
সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর শপথ: সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬
শপথ নিলেন বিএনপির নবনির্বাচিত এমপিরা
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আজ সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শেষ হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আজ সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শেষ হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের। নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য বিদায়ী সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তুত করা হয়েছে ৩৭টি বাংলোবাড়ি কিংবা অ্যাপার্টমেন্ট ও গাড়ি।
রাজধানীর মিন্টো রোড, হেয়ার রোড, ধানমন্ডি ও গুলশানে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য এসব বাড়ি প্রস্তুত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে গতকাল সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ৩৭টি বাড়ি রেডি করে রেখেছি। মিন্টো রোড, হেয়ার রোড, ধানমন্ডি ও গুলশানে এ বাড়িগুলো রয়েছে। প্রয়োজনে আরো কয়েকটি বাড়ি প্রস্তুত করার প্রস্তুতি চলছে।’
৩৭টি বাড়ির মধ্যে অনেকগুলোয় বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা বসবাস করছেন বলেও জানান আদিলুর রহমান খান। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার যেভাবে চাইবে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন সেভাবেই করা হবে বলেও জানান এ উপদেষ্টা। এ বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের জন্য আপাতত ৩৭টি গাড়ি প্রস্তুত রেখেছে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের অধীন পরিবহন পুল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আমাদের এখানে ৩৭টি গাড়ি রেডি করে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরের পর পরই সেগুলো জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নেয়া হবে। আরো বেশি গাড়ির প্রয়োজন হলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানোর সঙ্গে সঙ্গে পাঠানোর ব্যবস্থাও রেখেছি আমরা।’
নতুন মন্ত্রিসভার শপথের জন্য প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি গতকাল দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘একজন মন্ত্রীর জন্য গাড়ি লাগে, একজন দেহরক্ষী থাকেন, তার বাসস্থান কোথায় হবে সেগুলোরও ব্যবস্থা করতে হয়। এগুলোর জন্য সরকার সবসময়ই প্রস্তুত।’
দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে বঙ্গভবনের বাইরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘দেশী-বিদেশী মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ অতিথিকে শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দাওয়াতপত্র বিলি করার কাজও এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।’
সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে আজ সকাল ১০টায় ত্রয়োদশ সংসদের নতুন সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান। তারা একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদেরও সদস্য হবেন। সে কারণে তাদের আলাদা করে শপথ নিতে হবে। সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের পর বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে সংসদ নেতা নির্বাচিত হবেন। এর মধ্যেই শপথ নিতে যাওয়া সরকারপ্রধানের দেয়া তালিকা অনুযায়ী তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ নেয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ফোন করা শুরু হবে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি বিকাল ৪টায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭টিতে জয়ীদের গেজেট প্রকাশ শুক্রবার রাতে করে নির্বাচন কমিশন। বিএনপি ও মিত্র দলগুলো ২১২টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। অন্যদিকে তাদের একসময়কার মিত্র জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন পেয়ে বসতে যাচ্ছে বিরোধী দলের চেয়ারে। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোয় জয়ী হয়েছেন।


