যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ফারাবী জামিনে মুক্ত
আগস্ট ২২, ২০২৫
ডিবি পরিচয়ে বাস থামিয়ে টাকা লুট, গ্রেপ্তার মূলহোতা
আগস্ট ২৩, ২০২৫
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ফারাবী জামিনে মুক্ত
আগস্ট ২২, ২০২৫
ডিবি পরিচয়ে বাস থামিয়ে টাকা লুট, গ্রেপ্তার মূলহোতা
আগস্ট ২৩, ২০২৫

চলন্ত বাসে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, চালক ও হেলপারের কারাদণ্ড

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক ছাত্রীকে চলন্ত বাসে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সেন্ট মার্টিন পরিবহন বাসের চালক ও চালকের সহকারীকে (হেলপার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অজামিনযোগ্য দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২২ আগস্ট) সকালে ৯টার দিকে সেন্ট মার্টিন পরিবহন একটি বাসে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ওই ছাত্রীর সঙ্গে এ ঘটনা ঘটলে গ্রেপ্তারের পর এই অজামিনযোগ্য কারাদণ্ড দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- হোসেন আলী (২৫) এবং আলী হোসেন (২৩)। তাদের একজন বাসটির চালক এবং অপরজন চালকের সহকারী।

এর আগে, এই ঘটনার প্রতিবাদে কুমিল্লার কোটবাড়ী বিশ্বরোড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় সেন্ট মার্টিন পরিবহনের দুটি বাস জব্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যান তারা।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে কোটবাড়ী বিশ্বরোড থেকে সেন্ট মার্টিন বাসে ওঠেন ওই ছাত্রী। বাসটি পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে ইউটার্ন নেওয়ার কথা বলা থাকলেও তাকে নিয়ে বাসটি চৌদ্দগ্রামের দিকে চলে যায়। এরপর সুয়াগাজী নামক স্থানে গিয়ে ইউটার্ন নিয়ে পুনরায় পদুয়ার বাজার আসে। সেসময় বাসে বাসটির চালক, সহকারীসহ পাঁচজন ছিলেন। বাসে একা পেয়ে ওই ছাত্রীর গলায় ছুরি ধরে গহনা, টাকা-পয়সা নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তারা। ভুক্তভোগী ছাত্রীর হাতে কামড় দেন অভিযুক্তরা। এরপর হাত-পা বেঁধে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে সেই ছাত্রীর অনুরোধে ফেলে না দিয়ে শাকিল আবাসিক হোটেল নিয়ে আসে তারা। পদুয়ার বাজারের স্থানীয় এক ব্যক্তি ঘটনা আঁচ করতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খবর দিলে শিক্ষার্থীরা গিয়ে ভুক্তভোগীকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেন এবং বাসে থাকা দুজনকে আটক করেন।

এ সময় জড়িত অন্য তিনজন পালিয়ে যান। পরে শিক্ষার্থীরা ৯৯৯ ফোন দিলে পুলিশ আসে। শিক্ষার্থীরা বাস মালিক এবং অভিযুক্ত বাকি দুইজনকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসার দাবি জানান। পুলিশ শিক্ষার্থীদের দাবি মানতে অস্বীকৃতি জানালে দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের দাবি না মানায় ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি ঠান্ডা করার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আলোচনায় বসে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযুক্তদের দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। বাকিদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার মামলা করবে বলে নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)  রুবাইয়া খানম বলেন, শিক্ষার্থীদের এসেই আমি প্রস্তাব দিয়েছিলাম মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার বিষয়ে। শিক্ষার্থীরা শুরুতে আমার কথায় কর্ণপাত করেনি। অবশেষে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি মেনে নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম বলেন, গ্রেপ্তার দুইজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলী বলেন, ন্যাক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জানাই। ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের আইনি সহায়তা করা হবে বলে জানান তিনি।

Old
Old

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *