নারী এশিয়া কাপ ফুটবল আজ পরাশক্তি চীনের মুখোমুখি বাংলাদেশ
মার্চ ৩, ২০২৬
ইরানে নিহত বেসামরিকের সংখ্যা এক হাজার ছাড়াল: এইচআরএএনএ
মার্চ ৪, ২০২৬
নারী এশিয়া কাপ ফুটবল আজ পরাশক্তি চীনের মুখোমুখি বাংলাদেশ
মার্চ ৩, ২০২৬
ইরানে নিহত বেসামরিকের সংখ্যা এক হাজার ছাড়াল: এইচআরএএনএ
মার্চ ৪, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে হামলায় ২ বাংলাদেশী নিহত, আহত ৭

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় দুই বাংলাদেশী নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়েছে।

নিহত বাংলাদেশীদের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে মারা যাওয়া সিলেটের বড়লেখার বাসিন্দা সালেহ আহমেদ রয়েছেন। তিনি নাগরিক স্থাপনায় আকাশ থেকে নেমে আসা ক্ষেপনাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া বাহরাইনে আরো একজন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন তিনজন। বাংলাদেশ দূতাবাস সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের রাজধানী মানামায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। বাণিজ্যিক ফ্লাইট পুনরায় চালু হলে তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।

কুয়েতে চারজন বাংলাদেশী ড্রোন হামলায় আহত হয়েছেন। তারা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার আমিনুল ইসলাম, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার রবিউল ইসলাম, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার মাসুদুর রহমান ও কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার দুলাল মিয়া।

জানা গেছে, তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। কুয়েত দূতাবাস নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং দূত নিজেও হাসপাতালে দেখা করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে অবস্থান করছে। দূতাবাস জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সব ক্রু সদস্য নিরাপদ রয়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে সরকার। মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত ছয় মিলিয়নেরও বেশি বাংলাদেশীর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যেন প্রবাসীরা সতর্ক থাকেন এবং স্থানীয় সরকারের নির্দেশনা মেনে চলেন।

এদিকে গতকাল মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। সভার পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যে সংঘাত, তাতে বাংলাদেশের দুজন নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং সাতজন আহত হয়েছেন। এটা আমাদের জন্য একটা বড় শোকবার্তা। যারা আহত হয়েছেন তাদের পাশে আমাদের রাষ্ট্রদূতরা ছুটে গেছেন। আমাকে এরই মধ্যে কুয়েত ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফোন করেছেন। আমাদের নাগরিকরা যারা এসব দেশে আছেন তাদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেয়ার ব্যাপারে পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই বলে এসেছি যে এ সংঘাতময় সময়ে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাধান্য হচ্ছে ওই অঞ্চলে বসবাসরত আমাদের নাগরিকরা। আমরা ১ মার্চ যে প্রেস রিলিজটি দিয়েছিলাম সেটা আমরা শুরুই করেছিলাম আমাদের নাগরিকদের স্বার্থ সমুন্নত রেখে। আমাদের নাগরিকরা আক্রান্ত হলে সেটা কাতারের এ পাশে হোক বা কাতারে গিয়ে হোক, আমরা তাদের পাশে দাঁড়াব।’

আমাদের সবচেয়ে বড় জাতীয় স্বার্থ হচ্ছে আমাদের জনগণ উল্লেখ করে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা আশা করি যে এ সংঘাতে আর কোনো বাংলাদেশীর প্রাণহানি ঘটবে না কিংবা আর কেউ আহত হবেন না। কিন্তু সে রকম অবস্থা হলে আমাদের যা যা কর্তব্য তা আমরা পালন করব। একই সঙ্গে অনেকে বিদেশে কাজ করার জন্য যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তারা আটকে পড়েছেন। সে বিষয়ে আমাদের মধ্যে কথা হয়েছে। আমাদের বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী মহোদয় ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এ বৈঠকে যোগদান করেছিলেন এবং আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন। সেই সঙ্গে আমাদের প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। যারা আটকে পড়েছেন তাদের যখন উড়োজাহাজ চলাচল শুরু হবে, দ্রুততম সময়ে তাদের যাওয়ার বন্দোবস্ত করে দেয়ার সব ধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নিয়েছি। আশা করি, আমরা দ্রুততার সঙ্গে এবং মসৃণভাবে কাজটি করতে পারব।’

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে খুব সোজা। প্রথম কথা হচ্ছে, আমরা আমাদের জনগণ যারা আমাদের নাগরিক, যারা ওই অঞ্চলে আছেন তাদের স্বার্থ রক্ষা এক নম্বর। আর আমরা মনে করি না যুদ্ধ বা সংঘাত কোনো সমাধান। আমরা চাই অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে আলোচনার মাধ্যমে, কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে এ সমস্যাটার সমাধান হোক।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *