অস্থিরতা কমাতে জ্বালানি তেলের আরো জরুরি মজুদ ছাড়ার পরিকল্পনা আইইএর
মার্চ ১৮, ২০২৬
এমএফএস সেবা চালুর অনুমোদন পেল প্রাইম ব্যাংক ফিনটেক
মার্চ ১৮, ২০২৬
অস্থিরতা কমাতে জ্বালানি তেলের আরো জরুরি মজুদ ছাড়ার পরিকল্পনা আইইএর
মার্চ ১৮, ২০২৬
এমএফএস সেবা চালুর অনুমোদন পেল প্রাইম ব্যাংক ফিনটেক
মার্চ ১৮, ২০২৬

স্বর্ণের বাজারে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাব কেবল আঞ্চলিক

ইরান অভিমুখে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ও বাণিজ্যে একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তবে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (ডব্লিউজিসি) কৌশলবিদরা মনে করছেন, মূল্যবান ধাতুটির বাজারে চলমান সংকটের প্রভাব মূলত আঞ্চলিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে। একে করোনাকালীন বৈশ্বিক সংকটের সঙ্গে তুলনা করার মতো কোনো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। যদিও সাময়িকভাবে সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে, তবে স্বর্ণের বৈশ্বিক বাণিজ্যের বৈচিত্র্যময় কাঠামো এ ধাক্কা সামলে নিতে সক্ষম বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর মাইনিং উইকলি।

সরবরাহ ব্যবস্থা ও বিকল্প বাজার: ডব্লিউজিসির সিনিয়র মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট জন রিড ও জোসেফ ক্যাভাটোনির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে মূলত স্বর্ণের ভৌত লেনদেন বা ফিজিক্যাল ফ্লো সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মূল্যবান ধাতুটির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র দুবাই থেকে সরবরাহ কমলেও সিঙ্গাপুর বা সুইজারল্যান্ডের মতো বিকল্প উৎসগুলো এ চাহিদা মেটাতে সক্ষম। এমনকি গত বছরের সঞ্চিত মজুদ থেকে নিউইয়র্কও বাজারে প্রয়োজনীয় সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি কভিড-১৯ মহামারীর সময়ের মতো বড় কোনো স্থবিরতা নয়, বরং একটি আঞ্চলিক সংকট, যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

দুবাইয়ের গুরুত্ব ও সরবরাহ চেইন: বিশ্বের মোট স্বর্ণ সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশই দুবাইয়ের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। বিশেষ করে আফ্রিকা থেকে আসা বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ দুবাইয়ের হাবে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ ও ভারতে সরবরাহ করা হয়। দুবাই ও দোহা আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ চলাচলের অন্যতম বড় কেন্দ্র হওয়ায় বর্তমানে লজিস্টিক বা পরিবহন ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তবে ডব্লিউজিসি মনে করছে, চীন ও ভারতের মতো বড় ভোক্তা বাজারগুলো দ্রুতই নিজেদের সরবরাহের পথ পরিবর্তন করে নেবে। বর্তমানে লন্ডন ও সাংহাই এক্সচেঞ্জে স্বর্ণের লেনদেন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।

বিনিয়োগকারীর পরিবর্তন ও অস্থিরতা: ২০২৪ সাল থেকে স্বর্ণের বাজারে দামের অস্বাভাবিক ওঠানামা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বর্তমানে এ হার ২৮ শতাংশের মতো উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। ডব্লিউজিসির কৌশলবিদদের মতে, গত কয়েক বছরে স্বর্ণের বাজারে বিনিয়োগের ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণের মূল ক্রেতা থাকলেও এখন পশ্চিমা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দ্রুত লাভের আশায় করা ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের প্রবণতা বেড়েছে। এ কারণেই বাজারে ধাতব পণ্যটির দামের ওঠানামা আগের চেয়ে অনেক বেশি হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ গতিপথ: স্বর্ণের দাম বর্তমানে আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ১০০ ডলারের আশপাশে অবস্থান করছে। প্রাথমিক ধাক্কার পর বিনিয়োগকারীরা কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থানে থাকলেও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বজায় থাকায় সামনের দিনগুলোয় মূল্যবান ধাতুটির বাজার অস্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বর্ণের দাম আগের মতো আউন্সে ১ হাজার ৫০০ বা ১ হাজার ৮০০ ডলারে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং সরবরাহ চেইন পুনর্গঠিত হলে দীর্ঘমেয়াদে বাজার আবারো স্থিতিশীল হয়ে উঠবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *