রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ৬৪,৪০৬ কোটি টাকা
মে ১৪, ২০২৬
হামে বেশি মৃত্যু ৯ মাসের নিচের শিশু, কারণ জানতে পরীক্ষা হবে মায়েদের শরীরের ইমিউন
মে ১৪, ২০২৬
রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ৬৪,৪০৬ কোটি টাকা
মে ১৪, ২০২৬
হামে বেশি মৃত্যু ৯ মাসের নিচের শিশু, কারণ জানতে পরীক্ষা হবে মায়েদের শরীরের ইমিউন
মে ১৪, ২০২৬

ইরান যুদ্ধের সময় গোপনে আমিরাত সফরের দাবি নেতানিয়াহুর

এই কথিত সফরকে মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত গড়ে ওঠা নতুন জোটের সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি জানান, যুদ্ধ চলাকালে আমিরাতের সঙ্গে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভাগাভাগি করেছে ইসরায়েল। এসময় আমিরাতে আয়রন ডোম ব্যাটারি ও সেগুলো পরিচালনার জন্য সামরিক বিশেষজ্ঞও পাঠিয়েছিল ইসরায়েল

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সফর করেছিলেন, এমন দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

গতকাল রাতে নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ইসরায়েল ও আমিরাতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতির ধারা তৈরি করেছে এ সফর।’

তবে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেতানিয়াহুর সফরের খবর অস্বীকার করে বলেছে, এ ধরনের দাবি ‘ভিত্তিহীন’।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএমে বুধবার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউএই জানায়, ‘ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক প্রকাশ্য এবং সুপরিচিত ও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের কাঠামোর মধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সম্পর্ক কোনো গোপনীয়তা বা আড়াল করা ব্যবস্থার ভিত্তিতে গড়ে ওঠেনি।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘তাই আমিরাতের সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া কোনো গোপন সফর বা সমঝোতা নিয়ে যেসব দাবি করা হচ্ছে, সেগুলো ভিত্তিহীন।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহু ও মোহাম্মেদ বিন জায়েদ ২৬ মার্চ ওমান সীমান্তসংলগ্ন মরূদ্যান শহর আল আইনে কয়েক ঘণ্টা বৈঠক করেন।

একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে সামরিক কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের পরিচালক ডেভিড বার্নিয়া অন্তত দুই দফা ইউএই সফর করেছেন। তার এই সফরের খবর প্রথম প্রকাশ করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

এই কথিত সফরকে মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত গড়ে ওঠা নতুন জোটের সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি জানান, যুদ্ধ চলাকালে আমিরাতের সঙ্গে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভাগাভাগি করেছে ইসরায়েল। এসময় আমিরাতে আয়রন ডোম ব্যাটারি ও সেগুলো পরিচালনার জন্য সামরিক বিশেষজ্ঞও পাঠিয়েছিল ইসরায়েল।

হাকাবি বলেন, ‘আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যে অসাধারণ সম্পর্ক রয়েছে।’

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, আমিরাত গোপনে ইরানের বিরুদ্ধে হামলাও চালিয়েছে। এর মধ্যে এপ্রিলের শুরুতে পারস্য উপসাগরের লাভান দ্বীপের একটি জ্বালানি পরিশোধনাগারে হামলাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইরানের পক্ষ থেকে আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২০ সালে আমিরাত ছিল প্রথম মুসলিমপ্রধান দেশ, যারা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি স্বাক্ষর করে। পরে বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান একই পথে হাঁটে। এই চুক্তিগুলো ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ নামে পরিচিত।

তবে এ আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের অন্য সদস্যদের তুলনায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর করেছে আমিরাত এবং তা কার্যত একটি অনানুষ্ঠানিক জোটে রূপ নিয়েছে।

আমিরাতের শাসকরা ক্রমেই বড় প্রতিবেশী সৌদি আরব থেকে আলাদা একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করার চেষ্টা করছে। চলতি মাসের শুরুতে সৌদি নেতৃত্বাধীন ওপেক প্লাস থেকেও বেরিয়ে যায় ইউএই, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে জোটটির প্রভাবকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করেছে।

ইসরায়েল ও আমিরাত উভয় দেশেরই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, যা ইরান যুদ্ধের কারণে আরো জোরদার হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনে প্রশাসন বা নীতির পরিবর্তন হলে এই সম্পর্ক চাপে পড়তে পারে।

দুই দেশই বর্তমানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক নজরদারির মুখে রয়েছে।

গাজায় গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইসিসি নেতানিয়াহু ও তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।

অন্যদিকে সুদানে গণহত্যা ও ব্যাপক নৃশংসতার অভিযোগে অভিযুক্ত র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-কে অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে আমিরাতের বিরুদ্ধে। যদিও পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ইউএই সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *