
পাঁচ রুট নিয়ে পরিকল্পনা, সমীক্ষার দায়িত্বে বুয়েট ঢাকায় ২০২৯ সালের মধ্যে অন্তত দুটি মনোরেল চালু করতে চায় সরকার
আগস্ট ১, ২০২৬
বাঙ্কারিং নীতিমালায় আসছে বড় পরিবর্তন মেরিন ফুয়েল আমদানির সুযোগ পাচ্ছে বেসরকারি খাত
আগস্ট ১, ২০২৬স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিউতায় মরক্কো থেকে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার অভিবাসীর ঢল নেমেছে। সীমান্তে এ নজিরবিহীন অনুপ্রবেশে পদদলিত হওয়া, পানিতে ডুবে যাওয়া ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় অন্তত ৫৭ জন নিহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে স্পেন। একই সময়ে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীও সীমান্তে কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করে নতুন করে অনুপ্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা চালায়।
সম্প্রতি স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছেন যে সমুদ্রপথে সিউতা বা মেলিয়ায় পৌঁছানো অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো যাবে না। মানব পাচারকারী চক্র এ রায়কে বিকৃতভাবে প্রচার করে অনেককে বোঝায় যে সাগর পেরিয়ে সিউতায় পৌঁছাতে পারলেই ইউরোপে থাকার সুযোগ মিলবে। এ গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পাচারকারীদের নেটওয়ার্কে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পরই সীমান্তে হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গতকাল পর্যন্ত অন্তত ৫০ হাজার মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছে। সিউতার স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান হুয়ান হেসুস ভিভাস দাবি করেছেন, অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা ৬০ হাজারে পৌঁছেছে, যা শহরটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশের সমান।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এ ঘটনার জন্য মানব পাচারকারীদের দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, মানব পাচারকারী চক্র সুপ্রিম কোর্টের রায়কে বিকৃতভাবে প্রচার করে যে সাগর পেরিয়ে সিউতায় পৌঁছাতে পারলেই স্পেনে থাকার সুযোগ মিলবে। এ গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই সীমান্তে হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসে বলে দাবি করেন তিনি।
একযোগে হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত অতিক্রমের সময় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। অনেকেই সাঁতরে সিউতায় যাওয়ার চেষ্টা করেন। আবার অনেকে তারাজাল সৈকতের ব্রেকওয়াটারের বেড়ার দিকে একসঙ্গে ছুটে গেলে পদদলিত হন। সীমান্তসংলগ্ন পানিতে জুতা, ব্যাগ ও ব্যক্তিগত সামগ্রী ভেসে থাকতে দেখা যায়। নিহতদের মধ্যে অনেকে পানিতে ডুবে মারা যান।
সিউতার পার্ক, ফুটপাত ও খোলা জায়গায় হাজারো মানুষ রাত কাটাতে বাধ্য হন। তাদের মধ্যে অনেক অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ও অভিভাবকহীন কিশোরও ছিল। খাদ্য, পানি ও আশ্রয়ের সংকটে পরিস্থিতি দ্রুত মানবিক সংকটে রূপ নেয়। পরে অনেক অভিবাসী স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে যেতে শুরু করেন।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ঘটনাকে স্পেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এ বিষয়ে মরক্কোর সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন সীমান্তের পরিস্থিতিকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম না মেনে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না। একই সঙ্গে মানব পাচারকারী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে ঘটনাটি ইউরোপজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্কও উসকে দিয়েছে। ইতালি স্পেনের উন্মুক্ত অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে শেনজেন ব্যবস্থায় কড়াকড়ির হুমকি দিয়েছে। ফ্রান্সও স্পেন সীমান্তে অতিরিক্ত তল্লাশি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। যদিও স্পেন সরকার বলছে, এ সীমান্ত সংকটের সঙ্গে তাদের বৈধতা প্রদানের (অ্যামনেস্টি) নীতির কোনো সম্পর্ক নেই; বরং মানব পাচারকারী চক্রের বিভ্রান্তিকর প্রচারণাই এ নজিরবিহীন অভিবাসী ঢলের মূল কারণ।


