
বাংলাদেশ–ইতালি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত
অক্টোবর ১৮, ২০২৫
বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়ন দেশের উন্নয়নে গতি আনবে: শামসুজ্জামান দুদু
অক্টোবর ১৮, ২০২৫রিজওয়ানা হাসান বলেন, চীন এখন প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে পরিবেশের দিকটি গুরুত্ব দিচ্ছে। কিছু ক্ষতি রয়েছে যেগুলো অপূরণীয়। এই ধরনের ক্ষতি হলে পরে টেকসই উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ করেও তা পূরণ করা যায় না। তাই সব বিনিয়োগকারীর, সে চীন হোক বা অন্য কেউ, নিজেদের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নের মানদণ্ড মেনে চলা জরুরি।
দেশে দুর্বল শাসনব্যবস্থার কারণে বিনিয়োগকারীরা আইন প্রয়োগে দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, দেশে এমন একটি মানসিকতা তৈরি হয়েছে যে ‘আগে বিনিয়োগ, পরে পরিবেশ।’ অনেকেই মনে করেন, প্রথমে সব উন্নয়ন শেষ করে তারপর পরিবেশের কথা ভাবা হবে। এ চিন্তাধারা পরিবর্তন করতে হবে।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশে চীনের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে টেকসই শাসনব্যবস্থা’ বিষয়ক স্টেকহোল্ডার কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পরিবেশ উপদেষ্টা। কর্মশালাটির আয়োজন করে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)। এতে সহযোগিতা করে চীনের বৈশ্বিক অবকাঠামো বিনিয়োগে টেকসই শাসনব্যবস্থা বিষয়ক সংগঠন ‘এসগেইন’।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, চীন এখন প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে পরিবেশের দিকটি গুরুত্ব দিচ্ছে। কিছু ক্ষতি রয়েছে যেগুলো অপূরণীয়। এই ধরনের ক্ষতি হলে পরে টেকসই উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ করেও তা পূরণ করা যায় না। তাই সব বিনিয়োগকারীর, সে চীন হোক বা অন্য কেউ, নিজেদের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নের মানদণ্ড মেনে চলা জরুরি।
তিনি আরো বলেন, পরিবেশ ও উন্নয়নের জন্য পরিষ্কার বাতাস ও পরিষ্কার নদী অপরিহার্য। কিন্তু আমরা প্রায়ই এটি ভুলে যাই। বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষায় চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। এ সময় তিনি বেইজিংয়ের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতা জানতে চান এবং বাংলাদেশের জন্য আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা চান।
চীনা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বুড়িগঙ্গার পানি পুনরুদ্ধারে শহরের পুরো পরিবেশ ব্যবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন। যদিও এটি সময়সাপেক্ষ, তবুও এখনই কাজ শুরু করা উচিৎ।
কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক উপ-উপাচার্য ড. সায়েমা হক বিদিশা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ইফতেখার আনিস। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, বিআইআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীরসহ অন্যান্য গবেষক ও নীতিনির্ধারকরা।


