
সংবিধান সংস্কার পরিষদের যাত্রা শুরু —নাহিদ ইসলাম
মার্চ ১২, ২০২৬
জুলাই সনদে সম্মত সবই ধারণ করব —সালাহউদ্দিন আহমদ
মার্চ ১২, ২০২৬জাতীয় সংসদে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের ক্ষেত্রে জুলাই সনদের সংস্কারের প্রস্তাব পুরোপুরি বাস্তবায়ন চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় সভাকক্ষে গতকাল অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, কথা বলেছে। আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই। আমরা চাই, জুলাই সনদের সংস্কারের প্রস্তাবগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হোক। এর আলোকে বিরোধী দলের যতটুকু পাওনা, আমরা ততটুকু চাই, এর বেশি চাই না। জুলাই সনদেই আছে যে একজন ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবেন। আমরা খণ্ডিতভাবে এটা চাচ্ছি না, আমরা চাই প্যাকেজ, আমরা চাই পিস মিল; পুরোটাই সেখানে গ্রহণ ও বাস্তবায়ন হোক এবং এর ভিত্তিতে আমরা যেন আমাদের ন্যায্য দায়িত্ব পালন করতে পারি।’
জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা চাই জাতীয় সংসদ দেশ ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ও অর্থবহ ভূমিকা পালন করুক। এরই মধ্যে ঘোষণা করেছি—বিরোধী দল হিসেবে আমরা একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চাই। সব বিষয়ে বিরোধিতা করব না, না বুঝে কোনো সহযোগিতাও করব না। দেশ ও জাতির কল্যাণে সরকার যে সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, সেসব ক্ষেত্রে আমাদের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে। তবে দেশ ও জাতির ক্ষতি হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ নেয়া হলে আমরা আমাদের দায়িত্ব অনুযায়ী ভূমিকা পালন করব।’
দেশের বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছেন জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন বলেছিল—উই ওয়ান্ট জাস্টিজ। আমরা সব ক্ষেত্রে সুবিচার চাই এবং বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে চাই। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এবারের জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি সংস্কার নির্বাচন হয়েছে। যে অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, একই অর্ডিন্যান্সে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সংস্কার পরিষদ গঠনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ফলাফল আপনারা দেখেছেন। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা সে ফলাফল মেনে নিয়েছি। দুটি নির্বাচন একে অপরের পরিপূরক। প্রথমে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু হবে। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে তারাই আবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ কারণেই অর্ডিন্যান্সের প্রতি সম্মান রেখে আমরা প্রথম দিন দুটি শপথ গ্রহণ করেছি। তবে দুঃখজনকভাবে এখন পর্যন্ত সরকারি দলের সদস্যরা প্রথম শপথটি গ্রহণ করেননি। আমরা তাদের প্রতি আহ্বান জানাই—আসুন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে সম্মান করি।’
স্পিকারের নিরপেক্ষ ভূমিকা চেয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি সংসদের স্পিকার নিরপেক্ষ ও ন্যায়সংগত ভূমিকা পালন করবেন এবং বিরোধী দলকে যথেষ্ট সুযোগ দেবেন। তাহলে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ফুটে উঠবে এবং গণতন্ত্র টেকসই হবে। আশা করি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি কার্যকর ও টেকসই গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাবে।’
এদিকে রীতি অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি। তবে জাতীয় সংসদে বর্তমান রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেয়ার কোনো অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্টের দোসর, সংসদে তার ভাষণ দেয়ার অধিকার নেই। কিন্তু বিএনপি কী কারণে এ কাজটি করছে, তা বোধগম্য নয়।’


