
নিজে গাড়ি চালিয়ে রাজধানী পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী
আগস্ট ১, ২০২৬
মরক্কো থেকে স্পেনের সিউতায় ঢুকতে অভিবাসীর ঢল, নিহত অন্তত ৫৭
আগস্ট ১, ২০২৬রাজধানীর ক্রমবর্ধমান যানজট নিরসনে মেট্রোরেলের পাশাপাশি মনোরেলভিত্তিক গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এরই অংশ হিসেবে ঢাকায় পাঁচটি মনোরেল নির্মাণের সুপারিশ করেছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। প্রস্তাবিত প্রকল্পের প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। সমীক্ষার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দিয়ে দুটি রুট চূড়ান্ত করা হবে। পরবর্তী সময়ে অর্থায়ন, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শেষে ২০২৯ সালের মধ্যে অন্তত দুটি মনোরেল চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিটিসিএর কর্মকর্তারা জানান, প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় বুয়েটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানও যুক্ত করা হবে। এক্ষেত্রে ফ্রান্স ও মালয়েশিয়ার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। মনোরেল নির্মাণে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগাতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ করবে বুয়েট। এ সময় সম্ভাব্য রুটগুলোর কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবহনগত কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি রুটে সম্ভাব্য যাত্রীসংখ্যা, নির্মাণ ব্যয়, বাস্তবায়ন কৌশল এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনাও মূল্যায়ন করা হবে। সমীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য পাঁচটি রুটের মধ্যে চিহ্নিত করা হবে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দুটি রুট। তবে কেবল রুট নির্ধারণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না এ সমীক্ষা। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সামনে প্রকল্পের সার্বিক সম্ভাবনা তুলে ধরতে একটি প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবও (প্রিলিমিনারি ডিপিপি) তৈরি করবে বুয়েট।
সমীক্ষাকাজে নিয়োজিত বুয়েট পরামর্শক দলের কার্যক্রম সমন্বয় করছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান। মনোরেল পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঢাকার যেসব এলাকায় ভারী মেট্রোরেল নির্মাণ করা বাস্তবসম্মত নয়—বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ ও সরু রাস্তার অঞ্চলগুলোকে মূল গণপরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতেই মনোরেলের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এটি মেট্রোরেলের বিকল্প নয়, বরং একটি ফিডার বা পরিপূরক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।’
ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (ইউআরএসটিপি) পাঁচটি মনোরেল লাইনের প্রস্তাব থাকলেও চলমান সমীক্ষায় প্রয়োজনে আরো দুই-তিনটি সম্ভাব্য করিডোর যুক্ত করে মূল্যায়ন করা হবে। প্রতিটি রুটের ক্ষেত্রে যাত্রীর চাপ বা রাইডারশিপ, জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা, মেট্রোরেলের সঙ্গে সংযোগ এবং বাস্তবায়নের সুযোগ বিশ্লেষণ করা হবে।’
inside-metro.jpg
এ পরামর্শক আরো বলেন, ‘ইউআরএসটিপিতে মনোরেলের জন্য পৃথক রাইডারশিপ বিশ্লেষণ করা হয়নি। এই প্রথম আমরা বৈজ্ঞানিকভাবে যাত্রীসংখ্যার পূর্বাভাস দেব। একই সঙ্গে মনোরেল চালু হলে বিদ্যমান ও ভবিষ্যৎ মেট্রোরেল লাইনের যাত্রীসংখ্যায় কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, সেটাও মূল্যায়ন করা হবে।’
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পাঁচটি মনোরেল রুট হলো বিমানবন্দর থেকে জলসিঁড়ি-পূর্বাচল (মনোরেল ১), বিমানবন্দর থেকে সাভার (মনোরেল ২), মোহাম্মদপুর থেকে পোস্তগোলা (মনোরেল ৩), মধ্য বাড্ডা থেকে ভুলতা (মনোরেল ৪) ও রামপুরা থেকে ডেমরা (মনোরেল ৫)।
ডিটিসিএ সূত্রে জানা গেছে, রুটগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে মেট্রোরেল কভারেজের বাইরে থাকা জনবহুল এলাকাগুলো দ্রুত মূল ট্রানজিট নেটওয়ার্কের আওতায় আসে। বিশেষ করে পুরান ঢাকা, মোহাম্মদপুর, রামপুরা, ডেমরা, পূর্বাচল, ভুলতা ও সাভারের মতো এলাকায় যাতায়াত সহজ হবে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর ও নতুন গড়ে ওঠা আবাসন অঞ্চলগুলোর মধ্যেও দ্রুত সংযোগ তৈরি হবে।
জানতে চাইলে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা আপাতত দুটি রুটকে অগ্রাধিকার দিয়ে এগোচ্ছি। বুয়েট প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ করছে। পাশাপাশি ফ্রান্স ও মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক পরামর্শকদের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে তারা একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেবে। সে প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এগিয়ে নেয়া হবে।’
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ নগরীতে মনোরেলের বড় সুবিধা হলো এর কাঠামো তুলনামূলক সরু। একক কংক্রিট বা স্টিল গার্ডার এবং ছোট পিলার ব্যবহার করে নির্মাণ করা যায় বলে জমি অধিগ্রহণ কম লাগে। ফলে নির্মাণকাজে নগরের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্নও কম ঘটে। এছাড়া বিদ্যুচ্চালিত রাবার চাকার প্রযুক্তির কারণে এর শব্দ ও কম্পন প্রচলিত রেল ব্যবস্থার চেয়ে অনেক কম।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মনোরেলের সফলতা নির্ভর করবে এটি কত সঠিকভাবে মেট্রোরেল, বিআরটি ও বাস নেটওয়ার্কের সঙ্গে সমন্বিত করা যায় তার ওপর। কেননা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, পৃথক পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে নয়, বরং সমন্বিত নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে পরিচালিত হলেই মনোরেল সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়।


