
আমরা পানির হিস্যা চাই সীমান্তে আর ফেলানীর ঝুলে থাকার দৃশ্য দেখতে চাই না
অক্টোবর ৮, ২০২৫
যমুনায় ৩০০ মিটারের মধ্যে দুই সেতু, কাছাকাছি দূরত্বে আরো একটি নির্মাণের উদ্যোগ
অক্টোবর ৮, ২০২৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে জীবনের শেষ সুযোগ হিসেবে নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, ‘এ শেষ সুযোগ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে জীবনের শেষ সুযোগ হিসেবে নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, ‘এ শেষ সুযোগ। জাতিকে সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে চাই। এখন আমার জীবনে আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। ভোটের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই আমার ও পুরো কমিশনের একমাত্র লক্ষ্য। সবার অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার জন্য আমরা সম্পূর্ণভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।’
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে গতকাল ধারাবাহিক সংলাপে নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংলাপে সিইসি এ কথা বলেন। সংলাপে অন্য চার নির্বাচন কমিশনারসহ ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রায় ২৫ লাখ নতুন ভোটার তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বাদ দেয়া হয়েছে প্রায় ২১ লাখ মৃত ও ভুয়া ভোটারকে।’ এছাড়া পুরুষের তুলনায় প্রায় ৩০ লাখ নারী ভোটার কম ছিল, সেটিও কিছুটা কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে সুশীল সমাজের বিজ্ঞজনদের সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেয়েছি। তবে এবার আমরা এমন পেশাজীবীদের সঙ্গে কথা বলছি, যাদের সরাসরি মাঠপর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। যারা ফিল্ডে নির্বাচন কমিশনের হয়ে জাতীয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সুতরাং তারাই বোঝেন বাস্তব পরিস্থিতি কীভাবে পরিচালনা করতে হয়। তারা জানেন কোথায় কোথায় গ্যাপ বা দুর্বলতা থাকে, কোথায় উন্নতির সুযোগ আছে এবং কোথায় কারচুপি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বাস্তব ও মূল্যবান মতামত দিতে পারবেন, যা একটি ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
আগামী নির্বাচনে নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত কর্মকর্তারা কোনো দলের পক্ষে কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিইসি। তিনি বলেন, ‘এখনকার মেসেজ আর আগের মেসেজ ভিন্ন। আগের মেসেজ ছিল যে আমার পক্ষে কাজ না করলে আপনার বিরুদ্ধে অ্যাকশন হবে। আর এখন হলো যে কারো পক্ষে কাজ করলে অ্যাকশন হবে। কারণ, এখন মেসেজ ইজ টু ভেরি ক্লিয়ার। এ মেসেজ আমরা একাধিকবার দিয়েছি, আরো দিতে থাকব।’
নির্বাচন কমিশনের বাইরের জনবল নিয়োগ প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের চিন্তা থাকে, কোন দল ক্ষমতায় আসছে। পরে আবার মুশকিল হয় কিনা। বেসরকারি কর্মকর্তাদের এ চিন্তা থাকে না। এ কারণে নির্বাচন পরিচালনার বিভিন্ন পদে বেসরকারি ব্যাংক থেকে নেয়ার চিন্তা রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে রাজনৈতিক-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি সমাধান করা হবে।’
সংলাপে নির্বাচন কমিশনের সাবেক কর্মকর্তা ও একজন নির্বাচন পর্যবেক্ষক অংশ নেন। এতে সন্ত্রাসের বিষয়ে সতর্ক থাকা, ইসির ওপর রাজনৈতিক দল ও জনগণের আস্থা সৃষ্টি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য মোকাবেলা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, অবৈধ অর্থের ব্যবহার রোধ, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, পর্যবেক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, আচরণবিধি বাস্তবায়ন ও প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট বিতর্কমুক্ত রাখার ব্যবস্থা নেয়াসহ নানা পরামর্শ উঠে আসে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চার নির্বাচন কমিশনার—ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, বেগম তাহমিদা আহমদ, আব্দুর রহমানেল মাছউদ ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। আরো উপস্থিত ছিলেন ইসির সাবেক সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব খন্দকার মিজানুর রহমান, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব মো. নূরুজ্জামান তালুকদার, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাবেক উপসচিব মিহির সরওয়ার মোর্শেদ, সাবেক আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা (ঢাকা) শাহ আলম, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী, সাবেক আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও ফেমার প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাবেক উপসচিব মিছবাহ উদ্দিন, সাবেক আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মীর মো. শাহজাহান।


