
যারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করত না তারা এখন দেশপ্রেম শেখাচ্ছে —ডা. জাহিদ হোসেন
ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬
ঝালকাঠির দুই আসনেই শক্ত অবস্থানে বিএনপি, প্রচারণায় পিছিয়ে নেই জামায়াত
ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা।
একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী উপজেলার মোট জনসংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৯৩। বিশাল এ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও দুটি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। হাসপাতাল তিনটিতে ৫৪ চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন ১০ জন। এ অবস্থায় প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।
কোটালীপাড়া পৌর এলাকার উত্তরপাড় গ্রামের কোমেলা বেগম বেশকিছু দিন ধরে অসুস্থ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছিলেন ডাক্তার দেখাতে। কিন্তু সিরিয়াল লম্বা। চিকিৎসা পেতেও বেশ বিলম্ব হয়েছে। উপজেলার মদনপাড়া গ্রাম থেকে অসুস্থ শিশু আজিমকে (৪) হাসপাতালে নিয়েছে এসেছেন তার মা খুকুমণি বেগম। তিনি বলেন, ‘পাঁচদিন ধরে ছেলের পেটের সমস্যা। মাঝেমধ্যে বমি করছে। মদনপাড়া গ্রাম থেকে তাকে হাসপাতালে এনেছি। ডাক্তারের রুমের কাছে দাঁড়িয়ে আছি। অনেক রোগী দাঁড়িয়ে আছে। ডাক্তার দেখাতে পারছি না। শুনেছি হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডাক্তার নেই।’
কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোয় নির্দিষ্ট কিছু সেবা দেয়া হয়। মূলত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার ভরসাস্থল হলো ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও দুটি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৫২টি। তবে কর্মরত রয়েছেন ১২ চিকিৎসক। এর মধ্যে দুজন প্রেষণে ঢাকা ও ফরিদপুরে কাজ করছেন। বর্তমানে ১০ জন চিকিৎসক দিয়ে হাসপাতালটি চলছে। এছাড়া রামশীল ও কুশলা ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসকের দুটি পদ থাকলেও সেখানে কোনো চিকিৎসক নেই। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়ে চলছে ওই দুই কেন্দ্র। তবে সেখানে পর্যাপ্ত মিডওয়াইফারি ও ফার্মাসিস্ট রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনিয়র কনসালট্যান্টর ১০টি পদ রয়েছে। তবে এসব পদে কোনো সিনিয়র কনসালট্যান্ট নেই। জুনিয়র কনসালট্যান্ট ১১ জনের জায়গায় কর্মরত রয়েছে আছেন মাত্র চারজন। বাকি সাতটি পদই শূন্য। আর মেডিকেল অফিসারের ২৭টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ছয়জন। বাকি ২১টি পদ শূন্য।
সার্বিক বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কুমার মৃদুল দাস বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিকিৎসক চেয়ে চিঠি দিয়েছি। এক্স-রে মেশিন চালুরও উদ্যোগ নিয়েছি। লোকবল পেলেই আল্ট্রাসনোগ্রাম শুরু করতে পারব। এখানে সপ্তাহে একদিন অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসক সংকট কেটে গেলে সপ্তাহে অন্তত চারদিন অপারেশন থিয়েটার চালু রাখার কথা চিন্তা করা হচ্ছে। তবে হাসপাতালের প্যাথলজিতে রক্তসহ বেসিক সব পরীক্ষা হচ্ছে।’


