সাজেকে দুই আঞ্চলিক দলের গোলাগুলি, শিশু গুলিবিদ্ধ
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
দক্ষিণ কোরিয়া সফরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সিউলের সঙ্গে বাণিজ্য-বিনিয়োগে নতুন অংশীদারত্বের সূচনা চায় ঢাকা
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
সাজেকে দুই আঞ্চলিক দলের গোলাগুলি, শিশু গুলিবিদ্ধ
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
দক্ষিণ কোরিয়া সফরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সিউলের সঙ্গে বাণিজ্য-বিনিয়োগে নতুন অংশীদারত্বের সূচনা চায় ঢাকা
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬

ঢাকায় মনোরেলের রুট নির্ধারণে সমীক্ষা শুরু করছে বুয়েট

সমীক্ষার পরিধি এ পাঁচ রুটেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ঢাকার গণপরিবহন নেটওয়ার্ক, জনবসতির বিস্তার, যাত্রী চলাচলের ধরন এবং বিদ্যমান ও নির্মাণাধীন গণপরিবহন অবকাঠামোর সঙ্গে সংযোগ বিবেচনায় নিয়ে অন্য করিডোরের সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হবে। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য আটটি করিডোর পর্যালোচনার পর দুটি অগ্রাধিকার রুট নির্বাচন করা হবে।
ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় মেট্রোরেল ও বাস র‍্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) পাশাপাশি মনোরেল যুক্ত করার সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। এ লক্ষ্যে গতকাল ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সঙ্গে ছয় মাসের একটি সমীক্ষা চুক্তি করেছে বুয়েটের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। ঢাকার পাঁচটি প্রস্তাবিত রুটের পাশাপাশি সমীক্ষায় সম্ভাব্য আরো কয়েকটি করিডোরও যাচাই করা হবে। এগুলোর মধ্য থেকে দুটি অগ্রাধিকার করিডোর চিহ্নিত করার কথা রয়েছে।
ডিটিসিএ ও বুয়েটের মধ্যে গতকাল ‘ঢাকা মহানগর এলাকায় গণপরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে মনোরেল রুটের সমন্বয় বিষয়ে প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা’ শীর্ষক চুক্তি হয়। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এ সমীক্ষার ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। শুধু মনোরেলের রুট নির্ধারণ নয়, বিদ্যমান ও পরিকল্পনাধীন মেট্রোরেল এবং বিআরটির সঙ্গে কীভাবে এর সংযোগ তৈরি করা যায়, সে বিষয়টিও সমীক্ষায় খতিয়ে দেখা হবে।
ডিটিসিএ সূত্রে জানা গেছে, নগর ও অঞ্চল পরিবহন কৌশলগত পরিকল্পনায় (ইউআরএসটিপি) মনোরেলের জন্য পাঁচটি সম্ভাব্য রুট প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো হলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জলসিঁড়ি (পূর্বাচল), বিমানবন্দর থেকে সাভার, মোহাম্মদপুর থেকে পোস্তগোলা, মধ্য বাড্ডা থেকে ভুলতা এবং রামপুরা থেকে ডেমরা। এসব প্রস্তাবিত করিডোরের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার।
সমীক্ষার পরিধি এ পাঁচ রুটেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ঢাকার গণপরিবহন নেটওয়ার্ক, জনবসতির বিস্তার, যাত্রী চলাচলের ধরন এবং বিদ্যমান ও নির্মাণাধীন গণপরিবহন অবকাঠামোর সঙ্গে সংযোগ বিবেচনায় নিয়ে অন্য করিডোরের সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হবে। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য আটটি করিডোর পর্যালোচনার পর দুটি অগ্রাধিকার রুট নির্বাচন করা হবে।
রুট নির্বাচনে এর সম্ভাব্য সড়কপথ ও অবস্থান, স্টেশন, ডিপো এবং অন্যান্য অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করা হবে। একই সঙ্গে এসব রুটে ভবিষ্যতে কত যাত্রী চলাচল করতে পারে, কোন এলাকায় স্টেশন প্রয়োজন এবং মেট্রোরেল বা বিআরটির সঙ্গে কোথায় সংযোগ স্থাপন করা যায়—সমীক্ষায় এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেয়া হবে।
এছাড়া প্রস্তাবিত মনোরেল ব্যবস্থা নির্মাণের জন্য কারিগরি ও কাঠামোগত উপযোগিতা যাচাই করা হবে। ভূমির ব্যবহার, পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতাও সমীক্ষার আওতায় থাকবে। অর্থাৎ শুধু রুট নির্ধারণ নয়, সম্ভাব্য মনোরেল ব্যবস্থা বাস্তবায়নযোগ্য কিনা, সে বিষয়ে প্রাথমিক চিত্র পাওয়ার চেষ্টা করা হবে।
ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে মেট্রোরেলের একাধিক লাইন বাস্তবায়নাধীন, কোনোটি পরিকল্পনাধীন। পাশাপাশি বিআরটি ও অন্যান্য গণপরিবহন অবকাঠামোও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে নতুন কোনো ব্যবস্থা যুক্ত করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান নেটওয়ার্কের সঙ্গে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ডিটিসিএর এ সমীক্ষায় মনোরেলকে আলাদা একটি পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে না দেখে বিদ্যমান গণপরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত করা যায়, সে বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
দুটি অগ্রাধিকার করিডোর চিহ্নিত হলে পরবর্তী সময়ে সেসব রুটের বিস্তারিত সম্ভাব্যতা, প্রকল্প ব্যয় ও বাস্তবায়ন কাঠামো নির্ধারণে কাজ করা হবে। ফলে বর্তমান এ সমীক্ষাকে ঢাকায় মনোরেল চালুর আগের প্রাথমিক পরিকল্পনা ও যাচাইয়ের ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *