
টেকনাফে মানবপাচারের চেষ্টা, ১৭ জনকে উদ্ধার করল এসআরবি
সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে সর্বোচ্চ রোগী ভর্তি
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬মাহ্দী আমিন বলেন, নিউইয়র্কে চার কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সংশ্লিষ্ট ৮টি ও ১১টি প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচি। এছাড়া তিনি ও তার সফরসঙ্গীরা সম্মিলিতভাবে প্রায় ৮০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে উপলক্ষে পাঁচ দিনের নিউইয়র্ক সফরে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও অগ্রাধিকারগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রোববার প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে চার কর্ম দিবসের এ সফরে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে দেশের স্বার্থ ও সম্ভাবনাগুলো দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছেন এবং তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা সমুন্নত রেখেছেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, নিউইয়র্কে চার কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সংশ্লিষ্ট ৮টি ও ১১টি প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচি। এছাড়া তিনি ও তার সফরসঙ্গীরা সম্মিলিতভাবে প্রায় ৮০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এসব কর্মসূচিতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রফতানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে বলে জানা মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, জাতিসংঘে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও সফল এ সফরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে দেশকে উচ্চতর অবস্থানে নিয়ে গেছেন।
মাহ্দী বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণটি ছিল সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং তরুণ ও নারীদের মতো সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জন্য সরকারের গৃহীত নীতি, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি এগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তি, ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন বলে জানান মাহ্দী আমিন। পাশাপাশি প্রধঘানমন্ত্রী একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও জনকল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার বিষয়ে সরকারের রূপকল্পও উপস্থাপন করেন। সাধারণ বিতর্কে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু মোকাবেলা, ন্যায়সঙ্গত উত্তরণ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য ও ধাত্রীসেবাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তি ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন। তিনি কেবল বাংলাদেশের কথা বলেননি, তিনি বিশ্বশান্তির কথাও বলেছেন। ফিলিস্তিনে আমরা কীভাবে শান্তি দেখতে চাই, সে বিষয়েও তিনি কথা বলেছেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সময় সভাকক্ষ থেকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের বেরিয়ে আসার (ওয়াকআউট) মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে সমর্থনেরও আশ্বাস পেয়েছে।
তারা সবাই বাংলাদেশের পাশে থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছে।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ অনেক বছর পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আমরা দেখেছি বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানগণ প্রধানমন্ত্রীকে কতটা উষ্ণভাবে স্বাগত জানিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, সফরকালে উপস্থাপিত নীতি, কর্মসূচি ও পরিকল্পনাগুলোকে এখন বাস্তবায়নের পথে নেয়ার জন্য সরকার কাজ করবে।
তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত করতে চাই প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশকে স্বনির্ভর ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে কাজ করব।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে অনেক সফলতা রয়েছে। এ সফর দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনেরও প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
তিনি বলেন, অতীতে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড় করার যে রেওয়াজ ছিল, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের জমায়েত সমর্থন বা উৎসাহিত করেননি।


