাত্র বাংলাদেশকে ‘সহনশীল সমাজ’ হিসেবে উপস্থাপন করা মানবাধিকারের প্রতি অবিচার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, কেবল অভিযোজনই যথেষ্ট নয়, যদি বৈশ্বিক নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হয়। ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে বাংলাদেশ কেবল অভিযোজন দিয়ে টিকে থাকতে পারবে না বলে সতর্ক করেন তিনি।
পরিবেশ উপদেষ্টা জানান, জ্বালানি রূপান্তরের জন্য দৃষ্টিভঙ্গি, প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য। বাংলাদেশ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে ইউরোপের প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সাশ্রয়ী অর্থায়নের সহায়তা এখন প্রয়োজন।
তিনি পানি নিরাপত্তা সংকটের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস ও পৃষ্ঠস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত চাপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জলাভূমি পুনরুদ্ধার ও প্রাকৃতিক সমাধানে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লট্জ, ইউরোপীয় কমিশনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক ও জলবায়ু অর্থায়ন পরিচালক ডায়ানা আক্কোনচিয়া বক্তব্য দেন। এছাড়া নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল, ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও তরুণ কর্মীরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


