মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী
মার্চ ১৮, ২০২৬
স্বর্ণের বাজারে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাব কেবল আঞ্চলিক
মার্চ ১৮, ২০২৬চলমান ইরান সংকটে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েই চলেছে।
এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব জ্বালানি খাতের তদারকি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) বাজার স্থিতিশীল করতে আরো জরুরি মজুদ ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, হরমুজ প্রণালির বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে বাজারের বেশ সময় লাগবে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
আইইএ-প্রধান ফাতিহ বিরল জানিয়েছেন, সংস্থাটির সদস্য দেশগুলোর কাছে এখনো বড় অংকের জরুরি জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। এর আগে বাজার নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় মজুদ ছাড়ার বিষয়ে একমত হয়েছিল সদস্য দেশগুলো। প্রয়োজন হলে সামনে আরো জরুরি মজুদ ছাড়া হতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সোমবার লেনদেন শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে যায়। এতে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ১০৬ ডলার ৫০ সেন্টে পৌঁছায়। পরে দাম কিছুটা কমে ১০০ ডলারের ঠিক ওপরে অবস্থান করে। গতকালও জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলারের কিছুটা বেশি ছিল। চলতি মাসে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। এ ঘাটতি মেটাতে এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য চলতি সপ্তাহে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল জরুরি মজুদ বাজারে ছাড়া হবে। এটি আইইএর পরিকল্পিত মোট ৪০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রথম অংশ।
ফাতিহ বিরল বলেন, ‘বিশাল পরিমাণ জ্বালানি তেল বাজারে ছাড়ার পরও আমাদের কাছে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। বর্তমান সরবরাহ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আইইএ দেশগুলোর জরুরি মজুদের মাত্র ২০ শতাংশ কমবে। জরুরি মজুদ পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়তা করলেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া জরুরি।’
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বিশ্বনেতাদের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানিয়েছেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এ পথ দিয়ে বিশ্বের মোট সামুদ্রিক জ্বালানি তেলের পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবহন করা হতো। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিছু দেশ এ বিষয়ে উৎসাহ দেখালেও অনেকে তা দেখাচ্ছে না। অথচ যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ সময় ধরে এসব দেশকে বিভিন্ন বৈশ্বিক হুমকি থেকে সুরক্ষা দিয়ে আসছে।’
ইরান কর্তৃক জ্বালানি সরবরাহের পথ অবরোধের প্রতিবাদে সপ্তাহান্তে দেশটির খারিগ দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ দ্বীপ থেকে ইরানের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ রফতানি করা হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী সরাসরি মূল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত না করলেও এ হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদন আরো ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফাতিহ বিরল সতর্ক করেছেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্য স্বাভাবিক হতে বেশ সময় লাগবে। তাই দেশগুলোর উচিত দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নেয়া।


