ইরান যুদ্ধের সময় গোপনে আমিরাত সফরের দাবি নেতানিয়াহুর
মে ১৪, ২০২৬
এপ্রিলে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১০ জন নিহত
মে ১৪, ২০২৬
ইরান যুদ্ধের সময় গোপনে আমিরাত সফরের দাবি নেতানিয়াহুর
মে ১৪, ২০২৬
এপ্রিলে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১০ জন নিহত
মে ১৪, ২০২৬

হামে বেশি মৃত্যু ৯ মাসের নিচের শিশু, কারণ জানতে পরীক্ষা হবে মায়েদের শরীরের ইমিউন

বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালু থাকলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। উদ্বেগের বিষয় হলো, যাদের এখনো টিকা নেয়ার বয়স হয়নি, অর্থাৎ নয় মাসের কম বয়সী শিশুরা বেশি মারা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মায়ের শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বা ইমিউনিটির বিষয়টিও গভীরভাবে গবেষণা করা জরুরি।

ঢাকা বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভাগটিতে নিশ্চিত হামে ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ জনের মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৮ জনেরই বয়স নয় মাসের কম। নয় থেকে ১১ মাস বয়সী তিনজন, এক-দুই বছর বয়সী ছয়, দুই-চার বছর বয়সী এক, পাঁচ-নয় বছর বয়সী দুই এবং ১৪-১৫ বছরের নিচে দুজন মারা গেছে। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) ২১টি জেলা থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, হাম শনাক্ত হয়ে মৃত ৬০ জন শিশুর মধ্যে ২৯ জনেরই মৃত্যু হয়েছে নয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগে। এর মধ্যে ১৫ শিশুর বয়স ছিল মাত্র ছয় মাস বা তারও কম।

জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. আবু জামিল ফয়সাল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এবারের হামের প্রকোপের সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো নয় মাসের কম বয়সী শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে এবং তারাই বেশি মারা যাচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় শিশুর শরীরে হামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে না।’ বিষয়টি নিয়ে গবেষণার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘বিশেষ করে মায়েদের অপুষ্টি, ভিটামিন ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ঘাটতি এর বড় কারণ হতে পারে। শাকসবজি, ছোট মাছ ও স্থানীয় ফল কম খাওয়ার কারণেও এ ঘাটতি বাড়তে পারে। এছাড়া অনেক শিশু ঠিকমতো বুকের দুধও পাচ্ছে না। কর্মজীবী মায়েদের মধ্যে এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং কমে যাওয়ায় শিশুর শরীরে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি পৌঁছাচ্ছে না। ফলে তারা দুর্বল হয়ে পড়ছে। হাম হলে দ্রুত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতায় মারা যাচ্ছে।’

শিশুদের হাম রুবেলার টিকা দেয়া শুরু হয় নয় মাস বয়স থেকে। কিন্তু বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশেরই বয়স নয় মাসের নিচে। সাধারণত মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় শিশুর শরীরে যে প্রাথমিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়, তা জন্মের পর অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু এখন তিন থেকে চার মাস বয়সী শিশুরাও হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, গর্ভকালীন শিশু পর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, মায়ের পুষ্টিহীনতা বা দুর্বল ইমিউনিটি এর অন্যতম কারণ হতে পারে।

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এফএ আসমা খান বলেন, ‘যেসব শিশু আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে, তাদের অনেকেরই টিকা নেয়ার বয়স হয়নি। আবার অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর অন্য রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। আক্রান্ত বেশির ভাগ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব দুর্বল।’ তিনি জানান, হামের প্রকোপ বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে আইসিডিডিআর,বি গবেষণা চালাবে। আক্রান্ত শিশুদের মায়ের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে। ঈদের পরপরই সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল থেকে নমুনা সংগ্রহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে ভর্তি রয়েছে ৫৯ জন শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছে আরো নয়জন। এ পর্যন্ত হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিয়েছে ১ হাজার ৪৮ জন শিশু, যার মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৮১ জন। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৮ জন এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে সাতজনের।

হাসপাতালটির মেডিকেল অফিসার ডা. মাহিন মুনতাসিন বলেন, ‘মায়ের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর সন্তানের সুস্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে। মা যদি পুষ্টিহীনতায় ভোগেন, তাহলে শিশুও পূর্ণ পুষ্টি পায় না। এতে তারা সহজেই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়। বিষয়টি নিয়ে আরো গবেষণা প্রয়োজন।’

এদিকে গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা) নতুন করে ১২৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে মারা গেছে আটজন। এর মধ্যে সাতজন হামের উপসর্গ নিয়ে এবং একজন হামে মারা গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত মোট হাম রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ১৫০ জন। হামে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ৪৩২ জন। এর মধ্যে হামে মারা গেছে ৬৯ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৬৩ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *