কোটালীপাড়ায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোয় চিকিৎসক সংকট, প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছে না প্রান্তিক জনগোষ্ঠী
ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬
নরসিংদীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে শিশু নিহত
ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠির দুটি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ১৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠির দুটি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ১৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে তাদের মধ্যে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। একক প্রার্থী, দলীয় কর্মকাণ্ড, জনসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতা দলীয় প্রার্থীদের অবস্থান দৃঢ় করছে বলে মনে করেন স্থানীয় রাজনীতিবিদরা। তবে প্রচারণায় পিছিয়ে নেই জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও। ভোটাররা বলছেন, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, দুটি আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৮২৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩ লাখ ১৮ হাজার ৭৭ ও নারী ২ লাখ ৯১ হাজার ৯৪৫ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন চারজন।
রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত ঝালকাঠি-১ আসনে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩০। আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ প্রার্থী। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির রফিকুল ইসলাম জামাল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ড. ফয়জুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা ইব্রাহিম আল হাদি, জেএসডির সোহরাব হোসেন, জনতার দলের জসিম উদ্দিন তালুকদার, জাতীয় পার্টির কামরুজ্জামান খান, গণঅধিকার পরিষদের শাহাদাত হোসেন, জাতীয় পার্টির (জেপি) রুবেল হাওলাদার, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাব্বির আহমেদ ও এম মঈন আলম ফিরোজী।
আসনটিতে নতুন ভোটার হয়েছেন সালমান রহমান। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। আমি আমার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারব। যিনি এলাকার উন্নয়ন করবেন, সন্ত্রাসমুক্ত রাখবেন, টেন্ডারবাজি করবেন না, মামলাবাজ হবেন না, তাকেই ভোট দেব।’
বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি দেশের মানুষ খালেদা জিয়াকে যেভাবে ক্ষমতায় বসিয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে আগামী নির্বাচনেও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ চাই। আমরা একটি সুশাসনের রাষ্ট্র চাই। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার রাষ্ট্র চাই।’
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী জামায়াত প্রার্থী ড. ফয়জুল হকও। তিনি বলেন, ‘ঝালকাঠি-১ আসনের জনগণ বসে আছে সত্যের পক্ষে, দেশপ্রেমিক জনতার পক্ষে রায় দেয়ার জন্য। এ অঞ্চলের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবারের ভোট দঁড়িপাল্লায় হবে।’
সদর ও নলছিটি উপজেলা নিয়ে ঝালকাঠি-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৩৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪৫০ ও নারী ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯৪৪ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন দুজন। নির্বাচনে আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আট প্রার্থী। তাদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। এছাড়া রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর শেখ নেয়ামুল করিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিরাজুল ইসলাম সিরাজী, গণঅধিকার পরিষদের মাহমুদুল ইসলাম সাগর, জেএসডির মাসুদ পারভেজ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ফোরকান হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরউদ্দিন সরদার ও সৈয়দ রাজ্জাক আলী।
ভোটার হেদায়েতুল ইসলাম সোহেল বলেন, ‘এর আগে তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি। কেন্দ্রে গিয়ে দেখেছি, আমার ভোট অন্যরা দিয়ে দিয়েছেন। ভোট ডাকাতি এবার বন্ধ হয়েছে। আমি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করছি। এ নির্বাচনে আমি যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠাতে চাই।’
বিএনপি প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো বলেন, ‘মানুষ আমাকে নির্বাচিত করলে সবসময় তাদের পাশে থাকব। কারণ আমি তাদের ভালোবাসা পেয়েছি। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদি আগামীতে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন, দেশের উন্নয়ন হবে। আমরা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব।’
জামায়েতে ইসলামীর প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম বলেন, ‘ঝালকাঠি প্রাচীন বাণিজ্যিক জেলা। অথচ এ জেলার তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। তাছাড়া নলছিটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় পৌরসভা। এখানেও তেমন উন্নয়ন হয়নি। এখানে যাতায়াতের ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নদী ভাঙন। অথচ ভাঙনরোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। প্রথম কথা হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতিটি পয়সার হিসাব জনগণের কাছে পৌঁছাব; যাতে করে কোনো অন্যায়, দুর্নীতি হওয়ার আশঙ্কা না থাকে।’
নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন।


