ট্রাম্পের দাবি, ‘মোজতবা খামেনি ৯০ শতাংশ শেষ’
জুলাই ১৪, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বিটকয়েনের দাম কমেছে প্রায় ২ শতাংশ
জুলাই ১৪, ২০২৬
ট্রাম্পের দাবি, ‘মোজতবা খামেনি ৯০ শতাংশ শেষ’
জুলাই ১৪, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বিটকয়েনের দাম কমেছে প্রায় ২ শতাংশ
জুলাই ১৪, ২০২৬

হরমুজে ট্রাম্প প্রস্তাবিত ২০ শতাংশ ফি’র আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন

বিশেষজ্ঞদের মতে, শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বীমা কোম্পানিগুলো। তারা যদি মনে করে নিরাপত্তা ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সুবিধা নেয়া হোক বা না হোক, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের বীমা দিতেই অস্বীকৃতি জানাতে পারে

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তার বিনিময়ে ২০ শতাংশ ফি আদায়ের প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে এমন ব্যবস্থা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে এবং তা আদৌ আইনসম্মত কি না— এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর সিএনএন।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়ে আসছে আন্তর্জাতিক শিপিং খাত। এ প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র এ নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত। তবে এর বিনিময়ে প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করা সব পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ ফি দিতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির অভিভাবক হিসেবে কাজ করবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে ব্যয় হবে, তা পণ্য পরিবহনের ওপর ২০ শতাংশ হারে আদায় করা হবে।

তবে কীভাবে এ ফি নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর মেরিটাইম স্ট্র্যাটেজির জ্যেষ্ঠ ফেলো জন ম্যাককাউন বলেন, এটি কি নিরাপত্তা কার্যক্রমের মোট ব্যয়ের ২০ শতাংশ, নাকি জাহাজে পরিবাহিত পণ্যের মূল্যের ২০ শতাংশ— তা পরিষ্কার নয়। এটি মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তা ব্যয়ের ওপরও নির্ভর করতে পারে।

তার মতে, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পণ্য পরিবহনে শিপাররা সাধারণত পণ্যের মূল্যের ২-৩ শতাংশ পরিবহন ব্যয় পরিশোধ করে। সেখানে ২০ শতাংশ ফি অধিকাংশ ব্যবসায়ীর জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল হবে এবং তা গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বীমা কোম্পানিগুলো। তারা যদি মনে করে নিরাপত্তা ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সুবিধা নেয়া হোক বা না হোক, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের বীমা দিতেই অস্বীকৃতি জানাতে পারে।

আইনগত দিক থেকেও বিষয়টি বিতর্কিত। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ, যেখানে সব দেশের জাহাজের অবাধ চলাচলের অধিকার রয়েছে। অতীতে ইরান কিছু সেবা ফি আরোপ করলেও বর্তমানে তা কার্যকর নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল ওয়ার কলেজের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জেমস ক্রাসকা বলেন, বাধ্যতামূলক টোল আদায় আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে যদি যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা বহর (কনভয়) পরিচালনা করে এবং জাহাজমালিকেরা ইচ্ছা করলে অর্থের বিনিময়ে সেই সেবা গ্রহণ করেন, তাহলে সেটি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হবে না।

তবে তিনি আরো বলেন, আইনসম্মত হলেও এমন উদ্যোগ বাস্তবে কার্যকর বা বাণিজ্যিকভাবে টেকসই হবে কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ডেনমার্ক একসময় ওরেসুন্ড প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বিদেশী জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায় করত। ঊনবিংশ শতকে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপেই সেই ব্যবস্থা বন্ধ হয়েছিল।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *