আবরার হত্যা ভারতীয় আধিপত্যবাদের ভয়ংকর দৃষ্টান্ত: পীর সাহেব চরমোনাই
অক্টোবর ৭, ২০২৫
আসন্ন নির্বাচনকে জীবনের শেষ সুযোগ হিসেবে নিয়েছি: সিইসি
অক্টোবর ৮, ২০২৫
আবরার হত্যা ভারতীয় আধিপত্যবাদের ভয়ংকর দৃষ্টান্ত: পীর সাহেব চরমোনাই
অক্টোবর ৭, ২০২৫
আসন্ন নির্বাচনকে জীবনের শেষ সুযোগ হিসেবে নিয়েছি: সিইসি
অক্টোবর ৮, ২০২৫

আমরা পানির হিস্যা চাই সীমান্তে আর ফেলানীর ঝুলে থাকার দৃশ্য দেখতে চাই না

মূলত যে সংস্কারগুলো না করলেই নয়, এ রকম সংস্কারসহ একটি স্বাভাবিক সুষ্ঠু, স্বাধীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত করাই হচ্ছে বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। আমরা প্রত্যাশা করি যে, সরকার তাদের মূল দায়িত্ব সঠিকভাবে সম্পাদন করবেন।

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর কোনো গণমাধ্যমে মুখোমুখি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিবিসি বাংলার সঙ্গে দীর্ঘ এ সাক্ষাৎকারে আগামী নির্বাচনে দলের কৌশল, আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও তাদের নেতাকর্মীদের বিচার, বাংলাদেশের নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতিসহ সমসাময়িক নানা বিষয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিবিসি বাংলার সম্পাদক মীর সাব্বির ও বিবিসি বাংলার সিনিয়র সাংবাদিক কাদির কল্লোল। বিবিসির সৌজন্যে দুই পর্বের সাক্ষাৎকারটির শেষ পর্ব বণিক বার্তার পাঠকদের কাছে তুলে ধরা হলো

বর্তমানে বাংলাদেশের সরকার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন?

বিষয়টি রাজনৈতিক। এটি কোনো ব্যক্তির বিষয় নয়। আমরা প্রথম থেকে বলেছি যে আমরা চাই অন্তর্বর্তী সরকার সফল হোক। এক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয় আছে। আমরা যদি মূল দুটো বিষয় বলি—কিছু সংস্কারের বিষয় আছে। একই সঙ্গে প্রত্যাশিত সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, স্বাধীন নির্বাচনের একটি বিষয় আছে।

মূলত যে সংস্কারগুলো না করলেই নয়, এ রকম সংস্কারসহ একটি স্বাভাবিক সুষ্ঠু, স্বাধীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত করাই হচ্ছে বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। আমরা প্রত্যাশা করি যে, সরকার তাদের মূল দায়িত্ব সঠিকভাবে সম্পাদন করবেন। রাজনৈতিক দল হিসেবে এটাই আমাদের চাওয়া। স্বাভাবিকভাবে কাজ কতটুকু ভালো বা মন্দভাবে করতে পারছে, তার ওপরই মনে হয় সম্পর্কের উষ্ণতা বা শীতলতা নির্ভর করবে।

আপনি কয়েক মাস আগে একটি মন্তব্য করেছিলেন যে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। আপনার মন্তব্যটি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎকার নেয়ার সময় জিজ্ঞেস করেছিলাম এ বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া কী? তিনি তখন বলেছিলেন যে সন্দেহটা তার মনে। অর্থাৎ আপনার মনে আছে কিনা সেটা তিনি জানতে চান। আপনার মনে কি সেই সন্দেহ আছে?

যতটা মনে পড়ে, আমি যখন কথাটি বলেছিলাম, সেই সময় পর্যন্ত সরকার নির্বাচনের ব্যাপারে সঠিক কোনো সময়সীমা বা রোডম্যাপ নিয়ে কিছু বলেননি। সে কারণেই শুধু আমার মনের মধ্যেই নয়, আমরা যদি সেই সময় বিভিন্ন মিডিয়া দেখি, বিভিন্ন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব দেখি, যারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা করেন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে, প্রায় সবার মনের মধ্যেই সন্দেহ ছিল।

আমরা যখন দেখলাম যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনূস মোটামুটিভাবে একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করলেন এবং পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকবার তার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছেন, তারপর থেকেই খুব স্বাভাবিকভাবেই এ সন্দেহ বহু মানুষের মন থেকে ধীরে ধীরে দূর হওয়া শুরু হয়েছে। আমি মনে করি, সরকার যা বলেছে, যতক্ষণ পর্যন্ত বক্তব্য ও কাজে দৃঢ় থাকবে, ততই সন্দেহ চলে যাবে ধীরে ধীরে।

সেই সন্দেহ মনে কিছুটা দূরীভূত হয়েছিল লন্ডনে যখন তিনি আপনার সঙ্গে বৈঠক করলেন। তার পরই ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের কথা এসেছিল। সেই বৈঠকে নির্বাচনের কথা তো হয়েছিল, যেহেতু সেটি পরে এসেছে। এর বাইরে কি আপনাদের মধ্যে আর কোনো কথা হয়েছে? আর কোনো বিষয়ে কোনো চিন্তাভাবনা বা সমঝোতা কিছু হয়েছে?

ড. ইউনূস অত্যন্ত স্বনামধন্য একজন মানুষ। অত্যন্ত বিজ্ঞ মানুষ। নির্বাচনের বাইরে তো অবশ্যই স্বাভাবিকভাবে সৌজন্যমূলক কথাবার্তা হয়েছে। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন যে জনগণ যদি আপনাদের (বিএনপি) সুযোগ দেয়, তাহলে আপনারা কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য? এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে গত এক বছরে যে ভূমিকা রেখেছে, সেটাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

অন্তর্বর্তী সরকার মানে ইন্টেরিম, অর্থাৎ বিষয়টি ক্ষণস্থায়ী। একটি দেশ পরিচালনা বিশাল বিষয়। ভূখণ্ডের ভিত্তিতে যদি বিবেচনা করি, হয়তো বাংলাদেশকে অনেকে বলবে ছোট দেশ। কিন্তু আমরা যদি জনসংখ্যার ভিত্তিতে বিবেচনা করি, বাংলাদেশ পৃথিবীর অনেক ভূখণ্ডের চেয়ে বড় দেশ। ইউকের (যুক্তরাজ্য) জনসংখ্যা সাত কোটির মতো, বাংলাদেশের জনসংখ্যা বর্তমানে কমবেশি ২০ কোটি। অর্থাৎ যুক্তরাজ্যেরে তিন গুণ বড়। এরকম একটি দেশ পরিচালনা করতে হলে স্বাভাবিকভাবেই জনগণের ম্যান্ডেটসহ একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সরকার প্রয়োজন। কারণ এক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয় থাকে, ইস্যুজ থাকে, বিভিন্ন বিষয় আছে।

নির্বাচনের বাইরে অন্তর্বর্তী সরকারের পারফরম্যান্স বিবেচনা করলে আমার কাছে মনে হয়েছে যে, তারা চেষ্টা করেছেন অনেক বিষয়ে। সব ক্ষেত্রে সবাই সফল হতে পারে না। স্বাভাবিকভাবে তাদের সীমাবদ্ধতা আছে। তার মধ্যে যতটুকু পেরেছেন, হয়তো চেষ্টা করছেন।

এক-এগারোর সরকার বা সেনা সমর্থিত সরকারের সেই সময়টা নিয়ে রাজনীতিতে অনেক আলোচনা আছে। সে সময়টাকে ঘিরে আপনার মূল্যায়ন কী?

এক বাক্যে বা সংক্ষেপে যদি বলতে হয়, এক-এগারোর সরকার তো একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি সরকার ছিল। দেশে বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে যতটুকু রাজনীতি গড়ে উঠেছিল, গণতান্ত্রিক ভিত্তি ধীরে ধীরে গড়ে উঠছিল, আমরা দেখেছি সে সরকার কীভাবে সবকিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে চেয়েছিল; বিরাজনীতিকরণ করতে চেয়েছিল। দেশকে একটি অন্ধকার দিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। পরবর্তী সময়ে খুব সম্ভবত তাদেরই ভিন্ন আরেকটি রূপ; অন্যভাবে দেখেছি আমরা ‘ইন দ্য নেম অব ডেমোক্রেসি’।

২০০৪ সালে আমি আপনার একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম ঢাকায়। সে সময় আপনি বলেছিলেন যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি পরিবর্তন আনার চেষ্টা করবেন। বিএনপির রাজনীতিতে আসলে কতটা পরিবর্তন হয়েছে; ভবিষ্যৎ বিএনপিইবা কেমন হবে?

আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হচ্ছে, জনগণ, দেশ ও দেশের সার্বভৌমত্ব। আমরা দুটো বিষয় নিয়ে বাংলাদেশে খুবই গর্ব করি, অহংকার করি। একটি হচ্ছে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প, আরেকটি হলো প্রবাসীরা দিন-রাত পরিশ্রম করে যে কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠান—এ দুটোই কিন্তু বিএনপি শুরু করেছিল।

আমরা দেখেছি, বিএনপির সময় শুরু হয়েছিল প্রবাসীদের বিদেশ যাওয়া। একই সঙ্গে গার্মেন্ট শিল্পের প্রসার। এর বাইরে ১৯৭৪ সালে যে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন, আমরা দেখেছি কীভাবে ধীরে ধীরে দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলেন। শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণ না, অল্প পরিমাণ করে হলেও আমরা সেসময় বিদেশে খাদ্য, চাল রফতানি করেছিলাম।

আর রাজনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে যদি আমরা দেখি, একসময় সব দলকে নিষিদ্ধ করে একটি দল বাকশাল করা হয়েছিল। আমরা দেখেছি যে বিএনপির কাঁধে যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পড়ে, তখন কীভাবে বহুদলীয় গণতন্ত্র আবার চালু করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে এ বিষয়গুলো কনসিডারেশন (বিবেচনায়) রেখেই আমরা সামনে এগিয়ে যাব। আমাদের অন্যতম মূল লক্ষ্য হবে ভবিষ্যৎ বিএনপির গণতন্ত্রের যে বুনিয়াদ, সেটি আরো শক্তিশালী করা। জবাবদিহিতা তৈরি করা।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা অভিযোগ সবসময় থাকে, যখন যারা চেয়ারে বসে জবাবদিহিতার প্রশ্নটা তখন থাকে না, মানে এড়িয়ে যায়।

অভিযোগ থাকতেই পারে। আমি আগেই বলেছি, একটি বিষয়ে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন রকম অভিযোগ থাকতে পারে। এখন অভিযোগ নিয়ে তো আর বলা যাবে না। কিন্তু অভিযোগটা কনসিডারেশনে (বিবেচনায়) অবশ্যই রাখব।

জবাবদিহিতার কথা বলছিলেন। এ প্রসঙ্গে বলি, গত ১৫ বছর নির্বাসনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেয়া, এটা একটা ভিন্ন পরিস্থিতি। নেতৃত্ব নিয়ে আপনার চিন্তাধারায় কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে? আপনি কী অনুভব করেন, অনুধাবন করেন?

গত ১৭ বছর প্রবাস জীবনে আছি। বাংলাদেশের সঙ্গে ৫-৬ ঘণ্টা সময়ের ব্যবধান আছে। ফলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়েছে। এটি একটি বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এক্ষেত্রে প্রথমেই আমি আমার পরিবার অর্থাৎ আমার স্ত্রী এবং আমার সন্তানকে ধন্যবাদ দিতে চাই। কারণ তাদের সহযোগিতা না থাকলে হয়তো এ কঠিন কাজ করা আমার জন্য আরো ডিফিকাল্ট হতো। তাদের সহযোগিতা ছিল সেজন্য আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে আমি আবারো ধন্যবাদ দিতে চাই আমার হাজারো-লাখো নেতাকর্মীকে। যারা এ ডিফিকাল্টিজের মধ্যে থেকেও আমাকে সহযোগিতা করেছেন, দলকে সুসংগঠিত রাখতে, দলকে রাজপথে নিয়ে যেতে শত অত্যাচার বাধাবিঘ্নর মাঝেও জনগণের কথা তুলে ধরতে, জনগণের দাবির ব্যাপারে সোচ্চার থাকতে। আপনি জিজ্ঞেস করেছেন যে এখান (যুক্তরাজ্য) থেকে কী কী দেখেছি, শিখেছি বা জেনেছি। আমি মনে করি যে এ দেশে (যুক্তরাজ্য) থেকে দেখেছি বা শিখেছি দেশের নাগরিক এবং একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে হয়তো আমার একটি সুযোগ আছে দেশের জন্য ভালো কিছু করার।

কূটনীতির প্রসঙ্গে আসি, বিএনপি যদি সরকার গঠন করে তবে কূটনীতির ক্ষেত্রে বিএনপির মূলনীতি কী হবে?

বিএনপির মূলনীতি একটাই—সবার আগে বাংলাদেশ। কূটনীতির ক্ষেত্রে বিএনপির নীতি সবার আগে বাংলাদেশ। আমার জনগণ, আমার দেশ, আমার সার্বভৌমত্ব। এটিকে অক্ষুণ্ন রেখে, দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে, এ স্বার্থকে অটুট রেখে বাকি সবকিছু।

এটাকে বৈশ্বিক রাজনীতির একটা প্রভাব বলা যায়? কারণ আপনি যদি বিভিন্ন দেশে দেখেন, এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্পও আমেরিকা ফার্স্ট একটা স্লোগান দিয়ে এসেছিলেন?

না, তাদেরটা তারা বলেছে, আমি ভাই বাংলাদেশী। আমার কাছে বাংলাদেশের স্বার্থ বড়, আমার কাছে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ বড়। কাজেই কে কি বলল—সবার আগে বাংলাদেশ, সিম্পল, কমপ্লিকেট (জটিল) করার কিছু নাই। এটা সিম্পল ব্যাপার।

বিগত সরকারের সময় বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে যেই সম্পর্ক ছিল, সেটা নিয়ে অনেক সমালোচনা রয়েছে। তো ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে আপনাদের নীতি কী হবে?

আমার মনে হয়, আপনি একটু আগে যে প্রশ্নগুলো করেছেন, সেখানে বোধহয় আমি ক্লিয়ার করেছি পুরো ব্যাপারটা। সবার আগে বাংলাদেশ। এখানে ওই দেশ বা অন্য দেশ তো বিষয় না। বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশ আমার কাছে আমার স্বার্থ। আমি আগে আমার দেশের মানুষের স্বার্থ দেখব, আমার দেশের স্বার্থ দেখব। ওটাকে আমি রেখে আপহোল্ড করে আমি যা যা করতে পারব, আমি তাই করব।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত বা কেমন থাকা প্রয়োজন—এ নিয়ে আপনার চিন্তা কী?

অবশ্যই আমি আমার পানির হিস্যা চাই। অবশ্যই আমি দেখতে চাই না যে, আরেক ফেলানী ঝুলে আছে। অবশ্যই আমরা এটা মেনে নেব না।

বাংলাদেশের স্বার্থের প্রসঙ্গে আপনি বলছেন যে পানির হিস্যা চাওয়া এবং সীমান্ত হত্যার বিষয়টি নিয়ে আপনারা সোচ্চার থাকবেন?

না না, আমি উদাহরণ দিয়ে বললাম। দুটো উদাহরণ দিয়ে বোঝালাম আপনাকে যে আমাদের স্ট্যান্ডটা কী হবে। আমরা আমাদের পানির হিস্যা চাই। অর্থাৎ আমার দেশের হিস্যা, মানুষের হিস্যা আমি চাই, হিসাব আমি চাই।

আমার যেটা ন্যায্য সেটা আমি চাই। অবশ্যই ফেলানী হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আমি বোঝাতে চেয়েছি যে আমার মানুষের ওপর আঘাত এলে অবশ্যই সেই আঘাতকে এভাবে আমি মেনে নেব না।

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর শেখ হাসিনা দিল্লিতে গেছেন এবং সেখানে আছেন। এক বছর ধরে ভারতের সঙ্গে একটা সম্পর্কের শীতলতা দেখা গেছে, যেমন যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে, ব্যবসার ক্ষেত্রে। আপনারা সরকারে এলে কোন পরিবর্তনের ব্যাপারে উদ্যোগ নেবেন, এমন কোনো চিন্তা কি আপনাদের আছে?

এখন তারা যদি স্বৈরাচারকে সেখানে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের বিরাগভাজন হয়, সেখানে তো আমাদের কিছু করার নেই। এটা বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তাদের সঙ্গে শীতল থাকবে। আর আমাকে আমার দেশের মানুষের সঙ্গে থাকতে হবে।

সংস্কারের প্রশ্নে আসি। সংস্কারের কিছু বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের কিছুটা মতপার্থক্য বা মতবিরোধ হচ্ছে। যেমন এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা বা দলের প্রধান থাকতে পারবেন না, এরকম একটা প্রস্তাব এসেছে। যেখানে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। যদি এক ব্যক্তি তিন পদে একই সঙ্গে থাকেন, সেটা স্বৈরতান্ত্রিক একটা ব্যবস্থা তৈরির সুযোগ দেয় কিনা?

সবার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, বাংলাদেশ রাষ্ট্র মেরামতের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কার প্রয়োজন। একজন ব্যক্তি দুবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না, থাকবেন না। এরকম আরো যে বিষয়গুলো আছে, এগুলো বাংলাদেশে যখন স্বৈরাচার ছিল তাদের মুখের উপরে, তাদের চোখের দিকে চোখ রেখে আমরা বিএনপিই বলেছিলাম।

এখন হয়তো অনেকে সংস্কারের কথা বলছেন। সেদিন কিন্তু সংস্কারের ‘‌স’-ও তারা বলেননি। তার পরেও সবার প্রতি পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে আমি বলতে চাই যে, বিএনপি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিলে সেটি সমস্যা, অর্থাৎ বিএনপিকে এগ্রি (সম্মত) করতে হবে সবার সঙ্গে, তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু বিএনপি যদি কোনোটার সঙ্গে একমত না হয়, তাহলে বেঠিক। এটি তো গণতন্ত্র হলো না।

আমাকে অন্যের সঙ্গে একমত হতে হবে, তাহলে গণতন্ত্র। আমি যদি অন্যের সঙ্গে দ্বিমত করি, তাহলে গণতন্ত্র না। এটি কেমন গণতন্ত্র? কারণ গণতন্ত্রের মানেই তো হচ্ছে, বিভিন্ন মতামত থাকবে। আমরা অনেক ব্যাপারেই একমত হব হয়তো। সব ব্যাপারে একমত হব না, কিছু ব্যাপারে হয়তো দ্বিমত থাকতেই পারে, এটাই তো গণতন্ত্র, এটাই তো এসেন্স অব গণতন্ত্র। আমরা তো কোনো লুকোচুরি করছি না। আমি যেটা মনে করছি যে ভাই আমি মনে করছি যেটা আমার দৃষ্টিতে ঠিক না, আমি বলছি ঠিক না।

কিন্তু দুই বছর আগে ২০২৩ সালে আপনারা ৩১ দফা দিয়েছেন। সেই ৩১ দফাতেই আপনারা সংস্কারের যেসব বিষয় এনেছেন, সেখানে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনার কথা বলেছেন। তাহলে এ বিষয়গুলোয়ে আপত্তি কেন?

না, আমরা যেটা বলেছিলাম, আমরা সেখানে এখনো আছি। যতটুকু ভারসাম্য হওয়া উচিত, যে যে বিষয়ে যতটুকু বিবেচনা করা উচিত, আমরা সে বিষয়ের মধ্যে এখনো কমবেশি আছি। আমাদের অবস্থান থেকে তো আমরা পরিবর্তন করিনি।

এক ব্যক্তির তিন পদে একসঙ্গে থাকা সেখানেই তো আপত্তিটা থাকছে বিএনপির?

না, আমরা তো তখনো বলিনি যে এক ব্যক্তি তিন পদে থাকতে পারবে না। এটা অন্য কেউ বলেছে যে এক ব্যক্তি তিন পদে থাকতে পারবে না। আমরা মনে করি না যে এটাতে স্বৈরাচারী হওয়ার কোনো কারণ আছে। আমরা তো দেখেছি স্বৈরাচারের সময়ও এবং তার আগে তো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু তাদের টু থার্ড মেজরিটি ছিল। টু থার্ড মেজরিটি ২০০৮ সালে তারা নিয়েছিল। তারা ওটাকে পরিবর্তন করে ফেলেছে। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা রাখেনি।

২০০১ সালে বিএনপিরও টু থার্ড মেজরিটি ছিল, বিএনপি তো পরিবর্তন করেনি। যেহেতু জনগণ মনে করে যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকলে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে; বিএনপি টু থার্ড মেজরিটি থাকার পরও তো বিএনপি চেঞ্জ করেনি। কাজেই এক ব্যক্তির হাতে থাকলেই যে স্বৈরাচর হবে তা নয়। এটি নির্ভর করে ব্যক্তি টু ব্যক্তি, শুধু আইন চেঞ্জ করলেই সবকিছু সঠিক হয়ে যাবে না।

সংস্কারের যে বিষয়গুলো নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো নিয়ে একটা জুলাই সনদ প্রণয়নের কথা। সেটা বাস্তবায়নের পথ নিয়ে দলগুলোর মধ্যে একটা বিতর্ক আছে। অনেক দল বলছে যে নির্বাচনের আগেই আইনি ভিত্তি দেয়া বা বাস্তবায়ন করা। আর বিএনপি বলছে, নির্বাচিত সংসদ সেটা করবে। এ জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার উপায়টা কী?

এখানে আবার আমাকে বলতে হচ্ছে, আমরা কিন্তু কোনো লুকোচুরি করছি না। যদি আমাদের সে রকম অসৎ উদ্দেশ্য থাকত মনের ভেতরে, বলতাম ঠিক আছে, অসুবিধা নাই। তারপর ইনশা আল্লাহ আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমরা হয়তো করতাম না। কিন্তু আমরা যেটা মনে করছি আমরা সেটাই বলছি।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্বাচিত প্রতিনিধি যারা আসবে, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধি যারা আসবে, তারা সেগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। তার পরও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট সবকিছু বিবেচনা করে রাজনৈতিক দলগুলো বসেছে, অন্তর্বর্তী সরকার আহ্বান করেছে। আমরা বলেছি, যেগুলো শুধু আইন দিয়ে করলে হয়ে যায়, সেগুলো হয়ে যাক। যেগুলোর সাংবিধানিক এনডোর্সমেন্ট লাগবে, সেগুলো আমরা মনে করি যে, নির্বাচিত সংসদ হওয়ার পর সেখানে গ্রহণ করাটাই ভালো হবে।

কারণ আপনি যদি নির্বাচিত সংসদের কথা বলেন, অথচ তাকে বাদ দিয়ে যদি আউট অব দ্য বক্স কিছু করেন এবং এটা যদি রেওয়াজ হয়ে যায়, তাহলে এটা ভবিষ্যতের জন্য এটা একটি খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে বা সরকার গঠন করে, তখন ৩১ দফা নাকি জুলাই সনদ কোনটা অগ্রাধিকার পাবে?

আমরা যেগুলোয় একমত হয়েছি, প্রথমে সেগুলোর ওপরই জোর দেব। ৩১ দফা জনগণের প্রতি আমাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। ৩১ দফার মধ্যে যেগুলো জুলাই সনদের সঙ্গে মিলে গিয়েছে, সেগুলো আমরা করবই। এর বাইরে যেগুলো থাকবে, ৩১ দফায় আছে, সেগুলোও বাস্তবায়ন করব। দুটোই আমাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। জুলাই সনদের কথা আমরা রাজনৈতিক দলগুলো মিলে একত্রিত হয়ে বলেছি। আবার অনেকগুলো রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়েই ৩১ দফা দিয়েছি।

রাজনীতি থেকে একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে যাই। আপনাকে সম্প্রতি প্রাণী অধিকার রক্ষা নিয়ে বেশ সোচ্চার দেখা গেছে। এ-সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে আপনি যোগ দিয়েছেন। রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের বাইরে আপনার পোষা বিড়ালের সঙ্গে আপনার নিয়মিত ছবি দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এটা আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল কীভাবে?

বিড়ালটি আমার মেয়ের। সে বিড়াল এখন অবশ্য সবারই হয়ে গিয়েছে। আমরা সবাই ওকে আদর করি। শুধু বিড়াল নয়, আমি ও আমার ভাই যখন ছোট ছিলাম, আমাদের একটি ছোট কুকুরও ছিল। এমনকি তখন আমাদের বাসায় আম্মা হাঁস-মুরগি পালতেন। ছাগলও ছিল আমাদের বাসায়। কবুতরও ছিল আমাদের বাসায়। একটি বিরাট বড় খাঁচা ছিল, যার মধ্যে বিভিন্ন রকমের পাখি ছিল। আবার আরেকটি খাঁচায় ময়না ছিল। ময়নাটা আমরা বরিশাল থেকে এনেছিলাম। সে আবার বরিশালী ভাষায় কথাও বলত। তাই যেই দৃষ্টিকোণ থেকেই বলেন না কেন, পশুপ্রেম বিষয়টি হঠাৎ কিছু না। পশুপাখির সঙ্গে কমবেশি ছোটবেলা থেকে জড়িত। হয়তো এটি এখন প্রকাশ পেয়েছে বিভিন্নভাবে।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যদি আমরা চিন্তা করি, আমাদের আল্লাহ সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে তৈরি করেছেন। আমাদের দায়িত্ব আল্লাহর সৃষ্টি যা কিছু আছে, তার প্রতি যত্ন নেয়া। আর আমরা যদি মানবিক দৃষ্টিকোণ অথবা প্রকৃতি বিচারে বিষয়টি দেখি, পশুপাখি না থাকলে আমাদের জন্য বেঁচে থাকা কষ্টকর। এ আলোচনা (সাক্ষাৎকার) শুরু হওয়ার আগে আমরা তিনজন ইংল্যান্ডের আবহাওয়া নিয়ে কথা বলছিলাম। এখানে আমার ১৭ বছরের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, আবহাওয়াটা কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশে পত্রপত্রিকায় দেখেছি ঢাকা শহরে দূষণ। একটি দেশে অন্তত ২৫ শতাংশ সবুজ থাকা দরকার, বনায়ন দরকার। আমি যতটুকু জেনেছি, বাংলাদেশে সবুজের পরিমাণ ১২ শতাংশের আশপাশে। এটা মারাত্মক ঝুঁকির বিষয়। আমরা কাজ করছি কীভাবে সবুজের পরিমাণ বাড়াব। একই সঙ্গে পশুপাখিও প্রকৃতির অংশ। প্রকৃতি যদি ঠিক রাখতে না পারি, সেখানে মানুষ হিসেবে আমাদের বসবাস করা খুব কঠিন হয়ে যাবে। কাজেই আমাদের নিজেদের স্বার্থেই প্রকৃতি রক্ষার কাজগুলো বোধহয় করা প্রয়োজন।

রাজনীতিতে যেমন আপনাকে নিয়ে অনেক আলোচনা আছে, স্বাভাবিকভাবেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আপনাকে নিয়ে অনেক আলোচনা আছে। আপনাকে নিয়ে অনেক মিম ও কার্টুন করা হয়। এগুলো আপনি কীভাবে দেখেন?

আমি উপভোগ করি, বেশ উপভোগ করি।

আপনি দেখেন এগুলো? আপনার চোখে পড়ে?

হ্যাঁ, চোখে পড়বে না কেন! অবশ্যই চোখে পড়ে। তবে সোশ্যাল মিডিয়া (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম) নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। মানুষের বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতায় আমরা বিশ্বাস করি। প্রত্যেক মানুষের অধিকার আছে তার মতামত প্রকাশ করার। তবে সবাই এতটুকু সচেতন হই যে আমি আমার মতপ্রকাশ করলাম, কিন্তু এ মতপ্রকাশের ফলে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলো কিনা? বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় রাখা উচিত।

দ্বিতীয়ত, সোশ্যাল মিডিয়ার বহুল ব্যবহারের ফলে ডিসইনফরমেশন বা মিসইনফরমেশনের বিষয়টিও চলে এসেছে সামনে। একটি বিষয় দেখলাম বা শুনলাম, সঙ্গে সঙ্গেই আমি সেটিতে ঝাঁপিয়ে পড়লাম—তা না করে আমার মনে হয়, ফ্যাক্ট চেকের ব্যাপারেও সচেতন থাকা প্রয়োজন।

যদি কোনো ঘটনা সত্য হয়, অবশ্যই আমার সেখানে মতামত থাকবে, কিন্তু যদি মিথ্যা হয় বিষয়টি, কেন আমি তা নিয়ে মতামত দেব? একটা মিথ্যার সঙ্গে আমি কেন নিজেকে সংশ্লিষ্ট করব। একটা খারাপ কিছুর সঙ্গে কেন আমি নিজেকে সংশ্লিষ্ট করব?

আমরা প্রায় শেষ দিকে চলে এসেছি। গত বছরের ৫ আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বিএনপির পক্ষ থেকে যেসব বক্তব্য বা প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হবে—এ প্রশ্নে মানুষকে কীভাবে আস্থায় নেবেন?

স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে। আপনাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে আমি কিছু কিছু বলেছি। এ মুহূর্তে মাঠে যেই রাজনৈতিক দলগুলো আছে, আমরা ধরে নিতে পারি সেই রাজনৈতিক দলগুলো আগামীতে দেশ পরিচালনা করতে পারে। তার মধ্যে কেবল বিএনপির দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে।

আপনাকে যদি বলি, ধরেন এখন লন্ডন আসবেন। তো আপনি একটা প্লেনে উঠলেন। প্লেন চালক যদি আপনাকে বলে যে ভাই কিছু মনে করেন না, আমার লাইসেন্সটা হয়নি এখনো, তবে আমার মনে হয় আমি চেষ্টা করলে আপনাকে নিয়ে যেতে পারব লন্ডন পর্যন্ত। আপনি কি তার সঙ্গে উঠবেন প্লেনে? নিশ্চয়ই আপনি উঠবেন না।

আপনি একজন অভিজ্ঞ ড্রাইভারের সঙ্গে উঠতে পারেন। কিন্তু অভিজ্ঞ ড্রাইভারও গাড়ি হয়তো ঠিকই নিরাপদে চালাচ্ছে, কিন্তু রাস্তায় গর্ত, খানাখন্দ থাকবেই, একটু জার্কিং হতেই পারে। জোরে অনেক সময় ব্রেক কষতে হতে পারে, ঝাকুনি লাগতেই পারে। কিন্তু অভিজ্ঞ ড্রাইভার আপনাকে মোটামুটি ঠিকভাবে নিয়ে যাবে। নিয়ে যাওয়ার সর্বোচ্চ সে চেষ্টা করবে। কারণ তার সেই অভিজ্ঞতা আছে। কাজেই আমরা যদি দেখি যে, ভালো কাজ আমরা তো করেছি। হতে পারে আমাদের দ্বারা কিছু ভুল-ত্রুটি হয়েছে।

মানুষ অতীত থেকেই শিখে। আমরাও দেখেছি, আমরাও অতীত থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি যে একটি কাজ এভাবে করলে হয়তো ভুল হয়, এটি আমরা ভবিষ্যতে করব না। কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতা আছে, অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা ভালো-মন্দর যাচাই আমরা করতে পারব। একই সঙ্গে আমাদের প্রতিশ্রুতি আছে যে আমরা প্রতিশ্রুতি রাখতে পারব।

শেষ প্রশ্নটি করি তাহলে আপনাকে এবং ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়েই। বিগত সরকারের আমলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নিয়ে বড় সমালোচনা ছিল। আপনারা যদি ক্ষমতায় আসেন সেক্ষেত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদ বা সংবাদমাধ্যমের ওপর দমন-পীড়নের বিষয়গুলো যে আর হবে না, সেই নিশ্চয়তা কি আপনি দিতে পারেন?

হ্যাঁ, একদম দিতে পারি। আপনি ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত পত্রপত্রিকা খুলুন। আমি কারো নাম উল্লেখ করব না, কোনো পত্রিকার কথা উল্লেখ করব না। শুধু খুলে দেখুন কীভাবে অনেক খবর ছাপা হয়েছিল। যার সত্যতা কিন্তু ছিল না, অপপ্রচার ছিল। কিন্তু অপপ্রচারটা সংবাদ হিসেবে চালিয়ে দেয়া হয়েছিল।

বিগত স্বৈরশাসকের সময় বহু সাংবাদিককে বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন করে বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি প্রদর্শন—ধমক দেয়া হতো। বিএনপির সময় এগুলো করা হয়নি। তৎকালীন বিএনপি সরকার সম্পর্কে, আমার সম্পর্কে যে খবরগুলো প্রকাশ হয়েছে, বিএনপির সময় যদি অত্যাচার-নির্যাতন থাকত তাহলে খবরগুলো প্রকাশ হতো না স্বাভাবিকভাবে। কাজেই আপনাকে আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, বিএনপির অতীত সরকারের সময় যেরকম সাংবাদিকদের গুম করা হয়নি, নির্যাতন করা হয়নি, সাংবাদিকদের দেশ ছেড়ে যেতে হয়নি, বাধ্য হতে হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না।

তাহলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমাবদ্ধ করে—এ ধরনের যে আইনগুলো রয়েছে, সেগুলো আপনারা বাতিল করবেন, এটা কি ধরে নেয়া যায়?

অবশ্যই, আমরা সবাই মিলে বসব, আলোচনা করব। আপনাদের মতো সাংবাদিকসহ যারা আছেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। আলোচনা করে কালো আইন যা যা আছে, ধীরে ধীরে সংশোধন করব। তবে এখানে বোধহয় একটি বিষয় আবার আমাকে উল্লেখ করতে হয়—যেটি আমি সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষেত্রে বলেছি। দেখুন, এটা তো সবাইকে মিলে করতে হবে। অপপ্রচারকে অবশ্যই সংবাদ হিসেবে প্রচার করা ঠিক নয়, তাই না?

ভবিষ্যৎ সরকারের কাছে আপনাদের যে রকম চাওয়া থাকবে, রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমাদেরও অনুরোধ থাকবে আপনাদের প্রতি যে অপপ্রচার সংবাদ হিসেবে যেন প্রচার না হয়। বিষয়গুলোর প্রতি সবাইকে সচেতন বা খেয়াল রাখতে হবে।

তারেক রহমান আপনাকে অনেক ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার সঙ্গে কথা বলার জন্য।

আপনাদেরও অনেক ধন্যবাদ। আপনাদের প্লাটফর্মের মাধ্যমে আমার কথাগুলো দেশের মানুষের সামনে আমি তুলে ধরতে পেরেছি। সেই সুযোগটুকু আপনারা করে দিয়েছেন, তার জন্য আপনাদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *